ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জের হতদরিদ্র বিল্লাল গাছ থেকে পড়ে চিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে

 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের সোনাচৌ গ্রামের খান বাড়ির বাসিন্দা বিল্লাল।পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বিল্লাল ।দিনমজুরি ও গাছ কাটার কাজ করে কোনোরকমে চলত দুই ছেলে এক মেয়ে ও স্ত্রী কে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ সেই বিল্লাল নিজেই অছল। চিকিৎসার অভাবে তিনি এখন স্থায়ী পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে।

বিগত ১৬ মাস আগে গাছ কাটার কাজ করতে গিয়ে ৮০ফুট উপরের গাছ থেকে পড়ে গুরুতর দুর্ঘটনায় তার চোয়ালের ৬টি দাঁত ও বাম হাত পুরোপুরি ভেঙ্গে যায় এবং শরীরের ও বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতবিক্ষত হয়। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় ঢাকা পঙ্গুতে গিয়ে চিকিৎসা নিলে ও এখন পর্যন্ত সে পূর্ণাঙ্গ সুস্থ হয়নি।

শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত বিক্ষত স্থান পুরোপুরি সেরে উঠলেও এখন পর্যন্ত তার বাম হাত সম্পূর্ণ অচল। চিকিৎসকদের মতে, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৬ লাখ টাকা। অথচ সেই অর্থ জোগাড় করা তার পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।

আজ বিল্লাল ভাঙ্গা হাত নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইছেন। চোখে অশ্রু, কণ্ঠে অসহায়ত্ব। তিনি বলেন, “আমার আয়েই আমাদের সংসার চলত। আজ আমি নিজেই অসহায় হয়ে পড়ে আছি। আমরা কীভাবে চলব, কী খাব—কিছুই জানি না। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা আমার পাশে দাঁড়ান। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিল্লাল ছিলেন পরিশ্রমী ও সৎ একজন মানুষ। নিজের কষ্টের কথা কখনো কাউকে বোঝাতেন না। কিন্তু আজ চিকিৎসার অভাবে তার জীবনই অনিশ্চয়তার মুখে।

মানবিক সমাজ গঠনে এমন সংকটে এগিয়ে আসাই হতে পারে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। একজন অসহায় মানুষের চোখের জল মুছে দিতে, তিন শিশুর মাথার ওপর থেকে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া সরিয়ে দিতে এবং বিল্লালকে নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দিতে সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহায়তা এখন সময়ের দাবি।

আসুন, আমরা সবাই মিলে বিল্লালের পাশে দাঁড়াই। মানবতার হাত বাড়িয়ে একটি পরিবারকে বাঁচিয়ে তুলি।

 

 

 

আরকে/ সাইফ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ, সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ

ফরিদগঞ্জের হতদরিদ্র বিল্লাল গাছ থেকে পড়ে চিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে

আপডেট : ০৬:৫৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের সোনাচৌ গ্রামের খান বাড়ির বাসিন্দা বিল্লাল।পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বিল্লাল ।দিনমজুরি ও গাছ কাটার কাজ করে কোনোরকমে চলত দুই ছেলে এক মেয়ে ও স্ত্রী কে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ সেই বিল্লাল নিজেই অছল। চিকিৎসার অভাবে তিনি এখন স্থায়ী পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে।

বিগত ১৬ মাস আগে গাছ কাটার কাজ করতে গিয়ে ৮০ফুট উপরের গাছ থেকে পড়ে গুরুতর দুর্ঘটনায় তার চোয়ালের ৬টি দাঁত ও বাম হাত পুরোপুরি ভেঙ্গে যায় এবং শরীরের ও বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতবিক্ষত হয়। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় ঢাকা পঙ্গুতে গিয়ে চিকিৎসা নিলে ও এখন পর্যন্ত সে পূর্ণাঙ্গ সুস্থ হয়নি।

শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত বিক্ষত স্থান পুরোপুরি সেরে উঠলেও এখন পর্যন্ত তার বাম হাত সম্পূর্ণ অচল। চিকিৎসকদের মতে, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৬ লাখ টাকা। অথচ সেই অর্থ জোগাড় করা তার পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।

আজ বিল্লাল ভাঙ্গা হাত নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইছেন। চোখে অশ্রু, কণ্ঠে অসহায়ত্ব। তিনি বলেন, “আমার আয়েই আমাদের সংসার চলত। আজ আমি নিজেই অসহায় হয়ে পড়ে আছি। আমরা কীভাবে চলব, কী খাব—কিছুই জানি না। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা আমার পাশে দাঁড়ান। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিল্লাল ছিলেন পরিশ্রমী ও সৎ একজন মানুষ। নিজের কষ্টের কথা কখনো কাউকে বোঝাতেন না। কিন্তু আজ চিকিৎসার অভাবে তার জীবনই অনিশ্চয়তার মুখে।

মানবিক সমাজ গঠনে এমন সংকটে এগিয়ে আসাই হতে পারে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। একজন অসহায় মানুষের চোখের জল মুছে দিতে, তিন শিশুর মাথার ওপর থেকে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া সরিয়ে দিতে এবং বিল্লালকে নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দিতে সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহায়তা এখন সময়ের দাবি।

আসুন, আমরা সবাই মিলে বিল্লালের পাশে দাঁড়াই। মানবতার হাত বাড়িয়ে একটি পরিবারকে বাঁচিয়ে তুলি।

 

 

 

আরকে/ সাইফ