ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামাইয়ের বিরুদ্ধে শ্বশুরের বসতঘর পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ, 

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৯:১২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪
  • 53
চাঁদপুরে স্ত্রীর ওপর ক্ষোভের জেরে শ্বশুরের বসতঘর পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে জামাইয়ের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এর আগে তাঁর মেয়ের একটি হাত ভেঙ্গে দিয়েছে নিষ্ঠুর জামাই। এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের পূর্ব মদনা গ্রামে বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটিদল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বসতঘরের সকল আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির।
সরেজমিনে জানা যায়, পূর্ব মদনা গ্রামের মিন্টু পাঠানের ছোট মেয়ে নুপুর আক্তারের সাথে পার্শ্ববর্তী পশ্চিম মদনা গ্রামের শাজাহান খাঁনের ছেলে মেহেদী  হাসান সানীর সাথে দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্কের জেরে গত ৮ মাস পূর্বে স্থানীয় মৌলভি দ্বারা বিয়ে হয়। বিয়ের পর উভয় পরিবারের লোকজন একে অপরকে মেনে  নিলেও যৌতুকসহ বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে তাঁদের পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সালিশদের একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলে  দুইটি পরিবারের মাঝে চলমান বিরোধ আগুনে ঘি ঢালার মতো অবস্থার তৈরি হয়। এক পর্যায়ে নুপুর আক্তারকে মারধর করে তার একটি হাত ভেঙ্গে দেয় তার শ্বশুর পরিবারের লোকজন।
বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত মিন্টু পাঠান ও তার স্ত্রী শাহিদা বেগম বলেন, মেয়েটিকে বিয়ে দেয়াড় পর থেকেই মেয়ের জামাই যৌতুক দাবিসহ বিভিন্ন অযুহাতে আমাদের মেয়েটির ওপর নির্মম অত্যাচার করেছে। পিটিয়ে মেয়েটির হাত ভেঙ্গে দেয়ারপর তাকে ডাক্তার পর্যন্ত দেখায়নি। এক পর্যায়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে আমরা ঢাকাতে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি। এখনো মেয়ের চিকিৎসা চলমান। মেয়েকেসহ আমাদেরকে জামাই একাধিকবার হুমকি দিয়েছে, সে আমাদের ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিবে, সে যে তার কথা বাস্তবে প্রমাণ করবে আমরা আগে বুঝতে পারিনি। জামাই ছাড়া আমাদের কারো সাথে কোনো শত্রুতা নাই।
নুপুর আক্তার বলেন, স্বামী মেহেদি হাসান সানীর নির্যাতনের শিকার হয়ে মায়ের কাছে এসে আশ্রয় নেন। তাই সে হুমকি দিয়েছিল আমাদের বসতঘরে আগুন দিবে। হুমকির পর পরই আমাদের বসত ঘরে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের সময় কয়েকজনকে পালিয়ে যেতে দেখেছিল স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিয়ে সাবেক শালিসদার ইউনুছ বলেন, অভিযুক্ত জামায় মেহেদি হাসান সানী কর্তৃক এই মেয়েটি অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমিসহ অন্যান্যরা বিভিন্ন সময়ে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে তাদের মিলিয়ে দিলেও ফের নির্যাতনের শিকার হতে হতো মেয়েটিকে।
স্থানীয়বাসিন্দা মজিব গাজি,তাহের, মাসুদ, শফিকসহ আরো অনেকেই বলেন, মেয়েটিকে অনেক নির্যাতন করতো তাঁর স্বামীর পরিবার। এলাকাতে মিন্টুর পরিবারের সাথে কারো কোনো প্রকার শত্রুতা নেই। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।
এদিকে মেহেদীর গ্রামের বাড়িতে খোঁজখবর নিতে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, মেহেদীর বাবা শাহাজাহান খাঁন যতটা ভদ্র মানুষ, ঠিক তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অভদ্র তার ছেলে মেহেদি হাসান সানী।
তাদের বাড়িতে গিয়ে মেহেদি হাসান সানীর সাথে কথা হলে সে বলেন, আমাদের স্বামী স্ত্রীর বিভিন্ন সমস্যা আছে, আমার স্ত্রী নুপুরের হাতে আমার দ্বারা আঘাত হয়েছে ঠিক। কিন্তু তাদের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা কামরুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। অগ্নিকাণ্ডের সময় বিদ্যুৎ ছিল না, গ্যাস সিলিন্ডার বিষপোরণ হয়নি। তবে বসতঘরটির কোনো আসবাবপত্র উদ্ধার করা যায়নি। বিষয়টি রহস্যজনক অগ্নীকান্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উল্লিখিত ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বসতঘরে অগ্নীকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুই স্ট্যাম্পে একই নম্বর, ভেন্ডারও নেই অস্তিত্ব!

