চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের পাইকদী গ্রামে ডাকাতিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের টানা ভাঙনে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহতলী তপদার বাড়ির সামনের অংশ থেকে পাইকদী হাফেজ খান বাড়ি পর্যন্ত প্রায় অর্ধ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ইতোমধ্যে কয়েক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এলাকাবাসী জানান, ভাঙনের কারণে অনেক কৃষক তাদের ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী বসতঘরগুলোও হুমকির মুখে রয়েছে। প্রতিদিনই ভাঙনের মাত্রা বাড়ছে, ফলে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজির মিজি বলেন,
“এত বেশি পরিমাণে ভাঙতেছে যে, এভাবে চলতে থাকলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাবে।”
অন্য এক বাসিন্দা জানান, রাতের বেলাতেও ভাঙনের শব্দ শোনা যায়। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। অনেকেই ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
এদিকে, ভাঙন প্রতিরোধে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা, ব্লক স্থাপনসহ স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. এন. জামিউল হিকমা বলেন,
“বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে।”
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন,
“প্রায় ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পাইকদী গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।




















