ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতাধিক মামলা মাথায় নিয়েই দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, শতাধিক মামলা, পাসপোর্ট বাতিল এবং মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তিনি চলতি বছরই দেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-কে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে অবস্থান করা শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; বরং বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অংশ। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন সময় অতিক্রম করেছেন। তাই মৃত্যু বা মামলার ভয় তাকে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও জনগণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি শক্তি। ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বহু সংকট মোকাবিলা করেছে এবং প্রতিবারই জনগণের সমর্থনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো হলেও জনগণের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থনে কর্মসূচি পালন করছেন, যা দলটির পুনরুত্থানের ইঙ্গিত বহন করে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আঘাত মানেই দেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার ওপর হামলা হয়েছে, যা দেশের জন্য উদ্বেগজনক।
বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জনও নাকচ করে দেন তিনি। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না; জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র কোনো গোপন সমঝোতার বিষয় নয়, বরং এটি সাংবিধানিক অধিকার।
ভারতে অবস্থান করলেও তার মন সবসময় বাংলাদেশের মানুষের কাছেই পড়ে থাকে বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাবার সমাধি এবং দেশের মানুষের কথা তাকে প্রতিনিয়ত নাড়া দেয়। শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি (NDTV)

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে ভোক্তা অধিকার অভিযানে হার্ডওয়্যার দোকানের ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

শতাধিক মামলা মাথায় নিয়েই দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন শেখ হাসিনা

আপডেট : ০৭:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, শতাধিক মামলা, পাসপোর্ট বাতিল এবং মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তিনি চলতি বছরই দেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-কে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে অবস্থান করা শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; বরং বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অংশ। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন সময় অতিক্রম করেছেন। তাই মৃত্যু বা মামলার ভয় তাকে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও জনগণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি শক্তি। ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বহু সংকট মোকাবিলা করেছে এবং প্রতিবারই জনগণের সমর্থনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো হলেও জনগণের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থনে কর্মসূচি পালন করছেন, যা দলটির পুনরুত্থানের ইঙ্গিত বহন করে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আঘাত মানেই দেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার ওপর হামলা হয়েছে, যা দেশের জন্য উদ্বেগজনক।
বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জনও নাকচ করে দেন তিনি। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না; জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র কোনো গোপন সমঝোতার বিষয় নয়, বরং এটি সাংবিধানিক অধিকার।
ভারতে অবস্থান করলেও তার মন সবসময় বাংলাদেশের মানুষের কাছেই পড়ে থাকে বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাবার সমাধি এবং দেশের মানুষের কথা তাকে প্রতিনিয়ত নাড়া দেয়। শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি (NDTV)