ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নে দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর রেখে যাওয়া বসতভিটায় অভাব অনটনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বিউটি বেগম। স্বামী সোহেল শেখ সাতবছর পূর্বে তাদেরকে রেখে মৃত্যু বরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকেনিয়ে নিকত্মায়ীদের সহযোগিতায় স্বামীর ভিটেবাড়িতে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করে দিনপার করছেন তিনি। কিন্তু এরি মধ্যে প্রতিনিয়ত বড় ভাসুর বাহার উদ্দিন, ভাসুরের ছেলে শিশির, জা শিল্পি বেগম ও শাশুড়ি কহিনুর বেগমের হুমকি ধ্বমকি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬)সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার খুরুমখালী গ্রামে শেখ বাড়ির স্বামী মৃত সোহেল শেখ পৈত্রিক সূত্রে সম্পত্তির মালিক হলেও সে সম্পত্তির ভোগ দখল করতে দিচ্ছেন না বিউটি বেগমের শশুরের পরিবার। বসতঘরের চারদিক দিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন পার করছেন বিউটি বেগম। বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন স্বামীর বড়ভাই ও শাশুড়িসহ অন্যরা।
এবিষয়ে বিউটি বেগম ফরিদগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন, অভিযোগের আলোকে বিউটি বেগম বলেন, আমার স্বামী ২০১৯ সালে মৃত্যু বরন করেন। তার মৃত্যুর পর আমার ভাসুর, শাশুড়িসহ তাদের পরিবারের অন্যরা আমার উপর প্রতিনিয়ত অত্যাচার, নির্যাতনসহ মারধর করছে। আমার স্বামী মালিকানাধীন কৃষি জমির জমিতে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে ফসল উৎপাদন করি। তারা জমিতে থাকা বিভিন্ন জাতের ফসলি গাছপালা কেটে ফেলেছে এবং আগুন দরিয়ে দিছে। তাদের অত্যাচারে বাড়ীতে বসবাস করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমার ছেলেকে, মেরে ফেলার হুমকি দেচ্ছে। আমি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের দারস্থ হলে তারা আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। আমার বসত ঘরের আঙ্গিনায় আগুন দরিয়ে দিছে। তারা আমাকে, আমার ছেলে মেয়েকে হুমকি দিয়ে বলে, আমি যদি বাড়াবাড়ি করি এবং কোন আইনের দারস্থ হই। তাহলে আমাদের লাশ শুম করে ফেলবে। আমার ও আমার সন্তানের কোন অধিকার নাই এবাড়িতে। বাড়িঘর ও সম্পত্তি ছেড়ে চলে যেতাম। এখানে তারা আমাদেরকে বসবাস করতে দিবে না। যে কোন মূল্যে আমাদেরকে বাড়িঘর ছাড়া করবে। আমি দুই সন্তানকে নিয়ে প্রশাসন ও গণ্যমান্যদের সহযোগিতা কামনা করি।
স্থানীয়রা বলছেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে দুঃখে কষ্টে জীবনযাপন করছে বিউটি। আমরা দীর্ঘদিন যাবত শুনে আসতেছি বিউটির ভাসুরের সাথে জায়গা নিয়ে জামেলা যাচ্ছে। সবাই মিলে সমস্যাটা সমাধাণ করে দিলে ভালো হয়। যেহেতু দুই সন্তান নিয়ে কোথায় যাওয়ার আর কোন জায়গা নাই।
এবিষয়ে অভিযুক্ত বাহার উদ্দিন, শিল্পি বেগম ও কোহিনুর বেগমের সাথে কথা বলতে তাদের বাড়িতে গেলে তারা ঘরের দরজা বন্ধ করে অন্যদিকে চলে যান।
অভিযোগের ভিত্তিতে ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক আকাশ ঘোষ জানান, অভিযোগের আলোকে ঘটনাস্থলে গিয়েছি, তাদের আগে থেকেই জায়গা নিয়ে জামেলা, স্থানীয়রা দায়ীত্ব নিয়েছে। তারা সমাধাণ করার চেষ্টা করবে।




















