ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর বাজেয়াপ্ত সম্পত্তিতে নতুন করে সীমানা পিলার স্থাপন – Rknews71

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৫:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • 120
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ :
আদালত কর্তৃক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি হাজীগঞ্জের রাশেদ চৌধুরীর বাজেয়াপ্তকৃত এবং সরকারি দখলে থাকা সম্পত্তিতে (ভূমি) নতুন করে সীমানা পিলার ও সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ২০১৪ সালে স্থাপনকৃত সীমানা পিলার ও সাইনবোর্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলামের নির্দেশনায় নতুন করে এই সীমানা পিলারা স্থাপন ও সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়।
বুধবার দুপুরে উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামের উকিল বাড়িতে উপস্থিত হয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান মানিক পুনরায় সীমানা পিলার ও বাঁশের খুঁটিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। এ সময় তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, খাস খতিয়ানভুক্ত ১১৫ শতাংশ ভূমি আমাদের (সরকারি) দখলে রয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষনের অংশ হিসাবে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৪৪.০০.০০০০.০৭৪.০৬.০৫৫.০৯-৭৮৩ ও ৪৪.০০.০০০০.০৭৪.০৬.০৫৫.০৯-৭৮৪ স্মারক এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মোকাদ্দমা নং ২২/২০১৩-২০১৪ আদেশমূলে ওই ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী মৌজার সাবেক ২৪৬, হাল ৯৭ দাগে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের অন্যতম রাশেদ চৌধুরীর মোট ১১৫ শতাংশ ভূমি সরকার ১নং খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই ১১৫ শতাংশের ভূমির মধ্যে ওই মৌজার সাবেক ৬৩১, হাল ১১৭২ দাগে ২৮ শতাংশ নাল, সাবেক ৪০২, হাল ৩৯৩ দাগে ১২ শতাংশ বাড়ি ও সাবেক ৫২৫, হাল ১৪১ দাগে ৭৫ শতাংশ নাল ভূমি রয়েছে। যার খারিজ খতিয়ান নং- ১৩৬, বিএস ৩৮৬, ৪২২ ও ৩৮৫। এরপর ২০১৪ সালে উপজেলা প্রশাসন রাশেদ চৌধুরীর ওই সম্পত্তি সরকারি দখলে নিয়ে সীমানা পিলার স্থাপন ও সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দেয়।
দীর্ঘদিন হওয়ায় সীমানা পিলার ও সাইনবোর্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলামের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বুধবার (৩১ আগস্ট) নতুন করে ওই সম্পত্তিতে সীমানা পিলার স্থাপন ও সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়। এর আগে সরকারি এ সম্পত্তি নিজেদের দখলে সম্পূর্ণ আছে কিনা, তার জন্য নতুন করে আবারো মাপঝোঁখ করে নেন কানুনগো ও সার্ভেয়ার।
এ সময় উপেজলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কানুনগো মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, সার্ভেয়ার মো. কাজল মিয়া, নাজির মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. শুক্কুর মোল্লা টিটুসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এ দিকে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি বাজেয়াপÍকৃত সম্পত্তিতে নতুন করে সীমানা পিলার স্থাপন ও সাইনবোর্ড সাঁটানোয় স্থানীয় ও এলাকাবাসীদের মিষ্টিমুখ করান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আহসান হাবিব। ২০১৪ সালে তিনি ওই এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেন।
মিষ্টিমুখের কারণ হিসাবে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মধ্যে অন্যতম রাশেদ চৌধুরী। সে (রাশেদ চৌধুরী) ১৯৭৪ সালে আমার বাবাকে বাড়ি থকে ধরে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে হত্যা করে ফেনী নদীতে লাশ ফেলে দেয়। পরবর্তীতে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হলে। ওই মামলা জামিনে বের হয়ে এসে তৎকালীন সময়ে মামলার সকল নথি গায়েব করে ফেলে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর বাজেয়াপ্ত সম্পত্তিতে নতুন করে সীমানা পিলার স্থাপন – Rknews71

