ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আট বছরের অপেক্ষার অবসান, এগোচ্ছে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্প

দীর্ঘ আট বছর প্রশাসনিক জটিলতা ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে আটকে থাকার পর চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড স্থাপন এবং প্রাথমিক অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নতুন গতি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসলামপুর গাছতলা মৌজায় অধিগ্রহণযোগ্য জমির মালিকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নার্সিং কলেজ এবং অন্যান্য অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হবে।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলা এলাকায় প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই প্রকল্পটির বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের নীতির আলোকে প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তারা প্রচলিত আইন অনুযায়ী শতভাগ ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত কোনো সমস্যায় সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রকল্প পরিচালক ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, ইসলামপুর গাছতলা মৌজায় প্রায় ৩০ দশমিক ২ একর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলে ক্ষতিপূরণ বিতরণ শুরু হবে। এরপর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নির্মাণকাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরের পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর, নোয়াখালীসহ আশপাশের জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপও কমবে।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেলা নাজনীন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমাসহ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ, সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ

আট বছরের অপেক্ষার অবসান, এগোচ্ছে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্প

আপডেট : ০৬:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ আট বছর প্রশাসনিক জটিলতা ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে আটকে থাকার পর চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড স্থাপন এবং প্রাথমিক অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নতুন গতি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসলামপুর গাছতলা মৌজায় অধিগ্রহণযোগ্য জমির মালিকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নার্সিং কলেজ এবং অন্যান্য অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হবে।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলা এলাকায় প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই প্রকল্পটির বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের নীতির আলোকে প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তারা প্রচলিত আইন অনুযায়ী শতভাগ ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত কোনো সমস্যায় সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রকল্প পরিচালক ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, ইসলামপুর গাছতলা মৌজায় প্রায় ৩০ দশমিক ২ একর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলে ক্ষতিপূরণ বিতরণ শুরু হবে। এরপর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নির্মাণকাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরের পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর, নোয়াখালীসহ আশপাশের জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপও কমবে।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেলা নাজনীন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমাসহ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।