সবুজে ঘেরা পরিবেশ, সুস্থ জীবনের অন্যতম পূর্বশর্ত। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গাছপালা আমাদের একমাত্র ভরসা। অথচ নগরায়ন আর কাঠের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে দিন দিন কমে যাচ্ছে গাছের সংখ্যা। এমন বাস্তবতায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সবুজের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তুলতে চাঁদপুরে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সামাজিক সংগঠন ‘বাতিঘর মানবকল্যাণ সংস্থা’।
সংগঠনটির উদ্যাগে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহস্রাধিক ফলজ ও বনজ বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। সকাল থেকেই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক দল বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে গাছের চারা তুলে দেয়। এ সময় বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেন। পুরো কার্যক্রম জুড়ে ছিল পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও আগামী প্রজন্মকে প্রকৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার এক আন্তরিক প্রয়াস।
বাতিঘর মানবকল্যাণ সংস্থার এই বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচির আওতায় যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চারা পেয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—পূর্ব ভাওয়াল গাউছিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্স, মূলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মূলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ,মুন্সীরহাট এলাকার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ,হাজীগঞ্জ উপজেলার সেন্দ্রা এলাকা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে চারা তুলে দেওয়া হয়, এবং তাদেরকে গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষকদের মাধ্যমেও গাছগুলোর যথাযথ পরিচর্যার আহ্বান জানানো হয় যেন এসব গাছ ভবিষ্যতে পরিবেশের জন্য উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে।
এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দেন বাতিঘর মানবকল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মো. হোসেন পাটোয়ারী। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক হোসেন বেপারী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মহিন উদ্দিন, সহ-দফতর সম্পাদক ইয়াসিন বরকান্দাজ, প্রচার সম্পাদক মো. রনি, সদস্য সাখাওয়াত হোসেন, শরিফ হোসেন, রাজু মির্জাসহ অনেকেই।
সংগঠনটি জানায়, তাদের এ কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও বৃক্ষ বিতরণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
‘বাতিঘর’ শুধু একটি সামাজিক সংগঠন নয়—এটি আশার প্রতীক, একটি সবুজ ও মানবিক সমাজ গড়ার নিরব প্রত্যয়। গাছ লাগিয়ে তারা যেমন পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে গড়ে তুলছে সচেতনতা ও ভালোবাসার এক সবুজ বীজ।




















