ঢাকা ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-ইসরায়েল ৪৫ দিনের যু’দ্ধ’বিরতির সম্ভাবনা, বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৮:০২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • 81

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির আলোচনা নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষের মধ্যে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একটি দুই ধাপের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সামনে এসেছে। প্রথম ধাপে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরস্পরের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক হামলা ৪৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখবে। এই সময়ের মধ্যেই মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, এই আলোচনা সফল হলে তা দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
এর আগে মার্চের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দিয়ে হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান। তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তিনি আরও কঠোর অবস্থান নেন এবং ইরানকে নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান আলোচনায় না এলে এবং অবরোধ প্রত্যাহার না করলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল বলছে, এ ধরনের হুমকি ইরানের ওপর খুব একটা কার্যকর প্রভাব ফেলবে না। বরং চলমান আলোচনায় থাকা ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবই বর্তমান সংকট নিরসনের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের গভীর আলোচনা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়সীমার আগেই একটি ইতিবাচক সমাধান পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখন কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবে রূপ নেয় কি না এবং তা স্থায়ী শান্তির পথ কতটা প্রশস্ত করতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

ইরান-ইসরায়েল ৪৫ দিনের যু’দ্ধ’বিরতির সম্ভাবনা, বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা

আপডেট : ০৮:০২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির আলোচনা নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষের মধ্যে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একটি দুই ধাপের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সামনে এসেছে। প্রথম ধাপে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরস্পরের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক হামলা ৪৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখবে। এই সময়ের মধ্যেই মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, এই আলোচনা সফল হলে তা দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
এর আগে মার্চের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দিয়ে হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান। তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তিনি আরও কঠোর অবস্থান নেন এবং ইরানকে নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান আলোচনায় না এলে এবং অবরোধ প্রত্যাহার না করলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল বলছে, এ ধরনের হুমকি ইরানের ওপর খুব একটা কার্যকর প্রভাব ফেলবে না। বরং চলমান আলোচনায় থাকা ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবই বর্তমান সংকট নিরসনের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের গভীর আলোচনা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়সীমার আগেই একটি ইতিবাচক সমাধান পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখন কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবে রূপ নেয় কি না এবং তা স্থায়ী শান্তির পথ কতটা প্রশস্ত করতে পারে।