ঢাকা ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকিলা সম্পত্তিগত বিরোধে বিবাদীর বসতঘরে বাদীর পূর্বপরিকল্পিত আগুন!

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৯:১০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জুন ২০২৩
  • 53
খন্দকার আরিফ:
প্রতিপক্ষের দায়ের করায় মামলা আদালতে হাজিরা দিতে যান অভিযুক্তরা। বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিবাদীদের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেন। তবে বাড়ির অন্যান্যদের সহযোগিতা আগুন নিভিয়ে পেলায় পুরো বসতঘরটি রক্ষা পায়। এরপূর্বেও প্রতিক্ষরা বিবাদীদের দুচালা টিনশেড ঘর দলবল নিয়ে ফিল্ম স্টাইলে খুলে নিয়ে যায়। এঘটনায় ১১ জনকে অভিযুক্ত করে হাজীগঞ্জ থানা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি হাজীগঞ্জ উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের ছয়ছিলা গ্রামের কুনু মিজি বাড়িতে।
থানার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত মৌলভী সৈয়দ আহমেদ এর ছেলে এস এম বাহার উল্ল্যাহ’র পরিবারের লোকদের সাথে আবুল কালামের ছেলে ইমান হোসেন গংদের সম্পত্তিগত বিরোধ চলে আসছে। ১৯৮২ সালে এস এম বাহার উল্ল্যাহ’র সাথে আব্দুল মান্নান গংদের সাড়ে ৪ শতাংশ সম্পত্তি বিনিময় হয়। কিন্ত আ. মান্নান গংয়ের ওয়ারিশগন বর্তমানে বিনিময়কৃত সম্পত্তি প্রত্যাক্ষান করে বাহার উল্ল্যার (বিনিময় ও খরিদকৃত) সম্পত্তির উপর থাকায় টিনশেড বসতঘর জোরপূর্বক খুলে নিয়ে যায়। এরপর আ. মান্নান গংয়ের লোকজন জবর দখল করে একচালা ঘর উঠান। তবে বিনিময় হওয়া সম্পত্তি আ. মান্নান গং তাদের সম্পত্তি দখল করলেও এস এম বাহার উল্ল্যার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেননি।
বসতঘর ভেঙ্গে ফেলায় এবং ক্ষতি সাধনের অভিযোগ এনে ঘটনার দিন গত ১০ জুন মৃত মৌলভী সৈয়দ আহমেদের ছেলে এস এম বাহার উল্ল্যা বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানা ১১ জনকে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সোমবার (১৯ জুন) সকালে ইমান হোসেনের দায়ের করায় মামলা চাঁদপুর আদালতে হাজির দিতে যান এস এম বাহার উল্ল্যাসহ ১৪ জন আসামী। সকাল ১০ টায় এই সুযোগে বাদী ইমান হোসেন গং বিবাদী বাহার উল্ল্যার বসতঘরে কেরোসিন তেল ঢেলে বসতঘরের দরজার সম্মূখে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই সময় আগুনের ধোয়া দেখতে পান একই বাড়ির মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে লুৎফুননাহার। পরে তার চিৎকারে বাড়ির অন্যান্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়ে পেলেন। এতে পুরো বসতঘরটি পরিকল্পিত আগুনের হাত থেকে রক্ষা পায়।
অভিযোগযুক্তরা হলেন, আবুল কালামের ছেলে ইমান হোসেন, মৃত আ. হাকিমের ছেলে সুরুজ মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, আবুল কালাম, খোরশেদ বকাউলের ছেলে ইউসুফ বকাউল, মৃত কালু বকাউলের ছেলে হুমায়ন, আলমগীর বকাউলের ছেলে কামরুল বকাউল, দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, তার মেয়ে জোসনা বেগম, কাজল রেখা ও নুর আলমের স্ত্রী রুশিয়া।
অভিযোগের আলোকে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর আলম ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। বসতঘর ভেঙ্গে নেওয়া ও ক্ষতিসাধন করায় এবং সোমবার বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

বাকিলা সম্পত্তিগত বিরোধে বিবাদীর বসতঘরে বাদীর পূর্বপরিকল্পিত আগুন!