আপডেট : ০৫:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২২
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ :
আদালত কর্তৃক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি হাজীগঞ্জের রাশেদ চৌধুরীর বাজেয়াপ্তকৃত এবং সরকারি দখলে থাকা সম্পত্তিতে (ভূমি) নতুন করে সীমানা পিলার ও সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ২০১৪ সালে স্থাপনকৃত সীমানা পিলার ও সাইনবোর্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলামের নির্দেশনায় নতুন করে এই সীমানা পিলারা স্থাপন ও সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়।
বুধবার দুপুরে উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামের উকিল বাড়িতে উপস্থিত হয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান মানিক পুনরায় সীমানা পিলার ও বাঁশের খুঁটিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। এ সময় তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, খাস খতিয়ানভুক্ত ১১৫ শতাংশ ভূমি আমাদের (সরকারি) দখলে রয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষনের অংশ হিসাবে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৪৪.০০.০০০০.০৭৪.০৬.০৫৫.০৯-৭৮৩ ও ৪৪.০০.০০০০.০৭৪.০৬.০৫৫.০৯-৭৮৪ স্মারক এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মোকাদ্দমা নং ২২/২০১৩-২০১৪ আদেশমূলে ওই ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী মৌজার সাবেক ২৪৬, হাল ৯৭ দাগে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের অন্যতম রাশেদ চৌধুরীর মোট ১১৫ শতাংশ ভূমি সরকার ১নং খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই ১১৫ শতাংশের ভূমির মধ্যে ওই মৌজার সাবেক ৬৩১, হাল ১১৭২ দাগে ২৮ শতাংশ নাল, সাবেক ৪০২, হাল ৩৯৩ দাগে ১২ শতাংশ বাড়ি ও সাবেক ৫২৫, হাল ১৪১ দাগে ৭৫ শতাংশ নাল ভূমি রয়েছে। যার খারিজ খতিয়ান নং- ১৩৬, বিএস ৩৮৬, ৪২২ ও ৩৮৫। এরপর ২০১৪ সালে উপজেলা প্রশাসন রাশেদ চৌধুরীর ওই সম্পত্তি সরকারি দখলে নিয়ে সীমানা পিলার স্থাপন ও সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দেয়।
দীর্ঘদিন হওয়ায় সীমানা পিলার ও সাইনবোর্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলামের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বুধবার (৩১ আগস্ট) নতুন করে ওই সম্পত্তিতে সীমানা পিলার স্থাপন ও সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়। এর আগে সরকারি এ সম্পত্তি নিজেদের দখলে সম্পূর্ণ আছে কিনা, তার জন্য নতুন করে আবারো মাপঝোঁখ করে নেন কানুনগো ও সার্ভেয়ার।
এ সময় উপেজলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কানুনগো মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, সার্ভেয়ার মো. কাজল মিয়া, নাজির মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. শুক্কুর মোল্লা টিটুসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এ দিকে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি বাজেয়াপÍকৃত সম্পত্তিতে নতুন করে সীমানা পিলার স্থাপন ও সাইনবোর্ড সাঁটানোয় স্থানীয় ও এলাকাবাসীদের মিষ্টিমুখ করান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আহসান হাবিব। ২০১৪ সালে তিনি ওই এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেন।
মিষ্টিমুখের কারণ হিসাবে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মধ্যে অন্যতম রাশেদ চৌধুরী। সে (রাশেদ চৌধুরী) ১৯৭৪ সালে আমার বাবাকে বাড়ি থকে ধরে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে হত্যা করে ফেনী নদীতে লাশ ফেলে দেয়। পরবর্তীতে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হলে। ওই মামলা জামিনে বের হয়ে এসে তৎকালীন সময়ে মামলার সকল নথি গায়েব করে ফেলে।