ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় একই গ্রামের পাঁচ প্রবাসীর করুণ মৃ’ত্যু

স্বজনদের মুখে হাসি ফোটাতে হাজার মাইল দূরের দেশ কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও বেরিয়েছিলেন কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। আর ফেরা হলো না তাদের। কাতারের শাহানিয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই গ্রামের পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশিসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত পাঁচ বাংলাদেশির বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামে। তারা হলেন জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ। দুর্ঘটনায় আরও একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের দেওয়া তথ্যমতে, শনিবার সকালে তারা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কাজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। প্রতিদিনের মতো হয়তো কেউ ভেবেছিলেন মাস শেষে পরিবারের জন্য কিছু টাকা পাঠাবেন, কেউবা দেশে ফেরা কিংবা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যেই নিয়তির নির্মম পরিহাস। গাড়িটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। মুহূর্তেই নিভে যায় ছয়টি প্রাণের আলো।
একই গ্রামের পাঁচজনের এমন অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গাছবাড়ি গ্রামে নেমে আসে শোকের মাতম। যে বাড়িগুলোতে প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় চলত সংসার, যে মায়েরা সন্তানের ফোনের অপেক্ষায় থাকতেন, যে স্ত্রী স্বামীর দেশে ফেরার দিন গুনতেন—সেই বাড়িগুলো আজ কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে।
গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, নিহতরা ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের মৃত্যু শুধু কয়েকটি পরিবারের নয়, পুরো গ্রামের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। শোকাহত স্বজনদের আহাজারিতে বারবার ভারী হয়ে উঠছে গ্রামের বাতাস।
বর্তমানে নিহতদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহগুলো দেশে পাঠাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে।
বিদেশের মাটিতে জীবিকার সন্ধানে যাওয়া এই প্রবাসীরা হয়তো স্বপ্ন দেখেছিলেন একদিন ঘরে ফিরবেন, প্রিয়জনদের নিয়ে সুখের দিন কাটাবেন। কিন্তু তারা ফিরছেন না জীবিত অবস্থায়; ফিরছেন নিথর দেহ হয়ে। তাদের এই না-ফেরার যাত্রা শুধু পাঁচটি পরিবার নয়, পুরো জাতিকেই মনে করিয়ে দেয়—প্রবাসের ঝলমলে গল্পের আড়ালে কত অজানা কষ্ট আর কত না বলা ত্যাগ লুকিয়ে থাকে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় একই গ্রামের পাঁচ প্রবাসীর করুণ মৃ’ত্যু

আপডেট : ০৭:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

স্বজনদের মুখে হাসি ফোটাতে হাজার মাইল দূরের দেশ কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও বেরিয়েছিলেন কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। আর ফেরা হলো না তাদের। কাতারের শাহানিয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই গ্রামের পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশিসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত পাঁচ বাংলাদেশির বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামে। তারা হলেন জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ। দুর্ঘটনায় আরও একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের দেওয়া তথ্যমতে, শনিবার সকালে তারা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কাজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। প্রতিদিনের মতো হয়তো কেউ ভেবেছিলেন মাস শেষে পরিবারের জন্য কিছু টাকা পাঠাবেন, কেউবা দেশে ফেরা কিংবা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যেই নিয়তির নির্মম পরিহাস। গাড়িটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। মুহূর্তেই নিভে যায় ছয়টি প্রাণের আলো।
একই গ্রামের পাঁচজনের এমন অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গাছবাড়ি গ্রামে নেমে আসে শোকের মাতম। যে বাড়িগুলোতে প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় চলত সংসার, যে মায়েরা সন্তানের ফোনের অপেক্ষায় থাকতেন, যে স্ত্রী স্বামীর দেশে ফেরার দিন গুনতেন—সেই বাড়িগুলো আজ কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে।
গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, নিহতরা ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের মৃত্যু শুধু কয়েকটি পরিবারের নয়, পুরো গ্রামের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। শোকাহত স্বজনদের আহাজারিতে বারবার ভারী হয়ে উঠছে গ্রামের বাতাস।
বর্তমানে নিহতদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহগুলো দেশে পাঠাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে।
বিদেশের মাটিতে জীবিকার সন্ধানে যাওয়া এই প্রবাসীরা হয়তো স্বপ্ন দেখেছিলেন একদিন ঘরে ফিরবেন, প্রিয়জনদের নিয়ে সুখের দিন কাটাবেন। কিন্তু তারা ফিরছেন না জীবিত অবস্থায়; ফিরছেন নিথর দেহ হয়ে। তাদের এই না-ফেরার যাত্রা শুধু পাঁচটি পরিবার নয়, পুরো জাতিকেই মনে করিয়ে দেয়—প্রবাসের ঝলমলে গল্পের আড়ালে কত অজানা কষ্ট আর কত না বলা ত্যাগ লুকিয়ে থাকে।