ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবিকতায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হাজীগঞ্জের ইউএনও: থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত কিশোরীর জীবন বাঁচাতে রক্ত দিলেন নিজেই

সকালের আলো ফোটার আগেই হাজীগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে এক খবর—যা কেবল একটি কিশোরীর প্রাণ রক্ষা নয়, বরং গোটা সমাজকে কাঁপিয়ে দিয়ে গেছে ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধে।

১৩ বছরের এক কিশোরী, দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতালে শয্যায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে সে। জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন । স্বজনদের চোখে ভয়ের ছায়া।  ঠিক তখনই আশার আলো হয়ে এগিয়ে এলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জাবের। দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত রক্তদাতা তিনি। এবারও দেরি করেননি। অফিস, পদ, দায়িত্ব—সব কিছু সরিয়ে রেখে, একটুও দ্বিধা না করে নিজেই কিশোরীর জন্য রক্ত দিলেন।

একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন মানবিক ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ খুবই বিরল। এই দৃশ্য যেন কেবল রক্তদান নয়—এ এক মায়ার স্পর্শ, নির্ভরতার প্রতীক।
খবরটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অভিনন্দনে ভরে ওঠে নিউজফিড। “মানুষের পাশে থাকা যে দায়িত্বের বাইরে গিয়েও সম্ভব, ইউএনও সাহেব তা আবার প্রমাণ করলেন,” লিখেছেন এক স্থানীয় যুবক। আরেকজন লিখেছেন, “প্রশাসনের কর্মকর্তা না, যেন পরিবারের কেউ!”

ইউএনও ইবনে আল জাবের বলেন, “একটি প্রাণ যদি আমার রক্তে রক্ষা পায়, তার চেয়ে বড় কিছু আর হতে পারে না। আমি শুধু আমার কর্তব্য করেছি একজন মানুষ হিসেবে।”

এই ঘটনা প্রমাণ করে—সরকারি দায়িত্বপালনের গণ্ডি ছাড়িয়ে একজন কর্মকর্তা যদি চান, তবে মানুষের সবচেয়ে কাছের আশ্রয় হয়ে উঠতে পারেন।
রক্তদান শুধু একটি জীবন বাঁচায়নি, বরং নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে মানুষকে মানুষের জন্য এগিয়ে আসার সাহস ও প্রেরণা।

আজ হাজীগঞ্জ গর্বিত ইউএনওকে নিয়ে। এই রক্ত যেন শুধু এক থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত কিশোরীর শরীরে নয়, বয়ে নিয়ে এসেছে ভালোবাসা, দায়িত্ব আর মানবিকতার নতুন বার্তা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটো থেকে পড়ে নারীর মৃ”ত্যু

মানবিকতায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হাজীগঞ্জের ইউএনও: থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত কিশোরীর জীবন বাঁচাতে রক্ত দিলেন নিজেই

আপডেট : ০৭:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

সকালের আলো ফোটার আগেই হাজীগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে এক খবর—যা কেবল একটি কিশোরীর প্রাণ রক্ষা নয়, বরং গোটা সমাজকে কাঁপিয়ে দিয়ে গেছে ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধে।

১৩ বছরের এক কিশোরী, দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতালে শয্যায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে সে। জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন । স্বজনদের চোখে ভয়ের ছায়া।  ঠিক তখনই আশার আলো হয়ে এগিয়ে এলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জাবের। দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত রক্তদাতা তিনি। এবারও দেরি করেননি। অফিস, পদ, দায়িত্ব—সব কিছু সরিয়ে রেখে, একটুও দ্বিধা না করে নিজেই কিশোরীর জন্য রক্ত দিলেন।

একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন মানবিক ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ খুবই বিরল। এই দৃশ্য যেন কেবল রক্তদান নয়—এ এক মায়ার স্পর্শ, নির্ভরতার প্রতীক।
খবরটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অভিনন্দনে ভরে ওঠে নিউজফিড। “মানুষের পাশে থাকা যে দায়িত্বের বাইরে গিয়েও সম্ভব, ইউএনও সাহেব তা আবার প্রমাণ করলেন,” লিখেছেন এক স্থানীয় যুবক। আরেকজন লিখেছেন, “প্রশাসনের কর্মকর্তা না, যেন পরিবারের কেউ!”

ইউএনও ইবনে আল জাবের বলেন, “একটি প্রাণ যদি আমার রক্তে রক্ষা পায়, তার চেয়ে বড় কিছু আর হতে পারে না। আমি শুধু আমার কর্তব্য করেছি একজন মানুষ হিসেবে।”

এই ঘটনা প্রমাণ করে—সরকারি দায়িত্বপালনের গণ্ডি ছাড়িয়ে একজন কর্মকর্তা যদি চান, তবে মানুষের সবচেয়ে কাছের আশ্রয় হয়ে উঠতে পারেন।
রক্তদান শুধু একটি জীবন বাঁচায়নি, বরং নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে মানুষকে মানুষের জন্য এগিয়ে আসার সাহস ও প্রেরণা।

আজ হাজীগঞ্জ গর্বিত ইউএনওকে নিয়ে। এই রক্ত যেন শুধু এক থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত কিশোরীর শরীরে নয়, বয়ে নিয়ে এসেছে ভালোবাসা, দায়িত্ব আর মানবিকতার নতুন বার্তা।