ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসির তদারকিতে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ ঈদ উদযাপন সহ শিল্পাঞ্চলে বিরাজ করছে স্বস্তি

 

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী চিত্র। প্রতি বছর এ সময় বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ হলেও এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দুই-একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া প্রায় সকল পোশাক কারখানায় বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে শিল্পাঞ্চলে বিরাজ করছে স্বস্তি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, শ্রম অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছে।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, এবার নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত বেতন ও বোনাস নিশ্চিতে কোনো সমস্যা হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৭টি প্রতিষ্ঠানের সবগুলোতেই ইতোমধ্যে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। শ্রমিকদের ঘাম শুকানোর আগেই তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি আরও জানান, সরকারের কঠোর নির্দেশনায় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তদারকিতে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের পাঁচজন সংসদ সদস্যের সর্বাত্মক সহায়তা, পুলিশ সুপার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, শ্রম অধিদপ্তর ও কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শ্রমঘন এ জেলায় শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে শিল্পাঞ্চলে নিবিড় নজরদারি, নিয়মিত শ্রমিক-মালিক সমন্বয় সভা, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত এবং মাঠপর্যায়ে মনিটরিংয়ের কারণে এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গুজব প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মো. হাতেম বলেন, জেলা প্রশাসক প্রথম থেকেই বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করেছেন। আমাদের সদস্যদের ঈদের আগে বেতন ও বোনাস পরিশোধের বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছিল। ফলে নারায়ণগঞ্জের নিটওয়্যার কারখানাগুলো শ্রমিকদের সব বকেয়া পরিশোধ করতে পেরেছে।

নারায়ণগঞ্জ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক বলেন, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির নিজে কারখানা মালিকদের ফোন করে বেতন দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেছেন। আমাদের কাউন্সেলিং ও প্রশাসনের চাপে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে দুই-একটি ছাড়া প্রায় সব শ্রমিকের বেতন ও বোনাস নিশ্চিত হয়েছে।

বিজিএমইএ’র পরিচালনা পর্ষদের এক পরিচালক বলেন, সরকারের শতভাগ সদিচ্ছা ছিল। পোশাক খাতের ইনসেনটিভ ছাড় দেওয়া হয়েছে। আমরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে মালিকদের সহায়তা করেছি।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান দিপু বলেন, জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকার কারণে এবার ব্যবসায়ী ও শ্রমিক উভয় পক্ষই উপকৃত হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে শান্তি থাকলে উৎপাদন বাড়ে এবং অর্থনীতি গতিশীল হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এই শ্রমিকবান্ধব ও সমন্বিত উদ্যোগ দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের জন্য অনুসরণীয় মডেল হতে পারে। শ্রমিকদের উৎসবের আনন্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এটি শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

আরকে/ সাইফ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হার্টের ব্যথায় হাসপাতালে হাজীগঞ্জের বাকিলা ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান

ডিসির তদারকিতে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ ঈদ উদযাপন সহ শিল্পাঞ্চলে বিরাজ করছে স্বস্তি

আপডেট : ০৪:২৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

 

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী চিত্র। প্রতি বছর এ সময় বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ হলেও এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দুই-একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া প্রায় সকল পোশাক কারখানায় বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে শিল্পাঞ্চলে বিরাজ করছে স্বস্তি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, শ্রম অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছে।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, এবার নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত বেতন ও বোনাস নিশ্চিতে কোনো সমস্যা হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৭টি প্রতিষ্ঠানের সবগুলোতেই ইতোমধ্যে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। শ্রমিকদের ঘাম শুকানোর আগেই তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি আরও জানান, সরকারের কঠোর নির্দেশনায় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তদারকিতে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের পাঁচজন সংসদ সদস্যের সর্বাত্মক সহায়তা, পুলিশ সুপার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, শ্রম অধিদপ্তর ও কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শ্রমঘন এ জেলায় শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে শিল্পাঞ্চলে নিবিড় নজরদারি, নিয়মিত শ্রমিক-মালিক সমন্বয় সভা, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত এবং মাঠপর্যায়ে মনিটরিংয়ের কারণে এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গুজব প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মো. হাতেম বলেন, জেলা প্রশাসক প্রথম থেকেই বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করেছেন। আমাদের সদস্যদের ঈদের আগে বেতন ও বোনাস পরিশোধের বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছিল। ফলে নারায়ণগঞ্জের নিটওয়্যার কারখানাগুলো শ্রমিকদের সব বকেয়া পরিশোধ করতে পেরেছে।

নারায়ণগঞ্জ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক বলেন, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির নিজে কারখানা মালিকদের ফোন করে বেতন দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেছেন। আমাদের কাউন্সেলিং ও প্রশাসনের চাপে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে দুই-একটি ছাড়া প্রায় সব শ্রমিকের বেতন ও বোনাস নিশ্চিত হয়েছে।

বিজিএমইএ’র পরিচালনা পর্ষদের এক পরিচালক বলেন, সরকারের শতভাগ সদিচ্ছা ছিল। পোশাক খাতের ইনসেনটিভ ছাড় দেওয়া হয়েছে। আমরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে মালিকদের সহায়তা করেছি।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান দিপু বলেন, জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকার কারণে এবার ব্যবসায়ী ও শ্রমিক উভয় পক্ষই উপকৃত হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে শান্তি থাকলে উৎপাদন বাড়ে এবং অর্থনীতি গতিশীল হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এই শ্রমিকবান্ধব ও সমন্বিত উদ্যোগ দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের জন্য অনুসরণীয় মডেল হতে পারে। শ্রমিকদের উৎসবের আনন্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এটি শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

আরকে/ সাইফ