জামাইয়ের বিরুদ্ধে শ্বশুরের বসতঘর পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ, 

আপডেট : ০৯:১২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪
চাঁদপুরে স্ত্রীর ওপর ক্ষোভের জেরে শ্বশুরের বসতঘর পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে জামাইয়ের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এর আগে তাঁর মেয়ের একটি হাত ভেঙ্গে দিয়েছে নিষ্ঠুর জামাই। এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের পূর্ব মদনা গ্রামে বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটিদল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বসতঘরের সকল আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির।
সরেজমিনে জানা যায়, পূর্ব মদনা গ্রামের মিন্টু পাঠানের ছোট মেয়ে নুপুর আক্তারের সাথে পার্শ্ববর্তী পশ্চিম মদনা গ্রামের শাজাহান খাঁনের ছেলে মেহেদী  হাসান সানীর সাথে দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্কের জেরে গত ৮ মাস পূর্বে স্থানীয় মৌলভি দ্বারা বিয়ে হয়। বিয়ের পর উভয় পরিবারের লোকজন একে অপরকে মেনে  নিলেও যৌতুকসহ বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে তাঁদের পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সালিশদের একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলে  দুইটি পরিবারের মাঝে চলমান বিরোধ আগুনে ঘি ঢালার মতো অবস্থার তৈরি হয়। এক পর্যায়ে নুপুর আক্তারকে মারধর করে তার একটি হাত ভেঙ্গে দেয় তার শ্বশুর পরিবারের লোকজন।
বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত মিন্টু পাঠান ও তার স্ত্রী শাহিদা বেগম বলেন, মেয়েটিকে বিয়ে দেয়াড় পর থেকেই মেয়ের জামাই যৌতুক দাবিসহ বিভিন্ন অযুহাতে আমাদের মেয়েটির ওপর নির্মম অত্যাচার করেছে। পিটিয়ে মেয়েটির হাত ভেঙ্গে দেয়ারপর তাকে ডাক্তার পর্যন্ত দেখায়নি। এক পর্যায়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে আমরা ঢাকাতে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি। এখনো মেয়ের চিকিৎসা চলমান। মেয়েকেসহ আমাদেরকে জামাই একাধিকবার হুমকি দিয়েছে, সে আমাদের ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিবে, সে যে তার কথা বাস্তবে প্রমাণ করবে আমরা আগে বুঝতে পারিনি। জামাই ছাড়া আমাদের কারো সাথে কোনো শত্রুতা নাই।
নুপুর আক্তার বলেন, স্বামী মেহেদি হাসান সানীর নির্যাতনের শিকার হয়ে মায়ের কাছে এসে আশ্রয় নেন। তাই সে হুমকি দিয়েছিল আমাদের বসতঘরে আগুন দিবে। হুমকির পর পরই আমাদের বসত ঘরে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের সময় কয়েকজনকে পালিয়ে যেতে দেখেছিল স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিয়ে সাবেক শালিসদার ইউনুছ বলেন, অভিযুক্ত জামায় মেহেদি হাসান সানী কর্তৃক এই মেয়েটি অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমিসহ অন্যান্যরা বিভিন্ন সময়ে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে তাদের মিলিয়ে দিলেও ফের নির্যাতনের শিকার হতে হতো মেয়েটিকে।
স্থানীয়বাসিন্দা মজিব গাজি,তাহের, মাসুদ, শফিকসহ আরো অনেকেই বলেন, মেয়েটিকে অনেক নির্যাতন করতো তাঁর স্বামীর পরিবার। এলাকাতে মিন্টুর পরিবারের সাথে কারো কোনো প্রকার শত্রুতা নেই। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।
এদিকে মেহেদীর গ্রামের বাড়িতে খোঁজখবর নিতে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, মেহেদীর বাবা শাহাজাহান খাঁন যতটা ভদ্র মানুষ, ঠিক তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অভদ্র তার ছেলে মেহেদি হাসান সানী।
তাদের বাড়িতে গিয়ে মেহেদি হাসান সানীর সাথে কথা হলে সে বলেন, আমাদের স্বামী স্ত্রীর বিভিন্ন সমস্যা আছে, আমার স্ত্রী নুপুরের হাতে আমার দ্বারা আঘাত হয়েছে ঠিক। কিন্তু তাদের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা কামরুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। অগ্নিকাণ্ডের সময় বিদ্যুৎ ছিল না, গ্যাস সিলিন্ডার বিষপোরণ হয়নি। তবে বসতঘরটির কোনো আসবাবপত্র উদ্ধার করা যায়নি। বিষয়টি রহস্যজনক অগ্নীকান্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উল্লিখিত ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বসতঘরে অগ্নীকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।