বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ)-এর ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিস্থ বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সেরা ক্যাডেটদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের কাঁধে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে অর্জিত এই সাফল্য নবীন অফিসারদের সামনে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ আয়োজনের জন্য তিনি একাডেমির কমান্ড্যান্টসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, জেসিও, এনসিও, সৈনিক এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।
তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে সর্বমোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। এর মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন।
এছাড়া ফিলিস্তিনের ৪ জন, তানজানিয়ার ১ জন, জাম্বিয়ার ১ জন এবং মালদ্বীপের ১ জন অফিসার ক্যাডেট বিএমএ থেকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদানের যোগ্যতা অর্জন করেন।
এ কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে গৌরবময় ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। অন্যদিকে, তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর একাডেমির সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ লাভ করেন।
পরে প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা নবীন অফিসারদের কাঁধে র্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সেনাবাহিনী প্রধানকে ভারপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড ও কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া অভ্যর্থনা জানান।
রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ শেষে সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে নবগঠিত ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে ‘১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর পাশাপাশি এ নতুন ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এছাড়াও তিনি বিএমএতে নবনির্মিত সিএমএইচ, ভাটিয়ারি; বিএমএ পার্ক; বিএমএ সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পসমূহের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, দেশি-বিদেশি উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা, সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের পিতা-মাতা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের স্বাধীনতার রক্ষার শপথ নিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন ১৮৪ নবীন কর্মকর্তা
-
ডেস্ক নিউজ - আপডেট : ০৬:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- 65
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ




















