হাজীগঞ্জের বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের মোল্লাডহরে গায়ে হলুদে তর্ক-বিতর্ককে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার পাঁছ বছর পর আসামিরা সম্প্রতি জামিনে এসে বাদী ও স্বাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি সংবাদকর্মীদের কাছে এমন অভিযোগ করেন, মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম সরদার মীর হোসেন।
এর আগে ২০২১ সালের ৩১ মার্চ রাতে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা করেন, ওই গ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, তৎকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী মৃত কালা মিয়ার ছেলে মো. রাহেম আলী (৪০), আলী মিয়ার ছেলে মো. শাখাওয়াত হোসেন (২৮), মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে সুমন (৩৫), রাহেম আলীর ছেলে রাব্বি (২০), সাফায়েত মিয়ার ছেলে শেখ ফরিদ (৩৫) সহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন।
তারা ওই দিন রাতের অন্ধকারের এ হামলায় মোস্তফা সরদারের ছেলে সুজন (২৫), বাসু মিয়ার ছেলে রুবেল (৩২), জবেদ আলীর ছেলে আলমগীর সরদার (৩২), ওসমান মিয়ার ছেলে মো. সাদেক মিয়া (৩৫), আবুল কালামের ছেলে ফারুক (২০) এর উপর হামলা চালায়। পরে গুরুতর আহত’কে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়।
এ ঘটনায় ২০২১ সালের ১ এপ্রিল জাহাঙ্গীর আলম সরদার মীর হোসেন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নং- জিআর ১০৮) দায়ের করেন। কিন্তু সরকার দলীয় অনুসারী হওয়ায় ওই সময়ে পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে আসামী শাখাওয়াত হোসেনকে পুলিশ আটক করে এবং পরে অপর আসামী সুমন ৩০/৫/২০২১ সালে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে বের হন।
ঘটনার মুল নায়ক হামলাকারী রাহেম আলী ও রাব্বির পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কিন্তু তৎকালীন সরকার দলের ক্ষমতা দেখিয়ে মামলা থাকার পরও তারা পালিয়ে বিদেশ চলে যায়। এখন বিদেশ থেকে এসে তারা মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন, বাদী জাহাঙ্গীর আলম সরদার মীর হোসেন।
জানা গেছে, বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মো. মজিবুর রহমানের আপন চাচা হলেন রাহেম আলী। অন্যান্য আসামীরাও তার আত্মীয়। মূলত; ওই সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার আর ইউপি চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বলে তারা এলাকায় দাফট খাটিয়ে মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতন করতো। তাদের ভয়ে এলাকার মানুষ কিছুই ছিলেন নিশ্চুপ।
মামলার বাদী ও অন্যান্য স্বাক্ষীরা জানান, সম্প্রতি সময়ে বিদেশ থেকে গোপনে দেশে এসে আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবারো বাদীসহ মামলার অন্যান্য স্বাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকী দিচ্ছে রাহেম আলী ও রাব্বি। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান সংবাদকর্মীদের বলেন, রাহেম আলী বিদেশ থেকে দেশে এসেছে বলে আমি শুনেছি। তবে তার সাথে আমার কোন যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, বড়কুল ইউনিয়নে অপরাধ করে কেউ পার পাবেনা, সে যদি আপনজনও হয়। বাদী পক্ষ বা স্বাক্ষীদের হুমকী ধমকি দেয়া হলে, আইনশৃঙ্খলা বাহনী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
অপর দিকে মামলার বাদী অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেছিলেন, বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের কোন আশ্রয় হবেনা। তা হলে কেন সন্ত্রাসী রাহেম আলী দীর্ঘদিন পলাতক থেকে প্রকাশ্যে এসে হুমকী ধমকী প্রদান করছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, এমন হুমকী-ধমকীর খবর আমাদেরকে কেউ জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


























