চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গুলিতে দুইজন নিহতের চাঞ্চল্যকর ঘটনার অন্যতম আসামী রিপন ছৈয়াল (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে র্যাব-১১’র সদর দপ্তর থেকে গনমাধ্যমে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত রিপন ছৈয়াল চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার উত্তর দশানী গ্রামের মৃত জুলমত ছৈয়ালের ছেলে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১০ টায় র্যাব-১১, সিপিএসসি’র একটি যৌথ আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে উক্ত চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনার অন্যতম আসামী রিপন ছৈয়ালকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরো জানায়, গত ৩০ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৭ টায় মুন্সীগঞ্জ জেলা সংলগ্ন চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দ্বন্দ্বে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন। নিহতরা হলো, চাঁদপুর মতলব উত্তর থানার পশ্চিম হানিরপাড় গ্রামের মোঃ আক্তার হোসেন খানের ছেলে রিফাত খান (২৮) ও ভাষানচর দক্ষিণ কান্দি গ্রামের মোঃ কামাল ফকিরের ছেলে রাসেল ফকির (৩৩)। গুলিবিদ্ধ আইয়ুব আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, এ বছরের ৩০ জানুয়ারি বিকাল বেলা রাসেল ফকির কালিরচর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরার জন্য বের হয়। তার সাথে মতলব উত্তর থানার মোঃ রিফাত খানও ছিল। নদীতে মাছ ধরাকালীন হঠাৎ কয়েকটি ইঞ্জিন চালিত বোট ও স্পীডবোট ঘটনাস্থলে এসে ঘন কুয়াশার মধ্যে রাতের অন্ধকারে আসামীগন এলোপাথাড়ি গোলাগুলি শুরু করে। ওই সময় আসামীদের ছুঁড়া গুলিতে রাসেল ফকির ও তার সঙ্গী মোঃ রিফাত খান গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়। এরপর রাসেল ফকির ও তার সঙ্গী মোঃ রিফাত খানকে গুরুতর আহত অবস্থায় মুন্সিগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে থানা পুলিশ নিহত রাসেল ফকির ও মোঃ রিফাত খানের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করেন এবং ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জ সদরের কালীরচর গ্রামের কানা জহির ও কিবরিয়া মিজি গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। কিবরিয়া মিজি ও তার লোকজন মুন্সীগঞ্জ-মোহনপুর সীমানাধীন চর বাংলাবাজার এলাকায় ২৫ থেকে ২৬ টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে। অপরদিকে কালিরচর গ্রামের বাসিন্দা কানা জহির গ্রুপও একইভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এরই জেরে কানা জহির ও তার লোকজন প্রতিপক্ষ কিবরিয়া মিজির অবৈধ বালু মহালের পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলতে গেলে কিবরিয়া মিজির বালু সিন্ডিকেটের সশস্ত্র সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেয় এবং গুলিবর্ষণ করে। এতে ট্রলার ও স্পিডবোটে থাকা রিফাত, রাসেল ও স্পিডবোট চালক আইয়ুব আলী গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে রিফাত ও রাসেলের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আইয়ুব আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. হযরত আলী বাদী হয়ে একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও র্যাব নিশ্চিত করেছে।
আরকে/ সাইফ




















