লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডে জুলেখা বেগম ও তার কলেজপড়ুয়া মেয়ে তানহা আক্তার মীমকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টার মধ্যে উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম শ্রীরামপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত জুলেখা বেগম সোনাপুর বাজারের ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের স্ত্রী এবং তানহা আক্তার মীম তাদের একমাত্র মেয়ে। মীম রামগঞ্জ মডেল কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। ঘটনাকালীন বাড়িতে মা-মেয়ে ছাড়া কেউ ছিল না। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা সবাই বাজারে অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে ঘরে প্রবেশ করে মা-মেয়েকে জবাই করে হত্যা করে। পরে ঘরের আলমারি ও ট্রাঙ্ক ভেঙে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। রাত ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বাজার থেকে বাড়ি ফিরে ঘরের মেঝেতে রক্তে ভেজা অবস্থায় তাদের লাশ দেখতে পান। মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এর আগে গত ১৩ মে রামগঞ্জ উপজেলার একই ইউনিয়নের কালুপুর গ্রামে তাজিয়া বেগম নামে এক নারীকে একইভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। পরপর এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




















