ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জ স্কুল কক্ষে চলে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম

রিয়াজ শাওন:

চাঁদপুর জেলার বাণিজ্যের রাজধানী খ্যাত উপজেলা হাজীগঞ্জ। ডাকাতিয়া নদীর কোল ঘেষে গড়ে উঠা এই উপজেলা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেও, বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে অভাব। এখানে নেই কোন ভালো বিনোদন কেন্দ্র। নেই সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার করার সুযোগ সুবিধা। ফলে মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ বিনোদন কেন্দ্র এবং সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্রের অভাব দীর্ঘদিনের নিত্যসঙ্গী এই উপজেলার মানুষের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাজীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী। যদিও নামমাত্র চলে কার্যক্রম ।  বর্তমানে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সংগীত, নৃত্য, চিত্রকলা এই তিন বিভাগে প্রশিক্ষনার্থীদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

যেখানে ২০২২ সেশনে চিত্রকলা বিভাগে ৩০ জন, সংগীত বিভাগে ৮ জন, নৃত্যকলা বিভাগে ১২ জন সহ মোট ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এছাড়াও ২০২৩ সেশনে ভর্তি হয়েছে, চিত্রকলা বিভাগে ৩৩ জন, সংগীত বিভাগ ১৯ জন, নৃত্যকলা বিভাগে ১৩ জন প্রশিক্ষণার্থী।

হাজীগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির নিজস্ব কোন ভবন নাই। নেই স্থায়ী কোন কার্যালয়। ফলে গত কয়েক বছর ধরে হাজীগঞ্জ পৌরসভারধীন হাজীগঞ্জ পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ একটি ভবনের চতুর্থ তলায় উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এছাড়াও এই উপজেলায় বড় ধরনের কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপন করার মত নেই মিলনায়তন।  উপজেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপযাপন করার একমাত্র ভরসা হলো ছোট আকারের উপজেলা মিলনায়তন। যেখানে সাংস্কৃতিক চার্চ বা উদযাপন করার মত কোন আধুনিক সুযোগ সুবিধা নেই।

উপজেলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি উপজেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন শিল্পকলা একাডেমি তৈরি করার। যেখানে একই সাথে শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ নিতে পারবে সেই সাথে উপজেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারবে।

সাংস্কৃতিকর্মী নীহার রঞ্জন হালদার বলেন, এখন শিল্পকলা একাডেমির কাজ চলে স্কুলের একটি রুমে । তাও নাম মাত্র কার্যক্রম চলে। যেভাবে কার্যক্রম চলে এটা ঠিক বলে আমি মনে করিনা। যাদের দ্বারা শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম হওয়া উচিত তাদের দ্বারা হচ্ছে না।
সবচেয়ে বড় কথা সংস্কৃতিকর্মীরা যে একটি পারফরম্যান্স করবে তার কোন একটি জায়গা নেই এই উপজেলায়। কোন মুক্ত মঞ্চ নেই যে বাচ্চাদের পারফরম্যান্স করানো যায়। অবশ্যই হাজীগঞ্জ উপজেলায় একটি শিল্পকলা একাডেমির ভবন হওয়া উচিত।

সাহিত্যে ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি সাবিহা আক্তার বলেন, এখন শিল্পকলা একাডেমির পাইলট স্কুলে ক্লাস হয়। সব কিছু অন্য একটা প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল। শিল্পকলা একাডেমির নিজস্ব ভবন থাকলে সাংস্কৃতিচর্চার করার ক্ষেত্রে যে সুবিধা হত তাই এখন হয় না। অবশ্যই একটি শিল্পকলা একাডেমী নিজস্ব ভবন চাই।

হাজীগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পলাশ বলেন, বাংলাদেশের উপজেলারগুলোর মাঝে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী অবস্থান হাজীগঞ্জ, কিন্তু এখানকার রাজনৈতিক নেতারা পোশাকী সাংস্কৃতিকমনা বাস্তবতা তারা কোন সংস্কৃতির চর্চার সাথে নাই। এই উপজেলার কি আছে? বাচ্চাদের বিনোদনের কোন জায়াগা আছে? না সংস্কৃতি চর্চার কোন কেন্দ্র আছে?  স্কুলে নাম মাত্র শিল্পকলা একাডেমি চলে। আমরা অবিলম্বে হাজীগঞ্জে শিল্পকলা একাডেমী নিজস্ব ভবন চাই।

এই বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চায় শিল্পকল একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আমাদের  শিল্পকল একাডেমির নিজস্ব ভবন নাই। কিন্তু আমাদের কার্য়ক্রম চলে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সোনাতলায় সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান, মণ্ডল হোটেলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

