ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হত্যার দুই বছর পার হলেও গ্রেফতার হলো না খুনিরা

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৫:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • 100
খন্দকার আরিফ :
সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় বাপ্পীর মা রৌশনআরা বেগম। এখনও শোকে কাতর সন্তানহারা পিতা ও ভাই-বোন। পিতা-মাতা সন্তান হত্যার সাথে জড়িত আসামীদের শনাক্ত বা মূল আসামীদের আটক দেখতে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছেন। তারা এখনও আশাবাদী ঘরের বড় ছেলেকে যারা হত্যা করেছেন খুব শীগ্রই তাদের আটক করবে তদন্তকারী সংস্থা। এই বুক ভরা আশা নিয়ে দিন গুনছেন বাপ্পীর গর্ভধারিণী মা।
ছেলে হত্যার দুই বছর পার হবে আগামী বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারী)। এই দিনেই অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন বাপ্পীর পরিবারের সদস্যরা। বাপ্পী খুনিদের হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন, তবে এতিম হয়েছেন তার অবুঝ ২ সন্তান। বুঝ হওয়ার পূর্বেই খুনিরা পিতার স্নেহ ও ভালোবাসা থেকে তাদের বঞ্চিত করলো। আর সন্তানহারা হলো (বাপ্পীর) পিতা-মাতা।
বাপ্পীর মা রৌশনআরা বেগম বলেন, ‘গুনে গুনে ২ টি বছর পার হবে, এখনও শনাক্ত হয়নি  খুনিরা। তদন্ত ক্ষেত্রে আমরা পুলিশকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। তবুও পুলিশ কেন খুনিদের ধরতে পারছে না।’ এতে নিহতের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ না করলেও তারা তদন্তকারী সংস্থার প্রতি এখনও আস্থাশীল রয়েছেন। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারিনি। প্রতিদিন রাতে কান পেতে থাকি। মনে হয়, এই বুঝি বাপ্পী এসে ডাকল, আম্মা দরজা খোল।’
চাঁদপুর বার্তার প্রতিবেদকের কাছে রবিবার ১৯ ফেব্রুয়ারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে আসবে না জেনেও প্রতীক্ষায় আছি। ওরা আমার ছেলেটাকে নির্মমভাবে মেরে ফেলল। কবে ধরা পড়বে খুনিরা। কারা আমার ছেলেকে খুন করেছে, আর কেনইবা ছেলেটিকে হত্যা করলো এমন সংবাদ শুনতে পথ চেয়ে আছি।
হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামের ও হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সেলিম মিয়া ও রৌশনআরা দম্পতির বড় ছেলে মো. আবু বক্কর বাপ্পী। ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী বাপ্পীকে মেরে পুকুরে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। দুইটি বছর পেরোলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে খুনিরা।
ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত পিতা আলহাজ্ব সেলিম মিয়া বারবার স্মৃতিচারণ করেন সেই দিনের ঘটনার। বলেন, ‘২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী রাতে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি বাপ্পী। বের হওয়ার সময় মোবাইল ফোনছাড়া আর কিছুই নেননি। এর ৩ দিন পর ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী সকালে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন রনি’র কাছ থেকে জানতে পারেন ছেলের মরদেহ ভাসছে জিয়ানগর নামক স্থানের একটি পুকুরে।’
ঘটনার দিন রাতেই বাপ্পীর পিতা আলহাজ্ব সেলিম মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে থানা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন উপপরিদর্শক আব্দুল আলিম।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো নেই। আমাদের ছেলেকে হারিয়েছি। আমরা জানি বিচ্ছেদের কী যন্ত্রণা। আমার ছেলে সহজ-সরল ছিল। গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে চেয়ে আছি। কবে খুনিরা আটক হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।’ ছেলেকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিলো। কিন্ত ছেলেটি খুনিদের হাতে হত্যার শিকার হয়ে আমাদের সে স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে।
এর ৪ মাস ৯ দিন পর মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়। এখন মামলার তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক।
বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্ত চলছে। নির্ভরযোগ্য ক্লু না পাওয়ায় রহস্য উদঘাটনে দেরি হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার করছি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে জেলা পুলিশের প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

