ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসি হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে অপরাধ দমনে সফল মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ মাদক, চুরি-ডা’কা’তি ও হ’ত্যা মা’ম’লায় ব্যাপক সাফল্য

Oplus_16908288

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক নির্মূল, চুরি-ডাকাতি দমন এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতারে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর নেতৃত্বে গত ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ হতে অদ্যবধি পর্যন্ত ধারাবাহিক অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বিপুল সংখ্যক আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, এই সময়ে জিআর ও সিআর পরোয়ানা, জিআর সাজা ও সিআর সাজা পরোয়ানামূলে সর্বমোট ৫২ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া নিয়মিত মামলায় ৫০ জন এবং মাদক মামলায় ৬৫ জন আসামীকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৬১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৪ কেজি ১৭৬ গ্রাম গাঁজা।
মাদকবিরোধী অভিযানে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ। বিভিন্ন অভিযানে পাঁচঘড়িয়ার ৬টি মাদক মামলার আসামী মোঃ আওলাদ খাঁন, দক্ষিণ বাইশপুরের ৮ মামলার আসামী আক্তার গাজী, পাটন এলাকার ১৫টি মাদক মামলার আসামী মেজর ডালিম, চাপাতিয়ার ২৮টি মাদক মামলার আসামী শাহনাজ আক্তার ও মর্জিনা আক্তার, খিদিরপুরের ইব্রাহিম খলিল পাটোয়ারী, ২২ মামলার আসামী জহির মিজি, নায়েরগাঁওয়ের সাইফুল ইসলাম, ঘিলাতলীর রহমত আলী এবং চারট ভাঙ্গার সবুজসহ একাধিক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
এছাড়াও চোর, ডাকাত, দস্যুতা ও কিশোর গ্যাং দমনে পরিচালিত অভিযানে ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ২টি ডাকাতি ও ৯টি মাদক মামলার আসামী নায়েরগাঁও এলাকার মো. শামীমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। ডাকাতির সাথে সম্পৃক্ত শাহজাহান ও বাবু ঢালীকেও আটক করতে সক্ষম হয় থানা পুলিশ।
মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশের তৎপরতায় আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনেও দ্রুত সাফল্য আসে। গত ৩০ মার্চ নারায়ণপুর প্রধানিয়া বাড়ির ইয়াকুব প্রধানের গরুর খামারের শ্রমিক মনজিল শেখ হত্যা মামলার পলাতক আসামী সাগর হোসেনকে ঘটনার মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের এমন দ্রুত অভিযানে স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসা সৃষ্টি হয়েছে।
অপরদিকে, ডিএমপি বিমানবন্দর থানার একটি চাঞ্চল্যকর চুরির মামলায় হাজী ক্যাম্প থেকে চুরি যাওয়া ২২ হাজার সৌদি রিয়াল উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মূল দুই আসামী হাবিবুর রহমান ও নাদিমকে ৩ মে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল এবং ৯১ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মাদক নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে থানা পুলিশ। মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে ঢাকিরগাঁও নওরিণ ফিলিং স্টেশনের মালিক মিজানুর রহমানকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, মো. সৈকতকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ‘বায়ান্ন ভিসা রাসেল’কে মাদকসহ আটক করে ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর দক্ষ নেতৃত্ব, সাহসী পদক্ষেপ এবং অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতির কারণেই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। মাদক, চুরি, ডাকাতি ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক, চুরি-ডাকাতি, হত্যা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। জনগণের সহযোগিতা থাকলে মতলব দক্ষিণকে আরও নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করা সম্ভব হবে।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পেলেন মতলবের তাহমিদ হাসান

ওসি হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে অপরাধ দমনে সফল মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ মাদক, চুরি-ডা’কা’তি ও হ’ত্যা মা’ম’লায় ব্যাপক সাফল্য

আপডেট : ০৯:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক নির্মূল, চুরি-ডাকাতি দমন এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতারে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর নেতৃত্বে গত ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ হতে অদ্যবধি পর্যন্ত ধারাবাহিক অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বিপুল সংখ্যক আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, এই সময়ে জিআর ও সিআর পরোয়ানা, জিআর সাজা ও সিআর সাজা পরোয়ানামূলে সর্বমোট ৫২ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া নিয়মিত মামলায় ৫০ জন এবং মাদক মামলায় ৬৫ জন আসামীকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৬১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৪ কেজি ১৭৬ গ্রাম গাঁজা।
মাদকবিরোধী অভিযানে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ। বিভিন্ন অভিযানে পাঁচঘড়িয়ার ৬টি মাদক মামলার আসামী মোঃ আওলাদ খাঁন, দক্ষিণ বাইশপুরের ৮ মামলার আসামী আক্তার গাজী, পাটন এলাকার ১৫টি মাদক মামলার আসামী মেজর ডালিম, চাপাতিয়ার ২৮টি মাদক মামলার আসামী শাহনাজ আক্তার ও মর্জিনা আক্তার, খিদিরপুরের ইব্রাহিম খলিল পাটোয়ারী, ২২ মামলার আসামী জহির মিজি, নায়েরগাঁওয়ের সাইফুল ইসলাম, ঘিলাতলীর রহমত আলী এবং চারট ভাঙ্গার সবুজসহ একাধিক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
এছাড়াও চোর, ডাকাত, দস্যুতা ও কিশোর গ্যাং দমনে পরিচালিত অভিযানে ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ২টি ডাকাতি ও ৯টি মাদক মামলার আসামী নায়েরগাঁও এলাকার মো. শামীমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। ডাকাতির সাথে সম্পৃক্ত শাহজাহান ও বাবু ঢালীকেও আটক করতে সক্ষম হয় থানা পুলিশ।
মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশের তৎপরতায় আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনেও দ্রুত সাফল্য আসে। গত ৩০ মার্চ নারায়ণপুর প্রধানিয়া বাড়ির ইয়াকুব প্রধানের গরুর খামারের শ্রমিক মনজিল শেখ হত্যা মামলার পলাতক আসামী সাগর হোসেনকে ঘটনার মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের এমন দ্রুত অভিযানে স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসা সৃষ্টি হয়েছে।
অপরদিকে, ডিএমপি বিমানবন্দর থানার একটি চাঞ্চল্যকর চুরির মামলায় হাজী ক্যাম্প থেকে চুরি যাওয়া ২২ হাজার সৌদি রিয়াল উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মূল দুই আসামী হাবিবুর রহমান ও নাদিমকে ৩ মে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল এবং ৯১ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মাদক নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে থানা পুলিশ। মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে ঢাকিরগাঁও নওরিণ ফিলিং স্টেশনের মালিক মিজানুর রহমানকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, মো. সৈকতকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ‘বায়ান্ন ভিসা রাসেল’কে মাদকসহ আটক করে ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর দক্ষ নেতৃত্ব, সাহসী পদক্ষেপ এবং অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতির কারণেই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। মাদক, চুরি, ডাকাতি ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক, চুরি-ডাকাতি, হত্যা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। জনগণের সহযোগিতা থাকলে মতলব দক্ষিণকে আরও নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করা সম্ভব হবে।”