ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে প্রথমবার মহালয়ায় মঞ্চস্থ ‘মহিষাসুরমর্দিনী’,প্রশংসায় সমীর লাল দত্ত

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৯:১০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • 24
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রথমবারের মতো মহালয়া উপলক্ষে মঞ্চস্থ হয়েছে পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর ধর্মীয় নাটক ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। আরতি, দেবী বন্দনা, ধর্মীয় আলোচনা ও নাট্য পরিবেশনার সমন্বয়ে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে বাস্তবায়নে উদ্যোগী ভূমিকা রাখায় প্রশংসিত হচ্ছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সমীর লাল দত্ত।
মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে তিনটি পর্বে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। প্রথম পর্বে ছিল আরতি ও দেবী বন্দনা। দ্বিতীয় পর্বে মহালয়ার ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে মঞ্চস্থ হয় বহুল পরিচিত পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর নাটক ‘মহিষাসুরমর্দিনী’।
নাটকটিতে দেবী দুর্গার আবির্ভাব, মহিষাসুরের সঙ্গে দেবীর যুদ্ধ এবং অশুভ শক্তির বিনাশের পৌরাণিক কাহিনি নাট্যরূপে তুলে ধরা হয়। ধর্মীয় আবহ, অভিনয় ও পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার মহিমা এবং শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহালয়া শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচনাপর্ব। এদিন দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আগমনী আবহ ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। মহালয়াকে কেন্দ্র করে চণ্ডীপাঠ, দেবী বন্দনা ও বিভিন্ন ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় হাজীগঞ্জে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নাটক মঞ্চস্থের উদ্যোগ স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সমীর লাল দত্তের উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এ আয়োজনে তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করেন হাজীগঞ্জ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সুমন দেবনাথ রাজু। পাশাপাশি হাজীগঞ্জের চারটি পূজামণ্ডপভিত্তিক সংগঠন—ত্রিনয়নী সংঘ, নবদুর্গা সংঘ, ত্রিশূল সংঘ ও দশভূজা সংঘ অনুষ্ঠানটি সফল করতে সহযোগিতা করে।
স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাট্য পরিবেশনার আয়োজন দর্শকদের কাছে মহালয়ার তাৎপর্য তুলে ধরার একটি ভিন্নধর্মী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আয়োজকদের এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য, পৌরাণিক কাহিনি ও সাংস্কৃতিক চর্চা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে স্থানীয় সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্বও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাশা, মহালয়াকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তাঁদের মতে, ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাটক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা গেলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জে প্রথমবার মহালয়ায় মঞ্চস্থ ‘মহিষাসুরমর্দিনী’,প্রশংসায় সমীর লাল দত্ত

হাজীগঞ্জে প্রথমবার মহালয়ায় মঞ্চস্থ ‘মহিষাসুরমর্দিনী’,প্রশংসায় সমীর লাল দত্ত

আপডেট : ০৯:১০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রথমবারের মতো মহালয়া উপলক্ষে মঞ্চস্থ হয়েছে পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর ধর্মীয় নাটক ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। আরতি, দেবী বন্দনা, ধর্মীয় আলোচনা ও নাট্য পরিবেশনার সমন্বয়ে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে বাস্তবায়নে উদ্যোগী ভূমিকা রাখায় প্রশংসিত হচ্ছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সমীর লাল দত্ত।
মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে তিনটি পর্বে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। প্রথম পর্বে ছিল আরতি ও দেবী বন্দনা। দ্বিতীয় পর্বে মহালয়ার ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে মঞ্চস্থ হয় বহুল পরিচিত পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর নাটক ‘মহিষাসুরমর্দিনী’।
নাটকটিতে দেবী দুর্গার আবির্ভাব, মহিষাসুরের সঙ্গে দেবীর যুদ্ধ এবং অশুভ শক্তির বিনাশের পৌরাণিক কাহিনি নাট্যরূপে তুলে ধরা হয়। ধর্মীয় আবহ, অভিনয় ও পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার মহিমা এবং শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহালয়া শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচনাপর্ব। এদিন দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আগমনী আবহ ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। মহালয়াকে কেন্দ্র করে চণ্ডীপাঠ, দেবী বন্দনা ও বিভিন্ন ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় হাজীগঞ্জে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নাটক মঞ্চস্থের উদ্যোগ স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সমীর লাল দত্তের উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এ আয়োজনে তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করেন হাজীগঞ্জ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সুমন দেবনাথ রাজু। পাশাপাশি হাজীগঞ্জের চারটি পূজামণ্ডপভিত্তিক সংগঠন—ত্রিনয়নী সংঘ, নবদুর্গা সংঘ, ত্রিশূল সংঘ ও দশভূজা সংঘ অনুষ্ঠানটি সফল করতে সহযোগিতা করে।
স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাট্য পরিবেশনার আয়োজন দর্শকদের কাছে মহালয়ার তাৎপর্য তুলে ধরার একটি ভিন্নধর্মী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আয়োজকদের এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য, পৌরাণিক কাহিনি ও সাংস্কৃতিক চর্চা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে স্থানীয় সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্বও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাশা, মহালয়াকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তাঁদের মতে, ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাটক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা গেলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।