হত্যার দুই বছর পার হলেও গ্রেফতার হলো না খুনিরা

আপডেট : ০৫:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
খন্দকার আরিফ :
সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় বাপ্পীর মা রৌশনআরা বেগম। এখনও শোকে কাতর সন্তানহারা পিতা ও ভাই-বোন। পিতা-মাতা সন্তান হত্যার সাথে জড়িত আসামীদের শনাক্ত বা মূল আসামীদের আটক দেখতে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছেন। তারা এখনও আশাবাদী ঘরের বড় ছেলেকে যারা হত্যা করেছেন খুব শীগ্রই তাদের আটক করবে তদন্তকারী সংস্থা। এই বুক ভরা আশা নিয়ে দিন গুনছেন বাপ্পীর গর্ভধারিণী মা।
ছেলে হত্যার দুই বছর পার হবে আগামী বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারী)। এই দিনেই অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন বাপ্পীর পরিবারের সদস্যরা। বাপ্পী খুনিদের হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন, তবে এতিম হয়েছেন তার অবুঝ ২ সন্তান। বুঝ হওয়ার পূর্বেই খুনিরা পিতার স্নেহ ও ভালোবাসা থেকে তাদের বঞ্চিত করলো। আর সন্তানহারা হলো (বাপ্পীর) পিতা-মাতা।
বাপ্পীর মা রৌশনআরা বেগম বলেন, ‘গুনে গুনে ২ টি বছর পার হবে, এখনও শনাক্ত হয়নি  খুনিরা। তদন্ত ক্ষেত্রে আমরা পুলিশকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। তবুও পুলিশ কেন খুনিদের ধরতে পারছে না।’ এতে নিহতের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ না করলেও তারা তদন্তকারী সংস্থার প্রতি এখনও আস্থাশীল রয়েছেন। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারিনি। প্রতিদিন রাতে কান পেতে থাকি। মনে হয়, এই বুঝি বাপ্পী এসে ডাকল, আম্মা দরজা খোল।’
চাঁদপুর বার্তার প্রতিবেদকের কাছে রবিবার ১৯ ফেব্রুয়ারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে আসবে না জেনেও প্রতীক্ষায় আছি। ওরা আমার ছেলেটাকে নির্মমভাবে মেরে ফেলল। কবে ধরা পড়বে খুনিরা। কারা আমার ছেলেকে খুন করেছে, আর কেনইবা ছেলেটিকে হত্যা করলো এমন সংবাদ শুনতে পথ চেয়ে আছি।
হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামের ও হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সেলিম মিয়া ও রৌশনআরা দম্পতির বড় ছেলে মো. আবু বক্কর বাপ্পী। ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী বাপ্পীকে মেরে পুকুরে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। দুইটি বছর পেরোলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে খুনিরা।
ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত পিতা আলহাজ্ব সেলিম মিয়া বারবার স্মৃতিচারণ করেন সেই দিনের ঘটনার। বলেন, ‘২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী রাতে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি বাপ্পী। বের হওয়ার সময় মোবাইল ফোনছাড়া আর কিছুই নেননি। এর ৩ দিন পর ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী সকালে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন রনি’র কাছ থেকে জানতে পারেন ছেলের মরদেহ ভাসছে জিয়ানগর নামক স্থানের একটি পুকুরে।’
ঘটনার দিন রাতেই বাপ্পীর পিতা আলহাজ্ব সেলিম মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে থানা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন উপপরিদর্শক আব্দুল আলিম।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো নেই। আমাদের ছেলেকে হারিয়েছি। আমরা জানি বিচ্ছেদের কী যন্ত্রণা। আমার ছেলে সহজ-সরল ছিল। গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে চেয়ে আছি। কবে খুনিরা আটক হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।’ ছেলেকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিলো। কিন্ত ছেলেটি খুনিদের হাতে হত্যার শিকার হয়ে আমাদের সে স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে।
এর ৪ মাস ৯ দিন পর মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়। এখন মামলার তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক।
বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্ত চলছে। নির্ভরযোগ্য ক্লু না পাওয়ায় রহস্য উদঘাটনে দেরি হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার করছি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’