চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শরতের আগমনীর সাথে সাথেই গ্রামবাংলার দিগন্তজোড়া আমন ধানের ক্ষেত ধারণ করেছে নয়নাভিরাম রূপ। রোদের আলোয় যেন সবুজ ঢেউ খেলছে মাইলের পর মাইল জুড়ে। ধানের কচি পাতার দোলায় দুলছে কৃষকের আশা ও স্বপ্নের ক্যানভাস। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা পাওয়ায় এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ।
সরেজমিনে দেখা যায়, যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজের সমারোহ। কৃষকরা এখন ব্যস্ত ক্ষেতের সেচ, আগাছা দমন, সার প্রয়োগ এবং পোকা-মাকড় দমনে আলো ফাঁদসহ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে। ভোরেই মাটির গন্ধ আর হালকা কুয়াশা ভেদ করে কৃষক দল বেঁধে ছুটে চলছেন নিজ নিজ জমি পরিচর্যায়।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং পর্যাপ্ত সার-বীজের সহজলভ্যতার কারণে ধান গাছের বৃদ্ধি বেশ ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বিগত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয় এক কৃষক জানান, “মাঠের সবুজ রঙ দেখে বুকটা ভরে যায়। কষ্ট হলেও পরিশ্রমের ফসল যখন এমন লিকলিক করে বাড়ে, তখন আর কোনো ক্লান্তি থাকে না।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, চলতি মৌসুমে আমন আবাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। ভালো ফলন নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রতিনিয়ত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং আধুনিক উপায়ে কীটনাশক ও সার ব্যবহারের উৎসাহ যোগানো হচ্ছে। কোনো বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
শরতের সবুজ মাঠ আর কিছুদিন পরেই রূপ নেবে কার্তিকের সোনালী হাসিতে। এখন কেবল দিনগোনার পালা, যখন এই সবুজ মাঠের কাঁচা ধান পেকে সোনালী রঙ ধারণ করবে এবং কৃষকের গোলা ভরে উঠবে নতুন ধানে।



















