ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জের তিন গ্রামের চলাচলের কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়কুল, আড়ুলি ও মোল্লাডর—এই তিনটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষই হচ্ছে না। যুগের পর যুগ ধরে এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা। একটুখানি বৃষ্টি বা বর্ষা নামলেই যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। রাস্তা পরিণত হয় কাদাপানির এক হাহাকারে। এমন অবস্থা সৃষ্টি হয় যে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় গ্রামের হাজারো মানুষকে।

এই রাস্তাগুলো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু রাস্তাগুলো যেন তাদের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষাকালে ছোট যানবাহন যেমন অটো, রিকশা, সিএনজি চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি হেঁটে চলাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। কাদায় পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও প্রায়শই ঘটে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়ে।

এই রাস্তাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ বড়কুল শোহাদায়ে কারবালা মাদ্রাসা থেকে মোল্লাডর গোল্ডেন স্কুলের সামনে পর্যন্ত রাস্তাটি সবচেয়ে জরাজীর্ণ। অন্যদিকে, রায়চোঁ কুমারবাড়ি থেকে পাটোয়ারী পর্যন্ত রাস্তার অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। দুই পাশে পুকুর ও খাল থাকায় বর্ষার সময় রাস্তাগুলোর অংশবিশেষ ধসে পড়ে এবং পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে জানমাল হানিরও আশঙ্কা থেকে যায়। প্রায় সময়ই অটো-রিকশা উল্টে পড়ে যাত্রী ও চালক আহত হন।

এই অঞ্চলে ভালো কোনো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা কিংবা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য শহরে যেতে বাধ্য হয়। আর যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই কাঁচা রাস্তা, যা তাদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবকেরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে শহরে বসবাস শুরু করছেন। ফলে গ্রামে ধীরে ধীরে মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে—একটা সময় এই জনপদগুলো জনশূন্য হয়ে পড়বে এমন আশঙ্কাও করছেন সচেতন মহল।

বছরে এক বা দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সামান্য বরাদ্দে রাস্তার পাশে গর্ত করে কিছু কাদা বা মাটি ফেলা হয়। কিন্তু সে কাজও এমন নিম্নমানের যে এক বৃষ্টিতেই তা নষ্ট হয়ে পড়ে। কাজের দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিকল্পনা নেই, নেই টেকসই কোনো পদক্ষেপ।

অনেকেই নিজ উদ্যোগে ব্রিকফিল্ড থেকে ইট, সুরকি এনে রাস্তার ওপর ছড়িয়ে দিয়ে পায়ে হাঁটার উপযোগী করে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এভাবে তো আর একটি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা যায় না। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও দৃঢ় উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।

এত অভিযোগ, এত আবেদন, এত প্রতিবেদন, তবুও কাজ হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতন নাগরিকরা কাদামাটির ছবি পোস্ট করে বারবার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। স্থানীয় পত্রপত্রিকায় বহুবার সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের টনক নড়ছে না।

অথচ এই ইউনিয়ন হাজীগঞ্জ পৌরসভার খুব কাছেই। শহরের লাগোয়া এমন ইউনিয়নেও যদি এতটা অবহেলা হয়, তাহলে দূরবর্তী গ্রামের অবস্থা কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত যদি এই রাস্তাগুলো পাকা না করা হয়, তাহলে একদিকে যেমন মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে, অন্যদিকে শহরমুখী মানুষের স্রোত বাড়বে। একসময় হয়তো পুরো গ্রামই জনমানবশূন্য হয়ে পড়বে। কারণ মানুষ উন্নয়ন চায়, নিরাপদ চলাচল চায়, সন্তানদের ভালো ভবিষ্যৎ চায়—আর গ্রামে সেটা মিলছে না বলেই শহরের দিকে যাত্রা।

তাই এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে দক্ষিণ বড়কুল, আড়ুলি ও মোল্লাডরসহ পুরো রাস্তাটি পাকা করে একটি টেকসই সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। এই রাস্তাই হতে পারে গ্রামের প্রাণ, উন্নয়নের গেটওয়ে এবং মানুষের স্বস্তির একমাত্র অবলম্বন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে জেলা পুলিশের প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

