ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহরাস্তিতে কোরবানির পশুর চাহিদা ১৭ হাজার: ১২ হাজার পশু প্রস্তুত 

আসন্ন ঈদুল আযহাকে (কোরবানির ঈদ) সামনে রেখে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় কোরবানির পশুর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ১৪ হাজার গরু ও ৩ হাজার খাসির প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস।
স্থানীয় খামারিরা ইতোমধ্যেই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও পারিবারিক খামারে ১০ হাজার গরু প্রস্তুত রয়েছে। তবে খাসির ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে—চাহিদা থাকলেও প্রস্তুত রয়েছে মাত্র ২ হাজার খাসি।
উপজেলায় মোট ১৪০টি খামার রয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উদ্যোগে গড়ে ওঠা ছোট খামারগুলোতেও প্রচুর পশু লালন-পালন করা হয়েছে। চাহিদার বিপরীতে যে ঘাটতি রয়েছে, তা অন্যান্য উপজেলা থেকে আগত কোরবানির পশু দ্বারা পূরণ হবে বলে আশা করছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, কোরবানির পশুর হাটে বিনামূল্যে মেডিকেল টিম থাকবে। এই টিম পশুর স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে এবং প্রেগনেন্সি টেস্টসহ যাবতীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা দেবে। ফলে ক্রেতারা স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পশু ক্রয় করতে সক্ষম হবেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদু আলম বলেন, “আমরা কোরবানির পশুর হাটগুলোতে নিরাপদ পশু বিক্রির জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম থাকবে, যারা পশু পরীক্ষাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দেবে। ক্রেতারা যেন প্রতারিত না হন এবং নিরাপদ পশু কিনতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
শাহরাস্তির গ্রামের বিখ্যাত খামার শাহরাস্তি এগ্রোর কর্ণধার সাখাওয়া হোসেন জানান, “আমাদের খামারে এই ঈদে বিক্রির জন্য ১৪টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। আমরা প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুগুলো বড় করেছি। আশা করি এবার ভালো দাম পাব এবং ক্রেতারাও সন্তুষ্ট হবেন।”
অন্যদিকে, উপজেলার সবচেয়ে বড় গরুর খামার এম এস এগ্রোর কর্ণধার মোশারফ হোসাইন বলেন,
“আমার খামারে এবার ১০০টিরও বেশি গরু প্রস্তুত রয়েছে। আমরা বেশ কয়েক মাস ধরে এসব গরুকে সঠিক পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাইয়ে বড় করেছি। আশা করছি, এবার ভালো বিক্রি হবে।”
শাহরাস্তি উপজেলার কোরবানির হাটগুলোতে এবার বিনামূল্যে মেডিকেল সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা আগত ক্রেতাদের জন্য বেশ স্বস্তিদায়ক হবে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গর্ভবতী পশু চিহ্নিতকরণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটো থেকে পড়ে নারীর মৃ”ত্যু

শাহরাস্তিতে কোরবানির পশুর চাহিদা ১৭ হাজার: ১২ হাজার পশু প্রস্তুত 

আপডেট : ১১:১৮:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
আসন্ন ঈদুল আযহাকে (কোরবানির ঈদ) সামনে রেখে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় কোরবানির পশুর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ১৪ হাজার গরু ও ৩ হাজার খাসির প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস।
স্থানীয় খামারিরা ইতোমধ্যেই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও পারিবারিক খামারে ১০ হাজার গরু প্রস্তুত রয়েছে। তবে খাসির ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে—চাহিদা থাকলেও প্রস্তুত রয়েছে মাত্র ২ হাজার খাসি।
উপজেলায় মোট ১৪০টি খামার রয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উদ্যোগে গড়ে ওঠা ছোট খামারগুলোতেও প্রচুর পশু লালন-পালন করা হয়েছে। চাহিদার বিপরীতে যে ঘাটতি রয়েছে, তা অন্যান্য উপজেলা থেকে আগত কোরবানির পশু দ্বারা পূরণ হবে বলে আশা করছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, কোরবানির পশুর হাটে বিনামূল্যে মেডিকেল টিম থাকবে। এই টিম পশুর স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে এবং প্রেগনেন্সি টেস্টসহ যাবতীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা দেবে। ফলে ক্রেতারা স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পশু ক্রয় করতে সক্ষম হবেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদু আলম বলেন, “আমরা কোরবানির পশুর হাটগুলোতে নিরাপদ পশু বিক্রির জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম থাকবে, যারা পশু পরীক্ষাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দেবে। ক্রেতারা যেন প্রতারিত না হন এবং নিরাপদ পশু কিনতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
শাহরাস্তির গ্রামের বিখ্যাত খামার শাহরাস্তি এগ্রোর কর্ণধার সাখাওয়া হোসেন জানান, “আমাদের খামারে এই ঈদে বিক্রির জন্য ১৪টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। আমরা প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুগুলো বড় করেছি। আশা করি এবার ভালো দাম পাব এবং ক্রেতারাও সন্তুষ্ট হবেন।”
অন্যদিকে, উপজেলার সবচেয়ে বড় গরুর খামার এম এস এগ্রোর কর্ণধার মোশারফ হোসাইন বলেন,
“আমার খামারে এবার ১০০টিরও বেশি গরু প্রস্তুত রয়েছে। আমরা বেশ কয়েক মাস ধরে এসব গরুকে সঠিক পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাইয়ে বড় করেছি। আশা করছি, এবার ভালো বিক্রি হবে।”
শাহরাস্তি উপজেলার কোরবানির হাটগুলোতে এবার বিনামূল্যে মেডিকেল সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা আগত ক্রেতাদের জন্য বেশ স্বস্তিদায়ক হবে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গর্ভবতী পশু চিহ্নিতকরণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।