ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪৭ তম বিসিএসে শীর্ষে হাজীগঞ্জের হাসান আল মামুন

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৩:১৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • 705

মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিভাগে জাতীয় মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার কৃতী সন্তান হাসান আল মামুন। তার এ অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা দিচ্ছেন অনেকে।
হাসান আল মামুন হাজীগঞ্জ উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের মরহুম বাবুল মিয়া ও মমতাজ বেগমের কনিষ্ঠ সন্তান। সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ইতিহাস বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হওয়ার মাধ্যমে তিনি নিজ জেলা চাঁদপুরসহ পুরো অঞ্চলের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
শিক্ষাজীবনের শুরু হয় নিজ এলাকার বাকিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও অধ্যবসায়ী। এরপর বলাখাল যোগেন্দ্র নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮০ অর্জন করেন। ২০১৪ সালে হাজীগঞ্জ মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮০ লাভ করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। সেখান থেকে সাফল্যের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বিসিএসের প্রস্তুতি নেন। ধারাবাহিক পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের ফল হিসেবে ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিভাগে জাতীয় মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
বিসিএসে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার আগে হাসান আল মামুন পশ্চিম দেশগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষকতা পেশায় থেকেও তিনি নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলস প্রস্তুতি চালিয়ে যান। অবশেষে সেই প্রচেষ্টাই তাকে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের কাতারে স্থান করে দিয়েছে।
তার বড় ভাই সুজন আরিফ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। পরিবারে শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব ও অনুকূল পরিবেশ হাসানের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে স্বজনরা মনে করছেন।
হাসান আল মামুনের এই কৃতিত্বে সাতবাড়িয়া গ্রামসহ পুরো হাজীগঞ্জ উপজেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শিক্ষক, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, তিনি একজন দক্ষ ও আদর্শ শিক্ষাকর্মকর্তা হিসেবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
এলাকার বিশিষ্টজনেরা বলেন, হাসান আল মামুনের এই অর্জন বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তার সাফল্য প্রমাণ করেছে, লক্ষ্য ঠিক রেখে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যেকোনো স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।

 

সূত্র : দ্য নিউজ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

৪৭ তম বিসিএসে শীর্ষে হাজীগঞ্জের হাসান আল মামুন

আপডেট : ০৩:১৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিভাগে জাতীয় মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার কৃতী সন্তান হাসান আল মামুন। তার এ অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা দিচ্ছেন অনেকে।
হাসান আল মামুন হাজীগঞ্জ উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের মরহুম বাবুল মিয়া ও মমতাজ বেগমের কনিষ্ঠ সন্তান। সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ইতিহাস বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হওয়ার মাধ্যমে তিনি নিজ জেলা চাঁদপুরসহ পুরো অঞ্চলের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
শিক্ষাজীবনের শুরু হয় নিজ এলাকার বাকিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও অধ্যবসায়ী। এরপর বলাখাল যোগেন্দ্র নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮০ অর্জন করেন। ২০১৪ সালে হাজীগঞ্জ মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮০ লাভ করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। সেখান থেকে সাফল্যের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বিসিএসের প্রস্তুতি নেন। ধারাবাহিক পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের ফল হিসেবে ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিভাগে জাতীয় মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
বিসিএসে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার আগে হাসান আল মামুন পশ্চিম দেশগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষকতা পেশায় থেকেও তিনি নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলস প্রস্তুতি চালিয়ে যান। অবশেষে সেই প্রচেষ্টাই তাকে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের কাতারে স্থান করে দিয়েছে।
তার বড় ভাই সুজন আরিফ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। পরিবারে শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব ও অনুকূল পরিবেশ হাসানের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে স্বজনরা মনে করছেন।
হাসান আল মামুনের এই কৃতিত্বে সাতবাড়িয়া গ্রামসহ পুরো হাজীগঞ্জ উপজেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শিক্ষক, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, তিনি একজন দক্ষ ও আদর্শ শিক্ষাকর্মকর্তা হিসেবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
এলাকার বিশিষ্টজনেরা বলেন, হাসান আল মামুনের এই অর্জন বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তার সাফল্য প্রমাণ করেছে, লক্ষ্য ঠিক রেখে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যেকোনো স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।

 

সূত্র : দ্য নিউজ