হাজীগঞ্জের তিন গ্রামের চলাচলের কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা

আপডেট : ০২:২১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়কুল, আড়ুলি ও মোল্লাডর—এই তিনটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষই হচ্ছে না। যুগের পর যুগ ধরে এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা। একটুখানি বৃষ্টি বা বর্ষা নামলেই যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। রাস্তা পরিণত হয় কাদাপানির এক হাহাকারে। এমন অবস্থা সৃষ্টি হয় যে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় গ্রামের হাজারো মানুষকে।

এই রাস্তাগুলো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু রাস্তাগুলো যেন তাদের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষাকালে ছোট যানবাহন যেমন অটো, রিকশা, সিএনজি চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি হেঁটে চলাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। কাদায় পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও প্রায়শই ঘটে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়ে।

এই রাস্তাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ বড়কুল শোহাদায়ে কারবালা মাদ্রাসা থেকে মোল্লাডর গোল্ডেন স্কুলের সামনে পর্যন্ত রাস্তাটি সবচেয়ে জরাজীর্ণ। অন্যদিকে, রায়চোঁ কুমারবাড়ি থেকে পাটোয়ারী পর্যন্ত রাস্তার অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। দুই পাশে পুকুর ও খাল থাকায় বর্ষার সময় রাস্তাগুলোর অংশবিশেষ ধসে পড়ে এবং পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে জানমাল হানিরও আশঙ্কা থেকে যায়। প্রায় সময়ই অটো-রিকশা উল্টে পড়ে যাত্রী ও চালক আহত হন।

এই অঞ্চলে ভালো কোনো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা কিংবা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য শহরে যেতে বাধ্য হয়। আর যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই কাঁচা রাস্তা, যা তাদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবকেরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে শহরে বসবাস শুরু করছেন। ফলে গ্রামে ধীরে ধীরে মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে—একটা সময় এই জনপদগুলো জনশূন্য হয়ে পড়বে এমন আশঙ্কাও করছেন সচেতন মহল।

বছরে এক বা দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সামান্য বরাদ্দে রাস্তার পাশে গর্ত করে কিছু কাদা বা মাটি ফেলা হয়। কিন্তু সে কাজও এমন নিম্নমানের যে এক বৃষ্টিতেই তা নষ্ট হয়ে পড়ে। কাজের দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিকল্পনা নেই, নেই টেকসই কোনো পদক্ষেপ।

অনেকেই নিজ উদ্যোগে ব্রিকফিল্ড থেকে ইট, সুরকি এনে রাস্তার ওপর ছড়িয়ে দিয়ে পায়ে হাঁটার উপযোগী করে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এভাবে তো আর একটি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা যায় না। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও দৃঢ় উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।

এত অভিযোগ, এত আবেদন, এত প্রতিবেদন, তবুও কাজ হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতন নাগরিকরা কাদামাটির ছবি পোস্ট করে বারবার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। স্থানীয় পত্রপত্রিকায় বহুবার সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের টনক নড়ছে না।

অথচ এই ইউনিয়ন হাজীগঞ্জ পৌরসভার খুব কাছেই। শহরের লাগোয়া এমন ইউনিয়নেও যদি এতটা অবহেলা হয়, তাহলে দূরবর্তী গ্রামের অবস্থা কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত যদি এই রাস্তাগুলো পাকা না করা হয়, তাহলে একদিকে যেমন মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে, অন্যদিকে শহরমুখী মানুষের স্রোত বাড়বে। একসময় হয়তো পুরো গ্রামই জনমানবশূন্য হয়ে পড়বে। কারণ মানুষ উন্নয়ন চায়, নিরাপদ চলাচল চায়, সন্তানদের ভালো ভবিষ্যৎ চায়—আর গ্রামে সেটা মিলছে না বলেই শহরের দিকে যাত্রা।

তাই এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে দক্ষিণ বড়কুল, আড়ুলি ও মোল্লাডরসহ পুরো রাস্তাটি পাকা করে একটি টেকসই সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। এই রাস্তাই হতে পারে গ্রামের প্রাণ, উন্নয়নের গেটওয়ে এবং মানুষের স্বস্তির একমাত্র অবলম্বন।