ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী: টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের ঘটনা ইউপি সদস্য রহমত উল্লাহ্‌ নেতৃত্বে ধামাচাপা 

শাখাওয়াত হোসেন শামীম:

হাজীগঞ্জে এক কিশোরের (১৪) ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য রহমত উল্লাহ ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি কাইয়ুম বেপারীর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ধর্ষক কিশোর হাজীগঞ্জ উপজেলার ৮ নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের লাওকোরা সর্দার বাড়ির সিরাজুল ইসলাম ওরফে ছেরু সর্দারের ছেলে।

সরে জমিনে গিয়ে জানা যায়, পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় ওই কিশোর কিশোরীকে ডেকে এনে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এতে কিশোরী ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

এ নিয়ে শুক্রবার (১২ মে)  রাতে ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি কাইয়ুম বেপারীর নেতৃত্বে বাড়ির লোকজন মিলে একটি সালিশি বৈঠক হয়।

সেই বৈঠকে ১লক্ষ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

অভিযোগ উঠেছে, জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং কিশোরীর পিতাকে আইনের আশ্রয় না নিতে শালিশি বৈঠকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

ধর্ষিতার স্বজনেরা জানান,ধর্ষণে শিকার ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী মাদ্রাসা পড়ুয়া ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। অর্থের অভাবে মামলা চালানো আমাদের  জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। আর মামলা করার জন্য মেম্বারসহ কেউ সহযোগিতা করেনি। তারা সবাই চেয়েছে বিষয়টি সমাধান হোক। এই সুযোগ নিয়ে প্রহসনের সালিশ বৈঠক করা হয়েছে। তবে ধর্ষিতা কিশোরী ও ধর্ষক সম্পর্কীয় চাচা-ভাতিজী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাইয়্যুম বেপারী বলেন, গত শুক্রবার (১২ মে) মেম্বার (ইউপি সদস্য) রহমত উল্যাহ আমাকে ওই বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর দুই পরিবারের পক্ষ থেকে চারজন এবং দুই পরিবারের লোকজন বসে তারা সিদ্বান্ত গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, ছেলে-মেয়ে উভয় অপ্রাপ্ত বয়সের এবং সম্পর্কে চাচা-ভাতিজি। তাই, আমি তাদের থানা বা কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু তারা ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে পারিবারিকভাবে মেয়ের চিকিৎসার জন্য ১ লাখ ২০ টাকা দেওয়ার সিদ্বান্ত নিয়েছে বলে শুনেছি। ওই সময়ে আমি ছিলাম না।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রহমত উল্লাহ্‌ সাংবাদিকদের জানান,উপর মহলের সাথে কথা বলে এলাকার শান্তির জন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেছেন। কোন উপর মহলের নির্দেশে করেছেন এমনটি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মজুমদার জানান,বিষয়টি আমি অবগত না, আমার ইউপি সদস্য রহমতউল্ল্যাহ এমন ঘটনার সমাধান না করে ধর্ষিতার পরিবারকে আইনী সহায়তায় দিতে পারতেন।

হাজীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ জোবাইর সৈয়দ জানান, অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে সকল প্রকার আইনি সহযোগিতা করা হবে ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী: টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের ঘটনা ইউপি সদস্য রহমত উল্লাহ্‌ নেতৃত্বে ধামাচাপা 

আপডেট : ০৮:২৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ মে ২০২৩

শাখাওয়াত হোসেন শামীম:

হাজীগঞ্জে এক কিশোরের (১৪) ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য রহমত উল্লাহ ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি কাইয়ুম বেপারীর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ধর্ষক কিশোর হাজীগঞ্জ উপজেলার ৮ নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের লাওকোরা সর্দার বাড়ির সিরাজুল ইসলাম ওরফে ছেরু সর্দারের ছেলে।

সরে জমিনে গিয়ে জানা যায়, পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় ওই কিশোর কিশোরীকে ডেকে এনে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এতে কিশোরী ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

এ নিয়ে শুক্রবার (১২ মে)  রাতে ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি কাইয়ুম বেপারীর নেতৃত্বে বাড়ির লোকজন মিলে একটি সালিশি বৈঠক হয়।

সেই বৈঠকে ১লক্ষ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

অভিযোগ উঠেছে, জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং কিশোরীর পিতাকে আইনের আশ্রয় না নিতে শালিশি বৈঠকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

ধর্ষিতার স্বজনেরা জানান,ধর্ষণে শিকার ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী মাদ্রাসা পড়ুয়া ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। অর্থের অভাবে মামলা চালানো আমাদের  জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। আর মামলা করার জন্য মেম্বারসহ কেউ সহযোগিতা করেনি। তারা সবাই চেয়েছে বিষয়টি সমাধান হোক। এই সুযোগ নিয়ে প্রহসনের সালিশ বৈঠক করা হয়েছে। তবে ধর্ষিতা কিশোরী ও ধর্ষক সম্পর্কীয় চাচা-ভাতিজী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাইয়্যুম বেপারী বলেন, গত শুক্রবার (১২ মে) মেম্বার (ইউপি সদস্য) রহমত উল্যাহ আমাকে ওই বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর দুই পরিবারের পক্ষ থেকে চারজন এবং দুই পরিবারের লোকজন বসে তারা সিদ্বান্ত গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, ছেলে-মেয়ে উভয় অপ্রাপ্ত বয়সের এবং সম্পর্কে চাচা-ভাতিজি। তাই, আমি তাদের থানা বা কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু তারা ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে পারিবারিকভাবে মেয়ের চিকিৎসার জন্য ১ লাখ ২০ টাকা দেওয়ার সিদ্বান্ত নিয়েছে বলে শুনেছি। ওই সময়ে আমি ছিলাম না।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রহমত উল্লাহ্‌ সাংবাদিকদের জানান,উপর মহলের সাথে কথা বলে এলাকার শান্তির জন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেছেন। কোন উপর মহলের নির্দেশে করেছেন এমনটি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মজুমদার জানান,বিষয়টি আমি অবগত না, আমার ইউপি সদস্য রহমতউল্ল্যাহ এমন ঘটনার সমাধান না করে ধর্ষিতার পরিবারকে আইনী সহায়তায় দিতে পারতেন।

হাজীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ জোবাইর সৈয়দ জানান, অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে সকল প্রকার আইনি সহযোগিতা করা হবে ।