ঢাকা ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে শুক্রবার ঈদ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৫:০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ এপ্রিল ২০২৩
  • 54
শাখাওয়াত হোসেন শামীম:
হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা।।সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে শুক্রবার (২০ এপ্রিল) উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। এসব গ্রামে ৯১ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন হচ্ছে। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা ঘোষণার পর পরই এসব গ্রামে ঈদের আনন্দ বইছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭নং পশ্চিম বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়ন সাদ্রা দরবার শরীফ বর্তমান পীর মো. আরিফ চৌধুরী জানান, এই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা পীর মাওলানা ইসহাক সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে রোজা ও ঈদ পালনের রেওয়াজ চালু করেন।

তিনি জানান, ১৯৩১ সাল থেকে সাদ্রা মাদ্রাসায় আমার দাদা এবং তার মৃত্যুর পর আমার বাবা ঈদ জামাতের ইমামতি করেছেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকে আমি এর দায়িত্বে রয়েছি।

শুক্রবার ঈদ উদযাপিত হওয়া চাঁদপুরের গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বরকুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, বাশারা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ কচুয়া ও শাহরাস্তির বেশ কয়েকটি গ্রাম।

হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭নং পশ্চিম বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল আমিন হেলাল জানান, আমার ইউনিয়নের একটি অংশ আগামীকাল শুক্রবার ঈদুল ফিতর পালন করবে। এজন্য এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯২৮ সালে হাজীগঞ্জ রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের উদ্যোগ নেন। কিন্তু স্থানীয়দের অসহযোগিতার মুখে তা ভেস্তে যায়। সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে একদিন আগে ঈদ পালনের উদ্যোগ নেওয়ায় অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। ওই বছরই নিজ গ্রাম সাদ্রয় ফিরে আসেন তিনি।

ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান মাওলানা ইসহাক ওই বছরই নিজ গ্রামে ফিরে একাই উদ্যোগ নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন। গ্রামের অসহায় ও দুঃস্থদের আর্থিক সাহায্য দিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদসহ সব ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন প্রথা চালু করেন। পরে তিনি দরবার শরীফ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

আজ চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে শুক্রবার ঈদ

আপডেট : ০৫:০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ এপ্রিল ২০২৩
শাখাওয়াত হোসেন শামীম:
হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা।।সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে শুক্রবার (২০ এপ্রিল) উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। এসব গ্রামে ৯১ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন হচ্ছে। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা ঘোষণার পর পরই এসব গ্রামে ঈদের আনন্দ বইছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭নং পশ্চিম বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়ন সাদ্রা দরবার শরীফ বর্তমান পীর মো. আরিফ চৌধুরী জানান, এই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা পীর মাওলানা ইসহাক সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে রোজা ও ঈদ পালনের রেওয়াজ চালু করেন।

তিনি জানান, ১৯৩১ সাল থেকে সাদ্রা মাদ্রাসায় আমার দাদা এবং তার মৃত্যুর পর আমার বাবা ঈদ জামাতের ইমামতি করেছেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকে আমি এর দায়িত্বে রয়েছি।

শুক্রবার ঈদ উদযাপিত হওয়া চাঁদপুরের গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বরকুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, বাশারা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ কচুয়া ও শাহরাস্তির বেশ কয়েকটি গ্রাম।

হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭নং পশ্চিম বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল আমিন হেলাল জানান, আমার ইউনিয়নের একটি অংশ আগামীকাল শুক্রবার ঈদুল ফিতর পালন করবে। এজন্য এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯২৮ সালে হাজীগঞ্জ রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের উদ্যোগ নেন। কিন্তু স্থানীয়দের অসহযোগিতার মুখে তা ভেস্তে যায়। সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে একদিন আগে ঈদ পালনের উদ্যোগ নেওয়ায় অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। ওই বছরই নিজ গ্রাম সাদ্রয় ফিরে আসেন তিনি।

ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান মাওলানা ইসহাক ওই বছরই নিজ গ্রামে ফিরে একাই উদ্যোগ নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন। গ্রামের অসহায় ও দুঃস্থদের আর্থিক সাহায্য দিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদসহ সব ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন প্রথা চালু করেন। পরে তিনি দরবার শরীফ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।