ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন নকশায় আবারও শুরু হচ্ছে অলিপুর-উটতলী সেতুর নির্মাণকাজ

  • রিয়াজ শাওন: 
  • আপডেট : ১০:২২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • 326

 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অলিপুর উটতলী সেতু নির্মাণ প্রকল্প আবারও বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। ঠিকাদারি জটিলতা ও আদালতের মামলার কারণে প্রায় চার বছর ধরে স্থবির থাকা প্রকল্পটির নকশা পরিবর্তনের কাজ শেষ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এখন নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে।

 

জানা গেছে, ২০২২ সালে প্রায় ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল সুরমা এন্টারপ্রাইজ। কাজের প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি পিলারের নির্মাণ সম্পন্ন হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় এলজিইডি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিল করে। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টে মামলা করলে দীর্ঘ সময় প্রকল্পের সব কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

 

মামলার নিষ্পত্তির পর এলজিইডি প্রকল্পটির নকশা পুনর্বিবেচনা করে। সংশোধিত নকশা অনুযায়ী সেতুর দৈর্ঘ্য ৫৫০ মিটার থেকে কমিয়ে ৪৫১ মিটার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০৭ মিটার স্টিল স্ট্রাকচার হিসেবে নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে নির্মাণ ব্যয়ও ১০৭ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বর্তমানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে। টেন্ডার সম্পন্ন হলে পুনরায় সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুটি নির্মিত হলে হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং শিক্ষার্থী, রোগীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরবে।

 

তবে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষকে। বিকল্প পথে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হওয়ায় সময় ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা রহিম পাটোয়ারী বলেন, “অলিপুর উটতলী সেতুটি আমাদের বহুদিনের স্বপ্ন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য কাজে হাজীগঞ্জ বা ফরিদগঞ্জ যেতে অনেক পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও যাতায়াত খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত টেন্ডার সম্পন্ন করে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হোক এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা হোক।”

 

এ বিষয়ে এলজিইডির চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুজ্জামান বলেন, মামলার জটিলতা শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটির নকশা সংশোধন করা হয়েছে। এখন নতুন টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

 

বহু প্রতীক্ষিত এই সেতুর কাজ দ্রুত শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশা, আর কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হলে অলিপুর-উটতলী সেতু বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুই স্ট্যাম্পে একই নম্বর, ভেন্ডারও নেই অস্তিত্ব!

নতুন নকশায় আবারও শুরু হচ্ছে অলিপুর-উটতলী সেতুর নির্মাণকাজ

আপডেট : ১০:২২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অলিপুর উটতলী সেতু নির্মাণ প্রকল্প আবারও বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। ঠিকাদারি জটিলতা ও আদালতের মামলার কারণে প্রায় চার বছর ধরে স্থবির থাকা প্রকল্পটির নকশা পরিবর্তনের কাজ শেষ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এখন নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে।

 

জানা গেছে, ২০২২ সালে প্রায় ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল সুরমা এন্টারপ্রাইজ। কাজের প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি পিলারের নির্মাণ সম্পন্ন হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় এলজিইডি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিল করে। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টে মামলা করলে দীর্ঘ সময় প্রকল্পের সব কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

 

মামলার নিষ্পত্তির পর এলজিইডি প্রকল্পটির নকশা পুনর্বিবেচনা করে। সংশোধিত নকশা অনুযায়ী সেতুর দৈর্ঘ্য ৫৫০ মিটার থেকে কমিয়ে ৪৫১ মিটার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০৭ মিটার স্টিল স্ট্রাকচার হিসেবে নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে নির্মাণ ব্যয়ও ১০৭ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বর্তমানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে। টেন্ডার সম্পন্ন হলে পুনরায় সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুটি নির্মিত হলে হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং শিক্ষার্থী, রোগীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরবে।

 

তবে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষকে। বিকল্প পথে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হওয়ায় সময় ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা রহিম পাটোয়ারী বলেন, “অলিপুর উটতলী সেতুটি আমাদের বহুদিনের স্বপ্ন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য কাজে হাজীগঞ্জ বা ফরিদগঞ্জ যেতে অনেক পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও যাতায়াত খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত টেন্ডার সম্পন্ন করে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হোক এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা হোক।”

 

এ বিষয়ে এলজিইডির চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুজ্জামান বলেন, মামলার জটিলতা শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটির নকশা সংশোধন করা হয়েছে। এখন নতুন টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

 

বহু প্রতীক্ষিত এই সেতুর কাজ দ্রুত শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশা, আর কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হলে অলিপুর-উটতলী সেতু বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।