চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৭ নম্বর সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মো. সেলিম আল মামুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ছুটিতে থাকার কথা জানানো হলেও তিনি বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না পেয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তবে সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে। অন্য কর্মদিবসগুলোতে ৭ নম্বর সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে তার উপস্থিতি না থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তার উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। উপস্থিতি রেজিস্টারেও তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে জানা গেছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিন জানান, সেলিম আল মামুন ছুটিতে রয়েছেন এবং অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে তার ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে অফিস সহায়ক তা দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া অফিস সহায়ককে দিয়ে নিজের চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা করানোর অভিযোগও রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে এসে অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। ফলে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের কোনো প্রতিষ্ঠানে যেতে হলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।
এদিকে, অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে সেলিম আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান। তবে ঘটনার দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম আল মামুন বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের যা ইচ্ছা তাই লিখেন দেখি আমার কী করতে পারেন।” এ ছাড়া সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোহেল রানা বলেন, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সেলিম আল মামুন কোনো ছুটি নেননি। সদর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তিন দিন অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



















