ঢাকা ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরের কচুয়ায় আজ রঘুনাথপুর গনহত্যা দিবস অযত্নে- অবহেলায় পড়ে আছে স্মৃতিস্তম্ভ রাতের আধাঁরে নেশাখোরদের আড্ডা – Rknews71

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৫:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • 115

আহসান হাবীব সুমন, :

চাঁদপুরের কচুয়ায় আজ রঘুনাথপুর গনহত্যা দিবস । শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ১৯৯৬ সনে গঠিত হয় উপজেলার কাদলা ইউনিয়নে অবস্থিত রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠের দক্ষিন কোনায় শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ। প্রতি বছরে ৮ সেপ্টেম্বর এ দিনে শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে রঘুনাথপুর এলাকাবাসীদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে ৮ সেপ্টেম্বরকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ।
বর্তমানে অযত্নে -অহেলায় পড়ে আছে সেই গনহত্যা শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ,পাশেই রয়েছে টয়লেট,রাতের আধাঁরে নেশাখোরদের আড্ডা বসে। এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের দাবী রঘুনাথপুর গণহত্যা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণীয় করে রাখতে একটি সৌন্দর্যমতি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা

কচুয়া, হাজীগঞ্জ ও মতলব এই তিন উপজেলার মেহনায় অবস্থিত। ডাকাতিয়া নদীর নৌযান চলাচলের মহাসংযোগ প্রবাহিত বিশাল বোয়ালজুড়ি খালের তীরে রঘুনাথপুর বাজারটি তৎকালীন ছিল জমজমাট। তিন থানার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এলাকাটি মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিতি ছিল। ১৯৭১ সানের এ দিনে কচুয়া উপজেলার রঘুনাথপুর বাজারে যুদ্ধকালে হাজীগঞ্জ উপজেলার কিছু সহযোদ্ধা মুক্তাঞ্চল ভেবে কোন প্রকার ডিফেন্স ছাড়াই রঘুনাথপুর বাজারে অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে ঢুকে পড়ে।
তারা কেউ চুল কাটানোয় কেউ ছবি উঠানো নিয়ে ব্যস্ত ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যে রাজাকারবাহিনী বিপরীত দিক হতে বাজারে ঢুকে ঘেরাও করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধারা বিচ্ছিন্নভাবে পজিশনে গেলেও আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা মতিন পজিশনে থাকা অবস্থায় আটকা পড়ে এবং এক সময় তার গুলি ফুরিয়ে যায়। শত্রুবাহিনীর ব্রাশফায়ারে মতিনের জীবন প্রদীপ চিরতরে নিভিয়ে যায়।

পাক-হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে প্রায় অর্ধশত লোক শহীদ হন। অগণিত লাশের মধ্যে যে কয়জনের নাম জানা যায় তারা হলেন, শহীদ মোঃ শামছুল হক, শহীদ জুনাব আলী, শহীদ নজরুল ইসলাম ভূইয়া, শহীদ মোয়াজ্জেম হোসেন, শহীদ আবু মিয়া (ধড্ডা), শহীদ আনছর আলী মিস্ত্রী (মনপুরা), শহীদ শামছুল হক-২ ও স্বর্গীয় গিরিস চন্দ্র সরকার প্রমুখ। শহীদদের স্মরণীয় করে রাখতে রঘুনাথপুর বাজারে একটি ছোট স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে।
বর্তমানে স্মৃতিস্তম্ভটি অযত্নে অবহেলায় পরে রয়েছে । স্মৃতিস্তম্ভটির পাশে রয়েছে রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশরুম (টয়লেট) এছারা রাতে আধাঁরে চলে জুয়া নেশার আড্ডা । এলাকাবাসীর দাবি, রঘুনাথপুর গণহত্যা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণীয় করে রাখতে একটি সৌন্দর্যমতি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা।

কচুয়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আলহাজ্ব জাবের মিয়া জানান,১৯৭১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বুধবার। সেদিন ছিলো রঘুনাথপুর বাজারের সাপ্তাহিক হাটবার। প্রায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়েছিল বাজারে। ভরা বর্ষায় চতুর্দিক থেকে নৌকাযোগে ক্রেতা-বিক্রেতায় বাজারটি ছিল পরিপূর্ণ। আনুমানিক বিকেল ৩টায় ৫০/৬০ জন রাজাকার ছইওয়ালা ৬/৭টি নৌকায় করে বাজারের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক দিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। তারপর রাজাকাররা চালায় নির্বিচার গুলি ও লুটতরাজ। এসময় অনেক মুক্তিযোদ্ধা,শিক্ষার্থীসহ অনেকে তখন শহীদ হয় । গনহত্যায় শহীদদদের স্মৃতি সংরক্ষন করার জন্য তৈরি করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ । সেই স্মৃতিস্তম্ভটির পাশে বাথরুম নির্মান করা হয়েছে। এটির তীব্র নিন্দা জানাই ।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন সময়ে তিন থানার মুক্তিযুদ্ধাগন এ রঘুনাথপুর বাজারে এসে বিভিন্ন কাজকর্ম করার জন্য মিলিত হতো । ওই সময়ে রাজাকার বাহীনি পূর্বপরিকল্পিত ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর গুলি বর্ষন শুরু করলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা তখন শহীদ হন । দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গনহত্যায় শহীদদের স্মৃতি স্মরন করার জন্য তৈরি করা স্মৃতিস্তম্ভ সেই স্মৃতিস্তম্ভটি বর্তমানে অবহেলায় অযত্নে পরে আছে আমি এটি সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করেছিলাম কেউ গুরুত্ব দেইনি ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

