ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল হবে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন, বাল্যবিবাহ ও জালিয়াতি ঠেকানো সহজ হবে

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৬:৫৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 112

বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে চালু হলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, গোপন বিয়ে এবং ভুয়া বিবাহ সনদ তৈরির মতো জালিয়াতি ঠেকানো সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসেই দ্রুত বিয়ে ও তালাকের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইনে ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ব্র্যাকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, শুরুতে দেশের ১০ জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ১০২টি ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন চালু করা হবে। এসব উপজেলার মধ্যে রয়েছে গাজীপুরের কালীগঞ্জ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, শেরপুরের ঝিনাইগাতী, কুড়িগ্রাম সদর, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, নড়াইল সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, সিলেট সদর, কক্সবাজারের চকরিয়া ও কিশোরগঞ্জ সদর।
নতুন ব্যবস্থায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযোগ থাকবে। ফলে বিয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়স ও পরিচয় যাচাই করা যাবে। এতে নির্ধারিত বয়সের আগে বিয়ে, আগে থেকেই বিবাহিত থাকা সত্ত্বেও গোপনে বিয়ে করা এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে নিবন্ধনের মতো ঘটনা শনাক্ত করা সহজ হবে।
প্রকল্পের আওতায় বিয়ে ও তালাকের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি দ্রুত ডিজিটাল সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, জনকল্যাণে নতুন ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ পাওয়া গেলে সরকার তা কাজে লাগাতে চায়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার নিয়ে ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের উন্নয়ন কাজ এরই মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। জাতীয় ডাটা সেন্টার থেকে ক্লাউড সার্ভার নেওয়া হয়েছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগও স্থাপন করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে ও বায়োমেট্রিক ডিভাইসও যুক্ত করা হয়েছে।
পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

ডিজিটাল হবে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন, বাল্যবিবাহ ও জালিয়াতি ঠেকানো সহজ হবে

আপডেট : ০৬:৫৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে চালু হলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, গোপন বিয়ে এবং ভুয়া বিবাহ সনদ তৈরির মতো জালিয়াতি ঠেকানো সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসেই দ্রুত বিয়ে ও তালাকের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইনে ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ব্র্যাকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, শুরুতে দেশের ১০ জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ১০২টি ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন চালু করা হবে। এসব উপজেলার মধ্যে রয়েছে গাজীপুরের কালীগঞ্জ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, শেরপুরের ঝিনাইগাতী, কুড়িগ্রাম সদর, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, নড়াইল সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, সিলেট সদর, কক্সবাজারের চকরিয়া ও কিশোরগঞ্জ সদর।
নতুন ব্যবস্থায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযোগ থাকবে। ফলে বিয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়স ও পরিচয় যাচাই করা যাবে। এতে নির্ধারিত বয়সের আগে বিয়ে, আগে থেকেই বিবাহিত থাকা সত্ত্বেও গোপনে বিয়ে করা এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে নিবন্ধনের মতো ঘটনা শনাক্ত করা সহজ হবে।
প্রকল্পের আওতায় বিয়ে ও তালাকের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি দ্রুত ডিজিটাল সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, জনকল্যাণে নতুন ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ পাওয়া গেলে সরকার তা কাজে লাগাতে চায়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার নিয়ে ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের উন্নয়ন কাজ এরই মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। জাতীয় ডাটা সেন্টার থেকে ক্লাউড সার্ভার নেওয়া হয়েছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগও স্থাপন করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে ও বায়োমেট্রিক ডিভাইসও যুক্ত করা হয়েছে।
পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।