হাজীগঞ্জ স্কুল কক্ষে চলে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম

আপডেট : ১০:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ মে ২০২৩

রিয়াজ শাওন:

চাঁদপুর জেলার বাণিজ্যের রাজধানী খ্যাত উপজেলা হাজীগঞ্জ। ডাকাতিয়া নদীর কোল ঘেষে গড়ে উঠা এই উপজেলা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেও, বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে অভাব। এখানে নেই কোন ভালো বিনোদন কেন্দ্র। নেই সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার করার সুযোগ সুবিধা। ফলে মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ বিনোদন কেন্দ্র এবং সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্রের অভাব দীর্ঘদিনের নিত্যসঙ্গী এই উপজেলার মানুষের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাজীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী। যদিও নামমাত্র চলে কার্যক্রম ।  বর্তমানে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সংগীত, নৃত্য, চিত্রকলা এই তিন বিভাগে প্রশিক্ষনার্থীদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

যেখানে ২০২২ সেশনে চিত্রকলা বিভাগে ৩০ জন, সংগীত বিভাগে ৮ জন, নৃত্যকলা বিভাগে ১২ জন সহ মোট ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এছাড়াও ২০২৩ সেশনে ভর্তি হয়েছে, চিত্রকলা বিভাগে ৩৩ জন, সংগীত বিভাগ ১৯ জন, নৃত্যকলা বিভাগে ১৩ জন প্রশিক্ষণার্থী।

হাজীগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির নিজস্ব কোন ভবন নাই। নেই স্থায়ী কোন কার্যালয়। ফলে গত কয়েক বছর ধরে হাজীগঞ্জ পৌরসভারধীন হাজীগঞ্জ পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ একটি ভবনের চতুর্থ তলায় উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এছাড়াও এই উপজেলায় বড় ধরনের কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপন করার মত নেই মিলনায়তন।  উপজেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপযাপন করার একমাত্র ভরসা হলো ছোট আকারের উপজেলা মিলনায়তন। যেখানে সাংস্কৃতিক চার্চ বা উদযাপন করার মত কোন আধুনিক সুযোগ সুবিধা নেই।

উপজেলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি উপজেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন শিল্পকলা একাডেমি তৈরি করার। যেখানে একই সাথে শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ নিতে পারবে সেই সাথে উপজেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারবে।

সাংস্কৃতিকর্মী নীহার রঞ্জন হালদার বলেন, এখন শিল্পকলা একাডেমির কাজ চলে স্কুলের একটি রুমে । তাও নাম মাত্র কার্যক্রম চলে। যেভাবে কার্যক্রম চলে এটা ঠিক বলে আমি মনে করিনা। যাদের দ্বারা শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম হওয়া উচিত তাদের দ্বারা হচ্ছে না।
সবচেয়ে বড় কথা সংস্কৃতিকর্মীরা যে একটি পারফরম্যান্স করবে তার কোন একটি জায়গা নেই এই উপজেলায়। কোন মুক্ত মঞ্চ নেই যে বাচ্চাদের পারফরম্যান্স করানো যায়। অবশ্যই হাজীগঞ্জ উপজেলায় একটি শিল্পকলা একাডেমির ভবন হওয়া উচিত।

সাহিত্যে ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি সাবিহা আক্তার বলেন, এখন শিল্পকলা একাডেমির পাইলট স্কুলে ক্লাস হয়। সব কিছু অন্য একটা প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল। শিল্পকলা একাডেমির নিজস্ব ভবন থাকলে সাংস্কৃতিচর্চার করার ক্ষেত্রে যে সুবিধা হত তাই এখন হয় না। অবশ্যই একটি শিল্পকলা একাডেমী নিজস্ব ভবন চাই।

হাজীগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পলাশ বলেন, বাংলাদেশের উপজেলারগুলোর মাঝে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী অবস্থান হাজীগঞ্জ, কিন্তু এখানকার রাজনৈতিক নেতারা পোশাকী সাংস্কৃতিকমনা বাস্তবতা তারা কোন সংস্কৃতির চর্চার সাথে নাই। এই উপজেলার কি আছে? বাচ্চাদের বিনোদনের কোন জায়াগা আছে? না সংস্কৃতি চর্চার কোন কেন্দ্র আছে?  স্কুলে নাম মাত্র শিল্পকলা একাডেমি চলে। আমরা অবিলম্বে হাজীগঞ্জে শিল্পকলা একাডেমী নিজস্ব ভবন চাই।

এই বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চায় শিল্পকল একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আমাদের  শিল্পকল একাডেমির নিজস্ব ভবন নাই। কিন্তু আমাদের কার্য়ক্রম চলে।