ঢাকা ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে মোবাইল আসক্তিতে শিক্ষার্থীরা গাছের ডালে

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৮:২০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অগাস্ট ২০২৩
  • 46

 

 

ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা মিলছে স্কুল কলেজ বা মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অভিভাবক ও শিক্ষকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গাছের মগ ডালে বসে মোবাইল ফোনে আসক্ত।

উপজেলার উপাধিকে গ্রামের কড়ইতলী কে এ আলিম মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ওই এলাকার রাস্তার পাশের একটি আম গাছের মগডালে বসে মোবাইলে গেমস খেলতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলে আমরা কড়ইতলী কে এ আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আজকে মাদ্রাসায় যায়নি তাই এখানে এসে বসে আছি।

এ ব্যাপারে কড়ইতলী কে এ আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ী প্রদান মাওলানা আলাউদ্দিন বলেন এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করে নাই এমনকি মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে কেউ মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে মোবাইল ব্যবহার করতে পারেনা এবং কোথাও যেতে পারে না । হয়তোবা তারা বাড়ি থেকে মাদ্রাসার নাম বলে এসে বিভিন্ন জায়গায় আড্ডা দিচ্ছে।
আমরা মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করাবো।
শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার প্রথম কারণ মোবাইল আসক্তি পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বাসা বেধেছে নতুন এক উপদ্রব মোবাইল ফোন আসক্তি। এ যন্ত্রটি এমন একটি নেশা যার কারণে খুন হতে হচ্ছে। গড়ে উঠেছে পাড়া মহল্লা ও বিভিন্ন জায়গায় কিশোরগাংও। পারিবারিক কলহত বেড়েই চলছে এ মোবাইল আসক্তির কারণে ।গত কয়েক বছরে স্কুল কলেজের তরুণ তরুণীরা চরম মানসিক অস্থিরতায় ভুগছে।

আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মোবাইল আসক্তির কটুচক্রে আবদ্ধ হয়ে বেমালুম, ভুলে যায় নিজের ভবিষ্যৎ জীবনের সোনালী স্বপ্নের কথা ।ফেসবুক ইউটিউব কিংবা টুইটারের করাল চক্রে তারা আটকে ফেলে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন ।তারাএই আসক্তির মোহ ভাঙ্গার পথ খুঁজে পায় না। হারিয়ে ফেলে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।

ফেসবুকে কলেজ বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাট, পাড়ার বন্ধু-বান্ধবের গ্রুপ চ্যাট, কিংবা ফ্যামিলি মেম্বারদের গ্রুপ চ্যাট। যেনো ফেসবুকে একবার ঢুকলে গ্রুপ চ্যাটের আড্ডা থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ ধরনের আসক্তির জন্য অভিভাবকদের রয়েছে অন্যতম ভূমিকা। ছেলেমেয়েদের আবদার এবং বায়না ধরার ফলে অভিভাবকরা অতি উৎসাহী হয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার মানটাকে শক্তিশালী করার জন্য তথ্যপ্রযুক্তির দোহাই দিয়ে প্রযুক্তিগত উন্নতি যাতে করতে পারে সে আশাতেই অভিভাবকরা না বুঝেই তুলে দেন নেশা ও নারীর চেয়েও বেশি শক্তিশালী আসক্তির এ উপকরণ মোবাইল।

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে যৌথ পরিবার কাঠামো ভেঙে একক পরিবার তৈরি হওয়ার কারণে আরো বেশি পরিমাণে ছেলেমেয়েরা এই মোবাইলের প্রতিও আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন গবেষকরা। মোবাইল আসক্তির ভয়াবহ এ প্রবণতায় বিশেষ করে উঠতি বয়সি ছেলেমেয়েরা বর্তমান পরিস্থিতিতে এক বিরাট সংকটকাল অতিক্রম করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

ফরিদগঞ্জে মোবাইল আসক্তিতে শিক্ষার্থীরা গাছের ডালে

আপডেট : ০৮:২০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অগাস্ট ২০২৩

 

 

ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা মিলছে স্কুল কলেজ বা মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অভিভাবক ও শিক্ষকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গাছের মগ ডালে বসে মোবাইল ফোনে আসক্ত।

উপজেলার উপাধিকে গ্রামের কড়ইতলী কে এ আলিম মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ওই এলাকার রাস্তার পাশের একটি আম গাছের মগডালে বসে মোবাইলে গেমস খেলতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলে আমরা কড়ইতলী কে এ আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আজকে মাদ্রাসায় যায়নি তাই এখানে এসে বসে আছি।

এ ব্যাপারে কড়ইতলী কে এ আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ী প্রদান মাওলানা আলাউদ্দিন বলেন এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করে নাই এমনকি মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে কেউ মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে মোবাইল ব্যবহার করতে পারেনা এবং কোথাও যেতে পারে না । হয়তোবা তারা বাড়ি থেকে মাদ্রাসার নাম বলে এসে বিভিন্ন জায়গায় আড্ডা দিচ্ছে।
আমরা মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করাবো।
শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার প্রথম কারণ মোবাইল আসক্তি পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বাসা বেধেছে নতুন এক উপদ্রব মোবাইল ফোন আসক্তি। এ যন্ত্রটি এমন একটি নেশা যার কারণে খুন হতে হচ্ছে। গড়ে উঠেছে পাড়া মহল্লা ও বিভিন্ন জায়গায় কিশোরগাংও। পারিবারিক কলহত বেড়েই চলছে এ মোবাইল আসক্তির কারণে ।গত কয়েক বছরে স্কুল কলেজের তরুণ তরুণীরা চরম মানসিক অস্থিরতায় ভুগছে।

আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মোবাইল আসক্তির কটুচক্রে আবদ্ধ হয়ে বেমালুম, ভুলে যায় নিজের ভবিষ্যৎ জীবনের সোনালী স্বপ্নের কথা ।ফেসবুক ইউটিউব কিংবা টুইটারের করাল চক্রে তারা আটকে ফেলে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন ।তারাএই আসক্তির মোহ ভাঙ্গার পথ খুঁজে পায় না। হারিয়ে ফেলে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।

ফেসবুকে কলেজ বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাট, পাড়ার বন্ধু-বান্ধবের গ্রুপ চ্যাট, কিংবা ফ্যামিলি মেম্বারদের গ্রুপ চ্যাট। যেনো ফেসবুকে একবার ঢুকলে গ্রুপ চ্যাটের আড্ডা থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ ধরনের আসক্তির জন্য অভিভাবকদের রয়েছে অন্যতম ভূমিকা। ছেলেমেয়েদের আবদার এবং বায়না ধরার ফলে অভিভাবকরা অতি উৎসাহী হয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার মানটাকে শক্তিশালী করার জন্য তথ্যপ্রযুক্তির দোহাই দিয়ে প্রযুক্তিগত উন্নতি যাতে করতে পারে সে আশাতেই অভিভাবকরা না বুঝেই তুলে দেন নেশা ও নারীর চেয়েও বেশি শক্তিশালী আসক্তির এ উপকরণ মোবাইল।

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে যৌথ পরিবার কাঠামো ভেঙে একক পরিবার তৈরি হওয়ার কারণে আরো বেশি পরিমাণে ছেলেমেয়েরা এই মোবাইলের প্রতিও আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন গবেষকরা। মোবাইল আসক্তির ভয়াবহ এ প্রবণতায় বিশেষ করে উঠতি বয়সি ছেলেমেয়েরা বর্তমান পরিস্থিতিতে এক বিরাট সংকটকাল অতিক্রম করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে