ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযানে রাইফেল উদ্ধার

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় যৌথ বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে চাঞ্চল্যকরভাবে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া চাইনিজ রাইফেল, দেশীয় অস্ত্র, গুলি এবং একটি স্থানীয়ভাবে তৈরি হাতবোমা। অভিযানটি পরিচালিত হয় সোমবার (১৩ মে) বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে উপজেলার বলাখাল নামক এলাকায়।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজীগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের সদস্যদের সঙ্গে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ একটি সমন্বিত অভিযানে অংশ নেয়। অভিযান চলাকালে একটি পরিত্যক্ত স্থানে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায় বিপজ্জনক এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য।

উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে:

  • ১টি ৭.৬২ মিঃমিঃ চাইনিজ রাইফেল, যা পূর্বে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (CMP) থেকে চুরি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
  • ১টি স্থানীয়ভাবে তৈরি ৭.৬২ মিঃমিঃ রাইফেল,
  • ১ রাউন্ড রাইফেল অ্যামুনিশন,
  • এবং ১টি স্থানীয়ভাবে তৈরি হাতবোমা।

অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক সাংবাদিকদের জানান, “পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপরাধীরা কোনো বড় ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় এগুলো মজুদ করেছিল। উদ্ধারকৃত সব আলামত থানায় আনা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “অস্ত্রগুলো যেহেতু পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তাই এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, এগুলোর সঙ্গে স্থানীয় কোনো সন্ত্রাসী চক্রের সম্পৃক্ততা আছে কি না।”

এদিকে এই সফল অভিযানকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ যৌথ বাহিনীর এই তৎপরতা ও সাহসিকতার প্রশংসা করছেন। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, জেলার প্রতিটি উপজেলায় অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে চাঁদপুর জেলায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে সন্ত্রাস ও অস্ত্র নির্মূল কার্যক্রম শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই অভিযান পরিচালিত হয়।

এই অভিযান শুধু অস্ত্র উদ্ধার নয়, বরং চাঁদপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের এক বাস্তব উদাহরণ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটো থেকে পড়ে নারীর মৃ”ত্যু

হাজীগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযানে রাইফেল উদ্ধার

আপডেট : ০৭:৩৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় যৌথ বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে চাঞ্চল্যকরভাবে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া চাইনিজ রাইফেল, দেশীয় অস্ত্র, গুলি এবং একটি স্থানীয়ভাবে তৈরি হাতবোমা। অভিযানটি পরিচালিত হয় সোমবার (১৩ মে) বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে উপজেলার বলাখাল নামক এলাকায়।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজীগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের সদস্যদের সঙ্গে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ একটি সমন্বিত অভিযানে অংশ নেয়। অভিযান চলাকালে একটি পরিত্যক্ত স্থানে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায় বিপজ্জনক এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য।

উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে:

  • ১টি ৭.৬২ মিঃমিঃ চাইনিজ রাইফেল, যা পূর্বে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (CMP) থেকে চুরি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
  • ১টি স্থানীয়ভাবে তৈরি ৭.৬২ মিঃমিঃ রাইফেল,
  • ১ রাউন্ড রাইফেল অ্যামুনিশন,
  • এবং ১টি স্থানীয়ভাবে তৈরি হাতবোমা।

অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক সাংবাদিকদের জানান, “পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপরাধীরা কোনো বড় ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় এগুলো মজুদ করেছিল। উদ্ধারকৃত সব আলামত থানায় আনা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “অস্ত্রগুলো যেহেতু পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তাই এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, এগুলোর সঙ্গে স্থানীয় কোনো সন্ত্রাসী চক্রের সম্পৃক্ততা আছে কি না।”

এদিকে এই সফল অভিযানকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ যৌথ বাহিনীর এই তৎপরতা ও সাহসিকতার প্রশংসা করছেন। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, জেলার প্রতিটি উপজেলায় অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে চাঁদপুর জেলায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে সন্ত্রাস ও অস্ত্র নির্মূল কার্যক্রম শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই অভিযান পরিচালিত হয়।

এই অভিযান শুধু অস্ত্র উদ্ধার নয়, বরং চাঁদপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের এক বাস্তব উদাহরণ।