হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধোর জেরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সালিশী বৈঠকের রায় ও অঙ্গীকারনামার সিদ্ধান্ত বাদী নিজেই মানেনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের দেশগাঁও গ্রামের খিজির আহম্মদ মিজানসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠে।
বুধবার বিকালে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে হাজীগঞ্জে কর্মরত সংবাদকর্মীদের কাছে এমন অভিযোগ করেন, একই গ্রামের ভুক্তভোগী মাসুদ হোসেন, মো. সেলিম, আলমগীর হোসেন ও বাবুল হোসেন। তারা, খিজির আহম্মেদসহ, আক্তার হোসেন ও লিটন’সহ তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হামলা, মারধরের ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল তাদের পরিবারের ৫ সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ করেন, খিজির আহম্মদ মিজান। ওই অভিযোগের বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে গত ১৫ জুলাই চাঁদপুরে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে গণ্যমান্য ব্যক্তি’সহ দুই পক্ষের লোকজন উপস্থিতিতে তাদের দলিল ও খতিয়ানসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়। এতে অভিযোগের বিবাদী পক্ষ করফুলের নেছা ও তফুরের নেছা দলিল মুলে ৯.৬২ শতাংশ ভূমি মালিকানার প্রমাণ পাওয়া যায় এবং তা বিএস রেকর্ডে খিজির আহম্মদ গংদের নামে রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।
এরপর উভয় পক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯.৬২ শতাংশ ভূমির মধ্যে ৪.৬২ শতাংশ ভূমি অভিযোগের বাদী হতে বিবাদী পক্ষকে দখল বুঝিয়ে দিবে। বাকী ৫ শতাংশ করফুলের নেছা ও তফুরের নেছা বা তাদের ওয়ারিশরা দাবী করলে খিজির আহম্মদ মিজান গং শালিশগনের মাধ্যমে বুঝাইয়া দিতে বাধ্য থাকবেন বলে অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করা হয়।
এই অঙ্গীকারনামার শর্তানুযায়ী সম্প্রতি এলাকায় সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে ভূমির পরিমাপ অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে তর্ক-বিতর্কের জেরে খিজির আহম্মদ মিজানের পরিবারের সদস্যরা মাসুদের পরিবারে উপর অতর্কিত হামলা ও মারধর শুরু করেন। এরপর তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় গুরুতর আহত মাসুদের স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যান বলে সংবাদকর্মীদের জানান।
বর্তমানে মাসুদের স্ত্রী রাজধানী ঢাকায় চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগী মাসুদ, সেলিম, আলমগীর ও বাবুল আরো জানান, মারধর করেও ক্ষান্ত হয়নি খিজির আহম্মদ মিজান ও তার পরিবারের সদস্যরা। তাদেরকে এখন প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন বলে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে খিজির আহম্মদ মিজান মুঠোফোনে সংবাদকর্মীদের জানান, ভূমি পরিমাপের বৈঠকে তর্ক-বিতর্কের জেরে তাদের পক্ষের একজন সালিশদারকে মারধরের হুমকি দেন মাসুদ। পরে ওই বৈঠক ভেস্তে যায়। এরপর মাসুদ গংরা জোরপূর্বক ভূমি পরিমাপ করতে গেলে বাধা দেন। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো তাদের উপর হামলা ও মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এসময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাসুদের স্ত্রী এমনিতেই কিডনিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ও গুরুতর অসুস্থ। তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন। তাকে কেউ মারধর করেনি।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওসার আলম ভুঁইয়া সংবাদকর্মীদের বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















