চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জুলাই -সেপ্টেম্বর শেচ প্রকল্প বেড়িবাঁধের ভেতরে জলাবদ্ধতার কারণে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ করতে না পারলেও অনেকটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় সরিষা চাষে উল্লাসিত হয়ে পড়েছেন অনেক চাষিরা।
আমন ও বোরো মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে জমি ফেলে না রেখে দুই ফসলি জমিকে তিন বা চার ফসলি করে তুলতে ও সরিষার বাজার মূল্য ভালো থাকায় সরিষা চাষাবাদে ব্যাপক আগ্রহ বেড়ে গেছে সরিষা চাষিদের। চাষের সময় ও খরচ দুটোই কম হওয়ায় কৃষকের কাছে বেশ জনপ্রিয় সরিষা চাষ। গত কয়েক বছরে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ফলে এ শস্যটির ফলনও আগের চেয়ে বেড়েছে।
এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিনে দিনে বাড়ছে সরিষার চাষ। প্রচলিত দেশি সরিষার চেয়ে বারি, টরি ও বিনার উদ্ভাবিত সরিষার জাতগুলোর ফলন বেশি। এ কারণে চাষিরা আগ্রহী হচ্ছেন সরিষা চাষে। অনেকেই আমন ধান সংগ্রহের পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষ করছেন।
ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরিষাকে বিকল্প হিসেবে দেখছে সরকার। এজন্য ফসলটি উৎপাদন বাড়াতে নেয়া হয়েছে বড় প্রকল্প। ফসলের শ্রেণিবিন্যাসে পরিবর্তন এনে গতিশীল করা হচ্ছে সরিষার চাষ।
পৌষের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। প্রকৃতি সেজেছে হলুদ সমারোহে, মৌমাছি, প্রজাপতির অবিরাম খেলায় গ্রামীণ জনপদকে আরো মনমুগ্ধ করেছে। শীতের এই শিশির ভেজা সকালে সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুলগুলো সোনা ঝরা রোদে যেন ঝিকিমিকি করছে। মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলে হলুদ রঙের অপরূপ দৃশ্য।
গত শনি ও রবিবার শেষ প্রকল্প বেড়িবাঁধের ভিতরে ঘুরে দেখা যায় এ বছর উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় বিভিন্ন জাতের কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করছেন কৃষকরা।
বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের বালিথুবা গ্রামের স্থানীয় কৃষক মো. সেলিম মিয়া জানান, অনেক বছর ধরেই সরিষা চাষাবাদ করে আসছি। গত বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় জমিতে আমান ধান চাষ করতে না পেরে অনেকটা ক্ষতি হলেও বুক ভরা আশা নিয়ে এ বছর প্রায় ৬০ শতাংশ জমিতে সরিষা চাষাবাদ করছি। এবছর আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় ও সরিষাতে পোকামাকড়ের তেমন আক্রমণ না থাকায় ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের একাধিক কৃষকরা বলেন, বোরো ধান রোপণের আগে সরিষা একটি বাড়তি অর্থকরি ফসল। চাষের সময় ও খরচ দুটোই কম হওয়ায় আমাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় সরিষা চাষ।


















