ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাউকোরা গ্রামে সালিশের রায়ে ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা!

খন্দকার আরিফ:
হাজীগঞ্জে ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে প্রভাবশালীদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে সাদা স্ট্যাম্পে জোর করে ধর্ষিতার স্বাক্ষর আদায় করে ধর্ষণের ইজ্জতের মূল্য ধার্য করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ।
ওই সালিশ বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, শুক্রবার (১২মে) আদালত ও আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের লাউকোরা গ্রামের ইউপি সদস্য রহমতউল্লাহর নেতৃত্বে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আ. কাইয়ুম বেপারী ও কুদ্দুছ সর্দার ওই গ্রামের সর্দার বাড়ির মাদ্রাসা পড়ুয়া ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ ঘটনায় ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে কৌশলে সালিশ বৈঠক হাজির করা হয়। ওই সালিশ বৈঠকে এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য লোকজনসহ শতাধিক জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। মেম্বারের সভাপতিত্বে ধর্ষণের সালিশ বৈঠকে ৬ সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়।
স্বল্প সময়ের স্থায়ী সালিশ বৈঠকের শুরুতেই ইউপি সদস্য হতদরিদ্র ধর্ষিতার বাবা ও ধর্ষিতাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে তাদের মঙ্গলের জন্য এই সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে ৩শ’ টাকার ব্লাক স্ট্যাম্পে ধর্ষিতা, তার বাবা, ধর্ষক রায়হান, তার বাবা সিরাজুল ইসলাম ছেরু ও স্থানীয় কয়েকজনের স্বাক্ষর আদায় করেন।
এরপর ইউপি সদস্য সালিশ বোর্ডের ওই ৬ সদস্য আলাদাভাবে এক জায়গায় বসে ধর্ষকের দেড় লাখ টাকা টাকা জরিমানা ধার্য করেন। সালিশ বৈঠকে উপস্থিত জনগনের কাছে চেয়ারম্যান ধর্ষণের বিচারে দেড় লাখ টাকার রায় ঘোষণার পর তিনিই ওই সভায় বলেন এখানে আপিলের সুযোগ রয়েছে। আপিলের কথা শুনে ধর্ষকের বাবা জরিমানা কমানোর আবেদন করলে শালিশবৃন্দ ৩০ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ধার্য করেন। ওই সময় ধর্ষকের পরিবার জরিমানার পুরো টাকা মেম্বারের হাতে দিয়ে দেন।
ধর্ষিতার স্বজনেরা জানান, অর্থের অভাবে মামলা চালানো তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। আর মামলা করার জন্য মেম্বারসহ কেউ সহযোগিতা করেনি। তারা সবাই চেয়েছে  বিষয়টি সমাধান হোক। এই সুযোগ নিয়ে প্রহসনের সালিশ বৈঠক করা হয়েছে। তবে ধর্ষিতা কিশোরী ও ধর্ষক সম্পর্কীয় চাচা-ভাতিজী।
এব্যাপারে ইউপি সদস্য রহমতউল্ল্যাহ সাংবাদিকদের জানান, উপর মহলের সাথে কথা বলে এলাকার শান্তির জন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেছেন। কোন উপর মহলের নির্দেশে করেছেন এমনটি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মজুমদার বলেন, বিষয়টি আমি অবহিত নয়, আমার ইউপি সদস্য রহমতউল্ল্যাহ এমন ঘটনার সমাধান না করে ধর্ষিতার পরিবারকে আইনী সহায়তায় দিতে পারতেন।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

লাউকোরা গ্রামে সালিশের রায়ে ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা!

আপডেট : ০২:২৮:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ মে ২০২৩
খন্দকার আরিফ:
হাজীগঞ্জে ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে প্রভাবশালীদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে সাদা স্ট্যাম্পে জোর করে ধর্ষিতার স্বাক্ষর আদায় করে ধর্ষণের ইজ্জতের মূল্য ধার্য করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ।
ওই সালিশ বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, শুক্রবার (১২মে) আদালত ও আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের লাউকোরা গ্রামের ইউপি সদস্য রহমতউল্লাহর নেতৃত্বে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আ. কাইয়ুম বেপারী ও কুদ্দুছ সর্দার ওই গ্রামের সর্দার বাড়ির মাদ্রাসা পড়ুয়া ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ ঘটনায় ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে কৌশলে সালিশ বৈঠক হাজির করা হয়। ওই সালিশ বৈঠকে এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য লোকজনসহ শতাধিক জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। মেম্বারের সভাপতিত্বে ধর্ষণের সালিশ বৈঠকে ৬ সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়।
স্বল্প সময়ের স্থায়ী সালিশ বৈঠকের শুরুতেই ইউপি সদস্য হতদরিদ্র ধর্ষিতার বাবা ও ধর্ষিতাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে তাদের মঙ্গলের জন্য এই সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে ৩শ’ টাকার ব্লাক স্ট্যাম্পে ধর্ষিতা, তার বাবা, ধর্ষক রায়হান, তার বাবা সিরাজুল ইসলাম ছেরু ও স্থানীয় কয়েকজনের স্বাক্ষর আদায় করেন।
এরপর ইউপি সদস্য সালিশ বোর্ডের ওই ৬ সদস্য আলাদাভাবে এক জায়গায় বসে ধর্ষকের দেড় লাখ টাকা টাকা জরিমানা ধার্য করেন। সালিশ বৈঠকে উপস্থিত জনগনের কাছে চেয়ারম্যান ধর্ষণের বিচারে দেড় লাখ টাকার রায় ঘোষণার পর তিনিই ওই সভায় বলেন এখানে আপিলের সুযোগ রয়েছে। আপিলের কথা শুনে ধর্ষকের বাবা জরিমানা কমানোর আবেদন করলে শালিশবৃন্দ ৩০ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ধার্য করেন। ওই সময় ধর্ষকের পরিবার জরিমানার পুরো টাকা মেম্বারের হাতে দিয়ে দেন।
ধর্ষিতার স্বজনেরা জানান, অর্থের অভাবে মামলা চালানো তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। আর মামলা করার জন্য মেম্বারসহ কেউ সহযোগিতা করেনি। তারা সবাই চেয়েছে  বিষয়টি সমাধান হোক। এই সুযোগ নিয়ে প্রহসনের সালিশ বৈঠক করা হয়েছে। তবে ধর্ষিতা কিশোরী ও ধর্ষক সম্পর্কীয় চাচা-ভাতিজী।
এব্যাপারে ইউপি সদস্য রহমতউল্ল্যাহ সাংবাদিকদের জানান, উপর মহলের সাথে কথা বলে এলাকার শান্তির জন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেছেন। কোন উপর মহলের নির্দেশে করেছেন এমনটি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মজুমদার বলেন, বিষয়টি আমি অবহিত নয়, আমার ইউপি সদস্য রহমতউল্ল্যাহ এমন ঘটনার সমাধান না করে ধর্ষিতার পরিবারকে আইনী সহায়তায় দিতে পারতেন।