ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে সরকারি খাল দখলের অভিযোগ: আদালতের নির্দেশের ৩৫ দিনেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি

  • রিয়াজ শাওন:
  • আপডেট : ১০:৪৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • 92

সরকারি খাল দখলমুক্ত ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগের মধ্যেই চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সরকারি খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলে বিলম্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। ৮ জুলাই আদালতের নির্দেশ জারির পর ১২ আগস্ট পর্যন্ত ৩৫ দিন অতিবাহিত হলেও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়েনি। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত পুনরায় নির্দেশ দিয়েছেন বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

ফরিদগঞ্জ উপজেলার চৌরাঙ্গী বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল করে দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে গত ৭ জুলাই ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিবিধ মামলা নং-০২/২০২৬ (ফরিদগঞ্জ) গ্রহণ করেন।

 

এরপর ৮ জুলাই আদালত থেকে নোটিশ জারি করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নোটিশ জারির পর ২১ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। সে হিসাবে ২৯ জুলাই ছিল প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা।

 

কিন্তু ২৯ জুলাই নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। এরপর ১২ আগস্ট পর্যন্তও প্রতিবেদন জমা পড়েনি। অর্থাৎ ৮ জুলাই আদালতের নোটিশ জারির পর ১২ আগস্ট পর্যন্ত ৩৫ দিন অতিবাহিত হলেও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।

 

এদিকে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন না পাওয়ায় আদালত আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুনরায় নির্দেশ দিয়েছেন বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

সরকারি খাল, জলাশয় ও সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করা এবং খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উদ্যোগে উচ্ছেদ, পুনঃখনন ও পানি প্রবাহ সচল রাখার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের এমন তৎপরতার মধ্যেই ফরিদগঞ্জের চৌরাঙ্গী বাজারের সরকারি খাল দখলের অভিযোগ আদালতের নজরে এসেছে।

 

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করেছেন এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনায় খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণকারী ও সেখানে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই এবং তদন্ত শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের কথা বলা হয়েছে।

 

কিন্তু আদালতের নির্দেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সরকারি খাল দখলমুক্ত করার বিষয়ে যখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানা উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে, তখন আদালতের নির্দেশে পরিচালিত তদন্তের প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

 

স্থানীয়দের মতে, সরকারি খাল দখলের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে দাখিল হলে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

 

তবে প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্বের সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তদন্ত কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন কেন জমা হয়নি—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই আদালতের তদন্ত প্রতিবেদন ও পরবর্তী আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে দায়ী করে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

 

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ আর এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

 

এখন দেখার বিষয়, আদালতের পুনর্নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয় কি না এবং প্রতিবেদনে সরকারি খাল দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে কী তথ্য উঠে আসে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

ফরিদগঞ্জে সরকারি খাল দখলের অভিযোগ: আদালতের নির্দেশের ৩৫ দিনেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি

আপডেট : ১০:৪৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি খাল দখলমুক্ত ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগের মধ্যেই চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সরকারি খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলে বিলম্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। ৮ জুলাই আদালতের নির্দেশ জারির পর ১২ আগস্ট পর্যন্ত ৩৫ দিন অতিবাহিত হলেও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়েনি। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত পুনরায় নির্দেশ দিয়েছেন বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

ফরিদগঞ্জ উপজেলার চৌরাঙ্গী বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল করে দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে গত ৭ জুলাই ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিবিধ মামলা নং-০২/২০২৬ (ফরিদগঞ্জ) গ্রহণ করেন।

 

এরপর ৮ জুলাই আদালত থেকে নোটিশ জারি করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নোটিশ জারির পর ২১ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। সে হিসাবে ২৯ জুলাই ছিল প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা।

 

কিন্তু ২৯ জুলাই নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। এরপর ১২ আগস্ট পর্যন্তও প্রতিবেদন জমা পড়েনি। অর্থাৎ ৮ জুলাই আদালতের নোটিশ জারির পর ১২ আগস্ট পর্যন্ত ৩৫ দিন অতিবাহিত হলেও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।

 

এদিকে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন না পাওয়ায় আদালত আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুনরায় নির্দেশ দিয়েছেন বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

সরকারি খাল, জলাশয় ও সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করা এবং খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উদ্যোগে উচ্ছেদ, পুনঃখনন ও পানি প্রবাহ সচল রাখার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের এমন তৎপরতার মধ্যেই ফরিদগঞ্জের চৌরাঙ্গী বাজারের সরকারি খাল দখলের অভিযোগ আদালতের নজরে এসেছে।

 

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করেছেন এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনায় খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণকারী ও সেখানে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই এবং তদন্ত শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের কথা বলা হয়েছে।

 

কিন্তু আদালতের নির্দেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সরকারি খাল দখলমুক্ত করার বিষয়ে যখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানা উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে, তখন আদালতের নির্দেশে পরিচালিত তদন্তের প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

 

স্থানীয়দের মতে, সরকারি খাল দখলের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে দাখিল হলে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

 

তবে প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্বের সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তদন্ত কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন কেন জমা হয়নি—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই আদালতের তদন্ত প্রতিবেদন ও পরবর্তী আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে দায়ী করে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

 

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ আর এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

 

এখন দেখার বিষয়, আদালতের পুনর্নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয় কি না এবং প্রতিবেদনে সরকারি খাল দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে কী তথ্য উঠে আসে।