ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে ডাকাতিয়া নদীতে চলছে অবৈধ ড্রেজার!

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৭:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০২৩
  • 57

 

রিয়াজ শাওন:

হাজীগঞ্জে ডাকাতিয়া নদীতে নিষিদ্ধ ড্রেজার বসিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের গন্ধর্ব্যপুর বাজারে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীতে প্রায় দেড় মাস ধরে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর এই অংশটি হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার সীমা রেখা হওয়ায় কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না দুই উপজেলার স্থানীয় প্রশাসন।

জানা যায়, শাহরাস্তি উপজেলার শোরশাক গ্রামের মনির হোসেন ও আজাদ হোসেন নামের এই দুই ব্যক্তি অবৈধ ভাবে নদী থেকে এই বালু উত্তোলন করে আসছে।

এতে ডাকাতিয়া নদী তীর ভাঙ্গণে হুমকিতে রয়েছে। সেই সাথে তীরের থাকা সেচ পাম্প ও বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে।

বালু উত্তোলনে স্থানীয়রা বাঁধা দিলে মামলা- হামলা এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানির ভয় দেখায় আজিজ ও মনির এবং তার লোকেরা। আর অবাধে নদী থেকে প্রায় দেড় মাস ধরে বালু উত্তোলন করে আসলেও প্রশাসনিক সহযোগিতা না পাওয়ার কথা জানার স্থানীয় সেচ পাম্প কমিটির সভাপতি আব্দুল মমিন।

বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়ে স্থানীয় কৃষকরা হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেও কোন সূরাহা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন কৃষক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গন্ধর্ব্যপুর বাজারের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীতে একটি নিষিদ্ধ মিনি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এ বালু দিয়ে স্থানীয় গন্ধর্ব্যপুর গ্রামের তিনটি পুকুর ও ডোবা ও কৃষি জমি ভরাট করা হয়েছে।

অবৈধ ভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে একটি পক্ষ লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে প্রায় অর্থ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ সিন্ডিকেট।

যদিও কয়েক মাস আগেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ—পরিবহন কর্তৃপক্ষ এর উদ্যোগে ডাকাতিয়া নদীটি ড্রেজিং করা হয়। এর কিছুদিন না জেতেই ড্রেজার ব্যবসায়ী আজিজ ডাকাতিয়া নদীতে আবার ড্রেজার বসিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করেন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ফিরোজ আহম্মেদ হীরা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান সাহেবের নির্দেশে নদী থেকে বালু উত্তোলনকারীদের ড্রেজার মেশিন বন্ধ করতে বলি। ডাকাতিয়া নদীর শাহরাস্তি অংশ থেকে তারা বালু উত্তোলন করেন বলে ড্রেজার ব্যবসায়ী জানান। তিনি আমার কথার কোন তোয়াক্কা করেনি।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করার বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি ঢাকায় থেকে গিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে জেলা পুলিশের প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

হাজীগঞ্জে ডাকাতিয়া নদীতে চলছে অবৈধ ড্রেজার!

আপডেট : ০৭:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০২৩

 

রিয়াজ শাওন:

হাজীগঞ্জে ডাকাতিয়া নদীতে নিষিদ্ধ ড্রেজার বসিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের গন্ধর্ব্যপুর বাজারে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীতে প্রায় দেড় মাস ধরে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর এই অংশটি হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার সীমা রেখা হওয়ায় কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না দুই উপজেলার স্থানীয় প্রশাসন।

জানা যায়, শাহরাস্তি উপজেলার শোরশাক গ্রামের মনির হোসেন ও আজাদ হোসেন নামের এই দুই ব্যক্তি অবৈধ ভাবে নদী থেকে এই বালু উত্তোলন করে আসছে।

এতে ডাকাতিয়া নদী তীর ভাঙ্গণে হুমকিতে রয়েছে। সেই সাথে তীরের থাকা সেচ পাম্প ও বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে।

বালু উত্তোলনে স্থানীয়রা বাঁধা দিলে মামলা- হামলা এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানির ভয় দেখায় আজিজ ও মনির এবং তার লোকেরা। আর অবাধে নদী থেকে প্রায় দেড় মাস ধরে বালু উত্তোলন করে আসলেও প্রশাসনিক সহযোগিতা না পাওয়ার কথা জানার স্থানীয় সেচ পাম্প কমিটির সভাপতি আব্দুল মমিন।

বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়ে স্থানীয় কৃষকরা হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেও কোন সূরাহা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন কৃষক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গন্ধর্ব্যপুর বাজারের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীতে একটি নিষিদ্ধ মিনি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এ বালু দিয়ে স্থানীয় গন্ধর্ব্যপুর গ্রামের তিনটি পুকুর ও ডোবা ও কৃষি জমি ভরাট করা হয়েছে।

অবৈধ ভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে একটি পক্ষ লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে প্রায় অর্থ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ সিন্ডিকেট।

যদিও কয়েক মাস আগেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ—পরিবহন কর্তৃপক্ষ এর উদ্যোগে ডাকাতিয়া নদীটি ড্রেজিং করা হয়। এর কিছুদিন না জেতেই ড্রেজার ব্যবসায়ী আজিজ ডাকাতিয়া নদীতে আবার ড্রেজার বসিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করেন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ফিরোজ আহম্মেদ হীরা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান সাহেবের নির্দেশে নদী থেকে বালু উত্তোলনকারীদের ড্রেজার মেশিন বন্ধ করতে বলি। ডাকাতিয়া নদীর শাহরাস্তি অংশ থেকে তারা বালু উত্তোলন করেন বলে ড্রেজার ব্যবসায়ী জানান। তিনি আমার কথার কোন তোয়াক্কা করেনি।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করার বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি ঢাকায় থেকে গিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।