আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেনি, তবে কিছু দলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া বা না পাওয়ার বিষয়টি এখন নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে সর্বজনীন ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সব দলের অংশগ্রহণ না হলেও, জনগণ যাতে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১২ জুন যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে ‘হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণের আগে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির সাংবাদিক রাজিনি বৈদ্যনাথনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সাক্ষাৎকারে তার বক্তব্যের সারমর্ম অনুযায়ী, কোনো একটি দল নির্বাচনে না থাকলেও, তা নির্বাচনকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়’ বলে মনে করার কারণ নেই। অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, মূল বিষয় হচ্ছে—দেশের নাগরিকরা যেন নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি পুরো বিষয়টি ন্যস্ত করে তিনি বোঝাতে চান যে, অন্তর্বর্তী সরকার নিজে কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন থেকে বাদ দিতে চায় না বা দেয়নি; বরং দেশের প্রচলিত আইন এবং কমিশনের গাইডলাইনের ভিত্তিতেই সকল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্লেষক মহল মনে করছে, ড. ইউনূসের এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে তখন, যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।




















