ঢাকা ০৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরের কচুয়ায় বিদ্যালয়ের টিফিন পিরিয়ডে স্কুলছাত্রীকে দোকানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৬:০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • 91
চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুটিয়া লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে টিফিন পিরিয়ডে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বিদ্যালয়ের পাশে একটি পরিত্যক্ত চায়ের দোকানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবক আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত আক্তার হোসেন লক্ষ্মীপুর গ্রামের মিজানের ছেলে।
রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে কুটিয়া লক্ষ্মীপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের টিফিন চলাকালীন সময়ে শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত অভিযুক্তের বন্ধ চায়ের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বন্ধ দোকানের ভেতর থেকে শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত যুবক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ছাত্রীর বাবা আমান উল্লাহ জানান, আমার মেয়ের সাথে স্কুলের পাশেই এধরনের ঘটনা ঘটে, আমাকে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শান্তনা দিয়ে বলেছেন তারা সঠিক বিচার করে দিবেন। আমি তাদের বিচারের অপেক্ষায় কার্যক্রম দেখে থানায় মামলা দায়ের করবো
এ বিষয়ে কুটিয়া লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার দিন প্রশিক্ষণজনিত কারণে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। এ ছাড়া এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাঁকে কেউ জানাননি।
কচুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে তাঁকে কেউ অবগত করেননি। তবে আগামীকাল সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায়ের কাছে বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। অভিভাবক আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তলব করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে আদালতে জবাবদিহি করতে হবে।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তার প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করা এবং দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সোনাতলায় ৭ নভেম্বর জাতীয় সংহতি ও বিপ্লবী দিবস উপলক্ষে  বিএনপির প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরের কচুয়ায় বিদ্যালয়ের টিফিন পিরিয়ডে স্কুলছাত্রীকে দোকানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

আপডেট : ০৬:০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুটিয়া লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে টিফিন পিরিয়ডে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বিদ্যালয়ের পাশে একটি পরিত্যক্ত চায়ের দোকানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবক আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত আক্তার হোসেন লক্ষ্মীপুর গ্রামের মিজানের ছেলে।
রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে কুটিয়া লক্ষ্মীপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের টিফিন চলাকালীন সময়ে শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত অভিযুক্তের বন্ধ চায়ের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বন্ধ দোকানের ভেতর থেকে শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত যুবক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ছাত্রীর বাবা আমান উল্লাহ জানান, আমার মেয়ের সাথে স্কুলের পাশেই এধরনের ঘটনা ঘটে, আমাকে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শান্তনা দিয়ে বলেছেন তারা সঠিক বিচার করে দিবেন। আমি তাদের বিচারের অপেক্ষায় কার্যক্রম দেখে থানায় মামলা দায়ের করবো
এ বিষয়ে কুটিয়া লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার দিন প্রশিক্ষণজনিত কারণে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। এ ছাড়া এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাঁকে কেউ জানাননি।
কচুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে তাঁকে কেউ অবগত করেননি। তবে আগামীকাল সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায়ের কাছে বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। অভিভাবক আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তলব করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে আদালতে জবাবদিহি করতে হবে।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তার প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করা এবং দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।