ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে লা’শ হয়ে ফিরছেন প্রবাসী বাবুল মিয়া

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৭:১০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • 73

 

সুনামগঞ্জের সন্তান বাবুল মিয়া জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে। কোনো ঝামেলা বা বিরোধে জড়াননি কখনো। একটি খামারে (মাজরায়) নিরবে-নিভৃতে কাজ করেই পরিবারের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন থেমে গেল এক নৃশংস ঘটনার মধ্য দিয়ে।
জানা গেছে, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত তার কক্ষে ঢুকে চুরির চেষ্টা চালায়। বিষয়টি টের পেয়ে বাবুল মিয়া চিৎকার করলে হামলাকারীরা তার মুখ চেপে ধরে টেনেহিঁচড়ে খামারের বাইরে মরুভূমির মধ্যে ফেলে রেখে যায়। তারা ধারণা করেছিল, তিনি আর বেঁচে নেই। এরপর খামারের ভেড়া, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে পালিয়ে যায়।
পরদিন দুপুরে তপ্ত মরুভূমির বালুর মধ্যে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে তার কফিলের বাসায় নেওয়া হয়। দুই দিন চিকিৎসা ও সেবার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজের ওপর ঘটে যাওয়া বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দেন। কিন্তু সেই আশার আলোও বেশিক্ষণ টিকেনি। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাবুল মিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মরহুম বাবুল মিয়ার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ কামনা করছেন স্বজনরা।
আল্লাহ তাআলা মরহুম বাবুল মিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন শোক সইবার শক্তি দান করুন—আমিন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ, সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে লা’শ হয়ে ফিরছেন প্রবাসী বাবুল মিয়া

আপডেট : ০৭:১০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের সন্তান বাবুল মিয়া জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে। কোনো ঝামেলা বা বিরোধে জড়াননি কখনো। একটি খামারে (মাজরায়) নিরবে-নিভৃতে কাজ করেই পরিবারের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন থেমে গেল এক নৃশংস ঘটনার মধ্য দিয়ে।
জানা গেছে, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত তার কক্ষে ঢুকে চুরির চেষ্টা চালায়। বিষয়টি টের পেয়ে বাবুল মিয়া চিৎকার করলে হামলাকারীরা তার মুখ চেপে ধরে টেনেহিঁচড়ে খামারের বাইরে মরুভূমির মধ্যে ফেলে রেখে যায়। তারা ধারণা করেছিল, তিনি আর বেঁচে নেই। এরপর খামারের ভেড়া, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে পালিয়ে যায়।
পরদিন দুপুরে তপ্ত মরুভূমির বালুর মধ্যে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে তার কফিলের বাসায় নেওয়া হয়। দুই দিন চিকিৎসা ও সেবার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজের ওপর ঘটে যাওয়া বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দেন। কিন্তু সেই আশার আলোও বেশিক্ষণ টিকেনি। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাবুল মিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মরহুম বাবুল মিয়ার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ কামনা করছেন স্বজনরা।
আল্লাহ তাআলা মরহুম বাবুল মিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন শোক সইবার শক্তি দান করুন—আমিন।