ঢাকা ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবনভর কষ্ট, শেষ বয়সে পুরস্কার—সন্তানের নির্যাতন!

 

 

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউনিয়নের উত্তর মৈশাদী গাজী বাড়িতে ঘটেছে হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। ভরণপোষণের টাকা চাওয়ায় নিজের গর্ভজাত দুই ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর হাতে বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন এক অসুস্থ বৃদ্ধ পিতা ও মা।

ভুক্তভোগী বাবা মো. মালেক গাজী (৭৭) এবং মা আমেনা বেগম (৬৭) অভিযোগ করেছেন, তাদের বড় ছেলে সুলতান গাজী ও মেজ ছেলে শরীফ গাজী এবং পুত্রবধূ সুমি বেগম ও আমেনা বেগম মিলে প্রায়শই তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সালিশ করেও এই নির্যাতন থামাতে পারেননি।

মালেক গাজী জানান, তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে আরিফ গাজী মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হলেও মাঝে মাঝে কিছু সহযোগিতা করে। কিন্তু বড় দুই ছেলে নিয়মিতভাবে ভরণপোষণের টাকা না দিয়ে উল্টো মারধর করে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তারা ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩’ অনুযায়ী আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত বড় তিন ছেলেকে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা ভরণপোষণ দিতে নির্দেশ দেন। ছোট ছেলে কিছুটা মানলেও, বড় দুই ছেলে সেই আদেশকে সম্পূর্ণভাবে অমান্য করে।

বৃদ্ধ দম্পতির অভিযোগ, বড় দুই ছেলে আদালতের নির্দেশ তো মানেই না, বরং তাদের শেষ সম্বল ভিটেমাটি নিজের নামে লিখে দিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এতে রাজি না হওয়ায় শারীরিক নির্যাতন আরও বেড়ে যায়।

গত ২০ জুন শুক্রবার বাদ আসর স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে পারিবারিক সালিশি বৈঠক বসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শফিক ভূঁইয়া, নূরু মেম্বার, চুন্নু মেম্বার, সেলিম খান, হাকিম গাজী, তপন খানসহ অন্যান্যরা। সালিশ চলাকালে সবার সামনেই বড় ছেলে সুলতান গাজী তার বাবা মালেক গাজীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। স্ত্রী আমেনা বেগম ছুটে এলে তাকেও লাঠি ও ঘুষি মেরে আহত করা হয়।

বৃদ্ধ মালেক গাজী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার সন্তানদের সুখের জন্য সারাজীবন কষ্ট করেছি। এখন ভরণপোষণ চাইলে তারা আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারে। আদালতের কথাও মানে না। আমার সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিতে চায়, অথচ আমি বলেছি—সব সন্তানই সমান। মৃত্যুর পর সবাই সমানভাবে পাবে। তারা তা মানে না।”

তিনি আরও জানান, তার বিধবা মেয়ে সালমার কাছ থেকেও বড় ছেলে সুলতান গাজী বাড়ি বিক্রির ২ লাখ টাকা ও ১ ভরি স্বর্ণ নিয়ে রেখেছে। সালমার সন্তানরা এতিমখানায় থেকে পড়াশোনা করছে। বিয়ের জন্য পাওনা টাকা চাইলেও বাড়ে অত্যাচার। এমনকি সালমার গরু ও ছাগল বিক্রি করে টাকা দিতে চাপ দেয়। না হলে বিষ দিয়ে পশুগুলো মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

বৃদ্ধ দম্পতি তাদের সন্তানের নির্যাতনের বিচার এবং আইনগত সহায়তা পেতে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটো থেকে পড়ে নারীর মৃ”ত্যু

জীবনভর কষ্ট, শেষ বয়সে পুরস্কার—সন্তানের নির্যাতন!

আপডেট : ০৭:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫

 

 

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউনিয়নের উত্তর মৈশাদী গাজী বাড়িতে ঘটেছে হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। ভরণপোষণের টাকা চাওয়ায় নিজের গর্ভজাত দুই ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর হাতে বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন এক অসুস্থ বৃদ্ধ পিতা ও মা।

ভুক্তভোগী বাবা মো. মালেক গাজী (৭৭) এবং মা আমেনা বেগম (৬৭) অভিযোগ করেছেন, তাদের বড় ছেলে সুলতান গাজী ও মেজ ছেলে শরীফ গাজী এবং পুত্রবধূ সুমি বেগম ও আমেনা বেগম মিলে প্রায়শই তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সালিশ করেও এই নির্যাতন থামাতে পারেননি।

মালেক গাজী জানান, তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে আরিফ গাজী মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হলেও মাঝে মাঝে কিছু সহযোগিতা করে। কিন্তু বড় দুই ছেলে নিয়মিতভাবে ভরণপোষণের টাকা না দিয়ে উল্টো মারধর করে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তারা ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩’ অনুযায়ী আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত বড় তিন ছেলেকে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা ভরণপোষণ দিতে নির্দেশ দেন। ছোট ছেলে কিছুটা মানলেও, বড় দুই ছেলে সেই আদেশকে সম্পূর্ণভাবে অমান্য করে।

বৃদ্ধ দম্পতির অভিযোগ, বড় দুই ছেলে আদালতের নির্দেশ তো মানেই না, বরং তাদের শেষ সম্বল ভিটেমাটি নিজের নামে লিখে দিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এতে রাজি না হওয়ায় শারীরিক নির্যাতন আরও বেড়ে যায়।

গত ২০ জুন শুক্রবার বাদ আসর স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে পারিবারিক সালিশি বৈঠক বসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শফিক ভূঁইয়া, নূরু মেম্বার, চুন্নু মেম্বার, সেলিম খান, হাকিম গাজী, তপন খানসহ অন্যান্যরা। সালিশ চলাকালে সবার সামনেই বড় ছেলে সুলতান গাজী তার বাবা মালেক গাজীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। স্ত্রী আমেনা বেগম ছুটে এলে তাকেও লাঠি ও ঘুষি মেরে আহত করা হয়।

বৃদ্ধ মালেক গাজী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার সন্তানদের সুখের জন্য সারাজীবন কষ্ট করেছি। এখন ভরণপোষণ চাইলে তারা আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারে। আদালতের কথাও মানে না। আমার সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিতে চায়, অথচ আমি বলেছি—সব সন্তানই সমান। মৃত্যুর পর সবাই সমানভাবে পাবে। তারা তা মানে না।”

তিনি আরও জানান, তার বিধবা মেয়ে সালমার কাছ থেকেও বড় ছেলে সুলতান গাজী বাড়ি বিক্রির ২ লাখ টাকা ও ১ ভরি স্বর্ণ নিয়ে রেখেছে। সালমার সন্তানরা এতিমখানায় থেকে পড়াশোনা করছে। বিয়ের জন্য পাওনা টাকা চাইলেও বাড়ে অত্যাচার। এমনকি সালমার গরু ও ছাগল বিক্রি করে টাকা দিতে চাপ দেয়। না হলে বিষ দিয়ে পশুগুলো মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

বৃদ্ধ দম্পতি তাদের সন্তানের নির্যাতনের বিচার এবং আইনগত সহায়তা পেতে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।