চাঁদপুরের কচুয়ায় আজ রঘুনাথপুর গনহত্যা দিবস অযত্নে- অবহেলায় পড়ে আছে স্মৃতিস্তম্ভ রাতের আধাঁরে নেশাখোরদের আড্ডা – Rknews71

আপডেট : ০৫:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

আহসান হাবীব সুমন, :

চাঁদপুরের কচুয়ায় আজ রঘুনাথপুর গনহত্যা দিবস । শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ১৯৯৬ সনে গঠিত হয় উপজেলার কাদলা ইউনিয়নে অবস্থিত রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠের দক্ষিন কোনায় শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ। প্রতি বছরে ৮ সেপ্টেম্বর এ দিনে শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে রঘুনাথপুর এলাকাবাসীদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে ৮ সেপ্টেম্বরকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ।
বর্তমানে অযত্নে -অহেলায় পড়ে আছে সেই গনহত্যা শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ,পাশেই রয়েছে টয়লেট,রাতের আধাঁরে নেশাখোরদের আড্ডা বসে। এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের দাবী রঘুনাথপুর গণহত্যা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণীয় করে রাখতে একটি সৌন্দর্যমতি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা

কচুয়া, হাজীগঞ্জ ও মতলব এই তিন উপজেলার মেহনায় অবস্থিত। ডাকাতিয়া নদীর নৌযান চলাচলের মহাসংযোগ প্রবাহিত বিশাল বোয়ালজুড়ি খালের তীরে রঘুনাথপুর বাজারটি তৎকালীন ছিল জমজমাট। তিন থানার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এলাকাটি মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিতি ছিল। ১৯৭১ সানের এ দিনে কচুয়া উপজেলার রঘুনাথপুর বাজারে যুদ্ধকালে হাজীগঞ্জ উপজেলার কিছু সহযোদ্ধা মুক্তাঞ্চল ভেবে কোন প্রকার ডিফেন্স ছাড়াই রঘুনাথপুর বাজারে অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে ঢুকে পড়ে।
তারা কেউ চুল কাটানোয় কেউ ছবি উঠানো নিয়ে ব্যস্ত ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যে রাজাকারবাহিনী বিপরীত দিক হতে বাজারে ঢুকে ঘেরাও করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধারা বিচ্ছিন্নভাবে পজিশনে গেলেও আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা মতিন পজিশনে থাকা অবস্থায় আটকা পড়ে এবং এক সময় তার গুলি ফুরিয়ে যায়। শত্রুবাহিনীর ব্রাশফায়ারে মতিনের জীবন প্রদীপ চিরতরে নিভিয়ে যায়।

পাক-হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে প্রায় অর্ধশত লোক শহীদ হন। অগণিত লাশের মধ্যে যে কয়জনের নাম জানা যায় তারা হলেন, শহীদ মোঃ শামছুল হক, শহীদ জুনাব আলী, শহীদ নজরুল ইসলাম ভূইয়া, শহীদ মোয়াজ্জেম হোসেন, শহীদ আবু মিয়া (ধড্ডা), শহীদ আনছর আলী মিস্ত্রী (মনপুরা), শহীদ শামছুল হক-২ ও স্বর্গীয় গিরিস চন্দ্র সরকার প্রমুখ। শহীদদের স্মরণীয় করে রাখতে রঘুনাথপুর বাজারে একটি ছোট স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে।
বর্তমানে স্মৃতিস্তম্ভটি অযত্নে অবহেলায় পরে রয়েছে । স্মৃতিস্তম্ভটির পাশে রয়েছে রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশরুম (টয়লেট) এছারা রাতে আধাঁরে চলে জুয়া নেশার আড্ডা । এলাকাবাসীর দাবি, রঘুনাথপুর গণহত্যা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণীয় করে রাখতে একটি সৌন্দর্যমতি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা।

কচুয়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আলহাজ্ব জাবের মিয়া জানান,১৯৭১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বুধবার। সেদিন ছিলো রঘুনাথপুর বাজারের সাপ্তাহিক হাটবার। প্রায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়েছিল বাজারে। ভরা বর্ষায় চতুর্দিক থেকে নৌকাযোগে ক্রেতা-বিক্রেতায় বাজারটি ছিল পরিপূর্ণ। আনুমানিক বিকেল ৩টায় ৫০/৬০ জন রাজাকার ছইওয়ালা ৬/৭টি নৌকায় করে বাজারের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক দিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। তারপর রাজাকাররা চালায় নির্বিচার গুলি ও লুটতরাজ। এসময় অনেক মুক্তিযোদ্ধা,শিক্ষার্থীসহ অনেকে তখন শহীদ হয় । গনহত্যায় শহীদদদের স্মৃতি সংরক্ষন করার জন্য তৈরি করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ । সেই স্মৃতিস্তম্ভটির পাশে বাথরুম নির্মান করা হয়েছে। এটির তীব্র নিন্দা জানাই ।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন সময়ে তিন থানার মুক্তিযুদ্ধাগন এ রঘুনাথপুর বাজারে এসে বিভিন্ন কাজকর্ম করার জন্য মিলিত হতো । ওই সময়ে রাজাকার বাহীনি পূর্বপরিকল্পিত ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর গুলি বর্ষন শুরু করলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা তখন শহীদ হন । দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গনহত্যায় শহীদদের স্মৃতি স্মরন করার জন্য তৈরি করা স্মৃতিস্তম্ভ সেই স্মৃতিস্তম্ভটি বর্তমানে অবহেলায় অযত্নে পরে আছে আমি এটি সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করেছিলাম কেউ গুরুত্ব দেইনি ।