মতলব দক্ষিণ উপজেলার ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার এ বছর উপজেলার মোট ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২,০৬৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১,৩৯১ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৬৭৫ জন। উপজেলায় সামগ্রিক গড় পাসের হার ৬৭.৩২%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে উপজেলায় শীর্ষস্থান দখল করেছে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে উপজেলা পর্যায়ে শীর্ষে রয়েছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৮.৬৪%। শতকরা পাসের হারের দিক থেকে উপজেলার সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৪ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৭৩ জন। অপরদিকে সর্বনিম্ন পাসের হার কাশিমপুর পূরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের। পাশের হার ৩৪.৮৮%। এই বিদ্যারয় থেকে ৪৩ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ১৫ জন।
উপজেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কাচিয়ারা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জন পাস করেছে। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। পাসের হার ৩৭.৫০%। আশ্বিনপুর উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ থেকে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৬ জন কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন এবং পাসের হার ৭৯.১৭%। মতলব জে বি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫৮ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৩৪ জন পাস করেছে। ২১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং পাসের হার ৮৪.৮১%। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন এবং পাসের হার ৮০.৪৮%। নারায়ণপুর পপুলার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৩ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন এবং পাসের হার ৫৭.৬৪%। মুন্সীহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯২ জন কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন এবং পাসের হার ৫০.৫৫%। বোয়ালিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৭ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪১ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন এবং পাসের হার ৮৭.২৩%। নওগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন এবং পাসের হার ৬৯.৩৯%।
বরদিয়া কাজী সুলতান আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন এবং পাসের হার ৬০.০০%। হযরত শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫ জন কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন এবং পাসের হার ৬৭.৯০%। লাকশিবপুর ফিরোজা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন এবং পাসের হার ৬৯.৪৯%।
নায়েরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন এবং পাসের হার নবমমধৎং ৬২.৩৫%। নারায়ণপুর পপুলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫ জন পাস করেছে। কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। পাসের হার ৭৫.০০%। আধারা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ২২ জন পাস করেছে। কোনো জিপিএ-৫ নেই এবং পাসের হার ৮৪.৬২%। বহরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ নেই এবং পাসের হার ৮৩.৩৩%। বোয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন এবং পাসের হার ৪৫.৪৫%। দগরপুর আবদুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জন পাশ করেছে এবং পাসের হার ৪৬.২৯%। ধলাইতলী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন এবং পাসের হার ৪৫.৬৫%। কাচিয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৪ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন এবং পাসের হার ৬৬.৬%। কলিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন এবং পাসের হার ৬৫.৪১%।
আচলছিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন কৃতকার্য হয়েছে। কোনো জিপিএ-৫ নেই এবং পাসের হার ৬৩.৪৯%। লামচরী উচ্চ বিদ্যালয়ে এই বিদ্যালয় থেকে ২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। পাসের হার ৭০.৩৭%। পয়ালী কে বি এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন এবং পাসের হার ৬৬.৬৭%। আদর্শ স্কুল মতলব প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ নেই এবং পাসের হার ৪৭.২২%। দিঘলদী এম এ ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়: ৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জন পাস করেছে। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। পাসের হার ৫৬.৭৫%। আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন ঢালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন এবং পাসের হার ৭৫.৭৫%। ডিংগাভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়: ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৭ জন কৃতকার্য হয়েছে। কোনো জিপিএ-৫ নেই এবং পাসের হার ৬৯.২৩%।
অপরদিকে এসএসসি ভোকেশনালে উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ১৩২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন এবং পাশের হার ৭১.৭৩%। এতে মতলব জেবি সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৬০ জন, পাশের হার ৭৫.০০%। মতলব পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৫ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৪০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন এবং পাশের হার ৬১.৫৩%। বরদিয়া কাজী সুলতান আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৯ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৩২ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন এবং পাশের হার ৮২.০৫%।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন জানান, পরীক্ষার সার্বিক ফলাফল সন্তোষজনক হলেও পাসের হার আরও বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান আশানুরূপ ফল করতে পারেনি, তাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে আগামীতে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




