আপডেট : ০৯:১০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জুন ২০২৩
খন্দকার আরিফ:
প্রতিপক্ষের দায়ের করায় মামলা আদালতে হাজিরা দিতে যান অভিযুক্তরা। বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিবাদীদের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেন। তবে বাড়ির অন্যান্যদের সহযোগিতা আগুন নিভিয়ে পেলায় পুরো বসতঘরটি রক্ষা পায়। এরপূর্বেও প্রতিক্ষরা বিবাদীদের দুচালা টিনশেড ঘর দলবল নিয়ে ফিল্ম স্টাইলে খুলে নিয়ে যায়। এঘটনায় ১১ জনকে অভিযুক্ত করে হাজীগঞ্জ থানা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি হাজীগঞ্জ উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের ছয়ছিলা গ্রামের কুনু মিজি বাড়িতে।
থানার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত মৌলভী সৈয়দ আহমেদ এর ছেলে এস এম বাহার উল্ল্যাহ’র পরিবারের লোকদের সাথে আবুল কালামের ছেলে ইমান হোসেন গংদের সম্পত্তিগত বিরোধ চলে আসছে। ১৯৮২ সালে এস এম বাহার উল্ল্যাহ’র সাথে আব্দুল মান্নান গংদের সাড়ে ৪ শতাংশ সম্পত্তি বিনিময় হয়। কিন্ত আ. মান্নান গংয়ের ওয়ারিশগন বর্তমানে বিনিময়কৃত সম্পত্তি প্রত্যাক্ষান করে বাহার উল্ল্যার (বিনিময় ও খরিদকৃত) সম্পত্তির উপর থাকায় টিনশেড বসতঘর জোরপূর্বক খুলে নিয়ে যায়। এরপর আ. মান্নান গংয়ের লোকজন জবর দখল করে একচালা ঘর উঠান। তবে বিনিময় হওয়া সম্পত্তি আ. মান্নান গং তাদের সম্পত্তি দখল করলেও এস এম বাহার উল্ল্যার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেননি।
বসতঘর ভেঙ্গে ফেলায় এবং ক্ষতি সাধনের অভিযোগ এনে ঘটনার দিন গত ১০ জুন মৃত মৌলভী সৈয়দ আহমেদের ছেলে এস এম বাহার উল্ল্যা বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানা ১১ জনকে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সোমবার (১৯ জুন) সকালে ইমান হোসেনের দায়ের করায় মামলা চাঁদপুর আদালতে হাজির দিতে যান এস এম বাহার উল্ল্যাসহ ১৪ জন আসামী। সকাল ১০ টায় এই সুযোগে বাদী ইমান হোসেন গং বিবাদী বাহার উল্ল্যার বসতঘরে কেরোসিন তেল ঢেলে বসতঘরের দরজার সম্মূখে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই সময় আগুনের ধোয়া দেখতে পান একই বাড়ির মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে লুৎফুননাহার। পরে তার চিৎকারে বাড়ির অন্যান্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়ে পেলেন। এতে পুরো বসতঘরটি পরিকল্পিত আগুনের হাত থেকে রক্ষা পায়।
অভিযোগযুক্তরা হলেন, আবুল কালামের ছেলে ইমান হোসেন, মৃত আ. হাকিমের ছেলে সুরুজ মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, আবুল কালাম, খোরশেদ বকাউলের ছেলে ইউসুফ বকাউল, মৃত কালু বকাউলের ছেলে হুমায়ন, আলমগীর বকাউলের ছেলে কামরুল বকাউল, দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, তার মেয়ে জোসনা বেগম, কাজল রেখা ও নুর আলমের স্ত্রী রুশিয়া।
অভিযোগের আলোকে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর আলম ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। বসতঘর ভেঙ্গে নেওয়া ও ক্ষতিসাধন করায় এবং সোমবার বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।