ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একনেকের জটিলতায় ঝুলে গেল চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস

  • রিয়াজ শাওন:
  • আপডেট : ১০:৫৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • 97

 

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাঁবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একনেক (ECNEC) অনুমোদন না থাকায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহ্ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী এলাকায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ৫৮ নং কুমড়ারডুগী মৌজায় মোট ৫৯.৭০৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবিত নথি ফেরত এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। ফলে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত হয়ে পড়েছে এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের কার্যক্রমে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণের নথি ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে প্রকল্পটি এখনো একনেকে অনুমোদিত না হওয়ায় মন্ত্রণালয় থেকে নথি ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফলে একনেকের অনুমোদন ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণসহ পরবর্তী কোনো কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এর আগে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জমির মূল্য নির্ধারণে অনিয়ম, উচ্চমূল্যে অধিগ্রহণের অভিযোগ এবং বিভিন্ন বিতর্কের কারণে সেই উদ্যোগ বাতিল হয়ে যায়। পরে নতুন স্থান হিসেবে শাহ্ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী এলাকা নির্বাচন করে পুনরায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, নতুন স্থানে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু হবে। কিন্তু একনেক অনুমোদনের জটিলতায় সেই আশাও আপাতত থমকে গেছে। প্রশাসনিক সূত্র বলছে, প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হওয়ার পরই ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহামেদ মানিক এবং চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. জালাল উদ্দিনকে সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন সিন্ডিকেট স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান চূড়ান্তকরণ, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসন এবং একনেক অনুমোদনের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় সাধনে ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিচালিত হচ্ছে। নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকায় একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা, আধুনিক ল্যাবরেটরি, শিক্ষার্থীদের আবাসন এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড.পেয়ার আহাম্মেদ বলেন,পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কিছু প্রকল্পের সংশোধন আনার জন্য বলা হয়েছে। এখন একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, এটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সচেতন মহলের দাবি, চাঁদপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে আটকে রাখা উচিত নয়। দ্রুত প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করে অনুমোদন নিশ্চিত করা, ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণকাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় দীর্ঘসূত্রতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নকে আরও পিছিয়ে দিতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত নেতার জায়গা হবে না’—চাঁদপুরে শেখ ফরিদ মানিক

একনেকের জটিলতায় ঝুলে গেল চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস

আপডেট : ১০:৫৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

 

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাঁবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একনেক (ECNEC) অনুমোদন না থাকায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহ্ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী এলাকায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ৫৮ নং কুমড়ারডুগী মৌজায় মোট ৫৯.৭০৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবিত নথি ফেরত এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। ফলে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত হয়ে পড়েছে এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের কার্যক্রমে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণের নথি ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে প্রকল্পটি এখনো একনেকে অনুমোদিত না হওয়ায় মন্ত্রণালয় থেকে নথি ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফলে একনেকের অনুমোদন ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণসহ পরবর্তী কোনো কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এর আগে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জমির মূল্য নির্ধারণে অনিয়ম, উচ্চমূল্যে অধিগ্রহণের অভিযোগ এবং বিভিন্ন বিতর্কের কারণে সেই উদ্যোগ বাতিল হয়ে যায়। পরে নতুন স্থান হিসেবে শাহ্ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী এলাকা নির্বাচন করে পুনরায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, নতুন স্থানে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু হবে। কিন্তু একনেক অনুমোদনের জটিলতায় সেই আশাও আপাতত থমকে গেছে। প্রশাসনিক সূত্র বলছে, প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হওয়ার পরই ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহামেদ মানিক এবং চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. জালাল উদ্দিনকে সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন সিন্ডিকেট স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান চূড়ান্তকরণ, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসন এবং একনেক অনুমোদনের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় সাধনে ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিচালিত হচ্ছে। নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকায় একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা, আধুনিক ল্যাবরেটরি, শিক্ষার্থীদের আবাসন এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড.পেয়ার আহাম্মেদ বলেন,পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কিছু প্রকল্পের সংশোধন আনার জন্য বলা হয়েছে। এখন একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, এটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সচেতন মহলের দাবি, চাঁদপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে আটকে রাখা উচিত নয়। দ্রুত প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করে অনুমোদন নিশ্চিত করা, ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণকাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় দীর্ঘসূত্রতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নকে আরও পিছিয়ে দিতে পারে।