চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফটিকখিরা গ্রামের মাইঝপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমাটবদ্ধ ময়লা পানি ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব এবং চলাচলে ভোগান্তির অবসান চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাইঝপাড়ার একটি ডোবার পানি আগে দুটি নালার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু নালাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় পানি জমে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ওই ডোবায় গোবর, টয়লেটের বর্জ্য এবং বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা জমে বর্তমানে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমে থাকা পানিতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকায়। মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া দূষিত পানি পাশের একটি পুকুরে প্রবাহিত হওয়ায় পুকুরের পানি ব্যবহারেও নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. আবু ইউসুফ বলেন, “বছরের পর বছর ধরে আমরা এই দুর্ভোগ সহ্য করছি। দুর্গন্ধে ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে গেছে। ছোট ছোট শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”
আরেক বাসিন্দা হারিস মিয়া বলেন, “ডোবার ময়লা পানি সরকারি রাস্তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে চলাচল অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।”
ভুক্তভোগীদের পক্ষে আবেদনকারী মো. শুকুর আলম জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবে।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, “লিখিত আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত ডোবার জমাটবদ্ধ ময়লা পানি ও আবর্জনা অপসারণ, বন্ধ নালাগুলো পুনঃখনন এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।




















