ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়ক দু’র্ঘ’টনায় প্রাণ গেল দুই আপন বোনের

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৮:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • 268

সকালে আদালতে গিয়েছিলেন পারিবারিক একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে। সবকিছু শেষ করে দুপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে ফিরছিলেন বাড়ির পথে। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। নির্মম সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল দুই আপন বোনের প্রাণ। তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আরও এক ব্যক্তি।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের স্কুলপাহাড় এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমের দুই মেয়ে রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তার। দুর্ঘটনায় নিহত অপর এক ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পারিবারিক একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে দুই বোন সকালে কক্সবাজার আদালতে গিয়েছিলেন। শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রওনা হন। পথিমধ্যে স্কুলপাহাড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক সজোরে ধাক্কা দেয় অটোরিকশাটিকে। সংঘর্ষের তীব্রতায় মুহূর্তেই দুমড়েমুচড়ে যায় যানটি, ছিটকে পড়েন যাত্রীরা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এক ব্যক্তি।
স্থানীয়রা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে মারা যান দুই বোন রুবিনা ও শাহিনা। আহত আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল গফুর জানান, সন্তানদের নিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে তার চোখের সামনেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগতির ট্রাকটি অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়েমুচড়ে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আর্তনাদ, আর রক্তাক্ত মানুষদের উদ্ধারে ছুটে আসেন স্থানীয়রা।
রামু হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। নিহতদের মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই পরিবারের দুই বোনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সকালে যে দুই বোন আদালতে গিয়েছিলেন নিজেদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে, বিকেলে তাদের নিথর দেহ ফিরল স্বজনদের কাছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে বেপরোয়া গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে ব্যবসায়ী সমিতির মতবিনিময় 

সড়ক দু’র্ঘ’টনায় প্রাণ গেল দুই আপন বোনের

আপডেট : ০৮:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

সকালে আদালতে গিয়েছিলেন পারিবারিক একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে। সবকিছু শেষ করে দুপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে ফিরছিলেন বাড়ির পথে। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। নির্মম সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল দুই আপন বোনের প্রাণ। তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আরও এক ব্যক্তি।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের স্কুলপাহাড় এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমের দুই মেয়ে রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তার। দুর্ঘটনায় নিহত অপর এক ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পারিবারিক একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে দুই বোন সকালে কক্সবাজার আদালতে গিয়েছিলেন। শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রওনা হন। পথিমধ্যে স্কুলপাহাড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক সজোরে ধাক্কা দেয় অটোরিকশাটিকে। সংঘর্ষের তীব্রতায় মুহূর্তেই দুমড়েমুচড়ে যায় যানটি, ছিটকে পড়েন যাত্রীরা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এক ব্যক্তি।
স্থানীয়রা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে মারা যান দুই বোন রুবিনা ও শাহিনা। আহত আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল গফুর জানান, সন্তানদের নিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে তার চোখের সামনেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগতির ট্রাকটি অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়েমুচড়ে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আর্তনাদ, আর রক্তাক্ত মানুষদের উদ্ধারে ছুটে আসেন স্থানীয়রা।
রামু হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। নিহতদের মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই পরিবারের দুই বোনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সকালে যে দুই বোন আদালতে গিয়েছিলেন নিজেদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে, বিকেলে তাদের নিথর দেহ ফিরল স্বজনদের কাছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে বেপরোয়া গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।