ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা চলবে আগামী তিন বছর’ – Rknews71

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৯:৪১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মে ২০২২
  • 151

অনলাইন ডেস্ক :

ইউরোপে চলমান সংকটের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ধাক্কা বিশ্ববাসীকে আগামী তিন বছর বয়ে বেড়াতে হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বৈশ্বিক অর্থনীতি ১৯৭০-এর দশকের মতো উচ্চমুদ্রাস্ফীতি ও দুর্বল প্রবৃদ্ধির দিকে ধাবিত হওয়ার ভীতি জোরালো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) মধ্যরাতে ওয়াশিংটন থেকে এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাজারগুলোতে পণ্য পৌঁছাতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কার সম্মুখীন হচ্ছে দাবি করে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের পরিচালক আয়হান কোস বলেন, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে একটি উল্লেখযোগ্য মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। এটি সম্ভবত দারিদ্র্য কমানোর অগ্রগতিকে স্থবির করবে। উচ্চদ্রব্যমূল্য ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধিক দামের প্রবণতা ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ চলতে পারে। আর এর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতিও অব্যাহত থাকতে পারে। ব্যাংকটির সবশেষ পণ্যবাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিগত দুই বছর ধরে ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর জ্বালানির মূল্য সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। আর একই সময়ে খাবার ও সারের দাম বেড়েছে ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বেশি। খাবার ও জ্বালানির দাম বর্তমান পর্যায় থেকে কমতে শুরু করলেও বিশ্বব্যাংকের ধারণা, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ এগুলোর গড়মূল্য বিগত পাঁচ বছরের তুলনায় বেশি থাকবে।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের জেরে বাণিজ্য ও উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় এ বছর জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করছে বিশ্বব্যাংক। তারা বলছে, অপরিশোধিত জ্বালানির গড়দাম ২০২২ সালে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে দাঁড়াবে। ২০১৩ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ এবং ২০২১ সালের তুলনায় এই দাম ৪০ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালে এই দাম ৯২ ডলারে নামতে পারে। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরের এর গড়দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার। অর্থাৎ ২০২৩ সালে দাম কমলেও তা হবে গত পাঁচ বছরের দামের চেয়ে ঢের বেশি।

ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম ২০২২ সালের দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর কয়লার দাম বাড়বে ৮০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের ধারণা, এ বছর গমের দাম বাড়বে ৪০ শতাংশের বেশি। এতে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম আমদানির ওপর নির্ভরশীল উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা চলবে আগামী তিন বছর’ – Rknews71

আপডেট : ০৯:৪১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মে ২০২২

অনলাইন ডেস্ক :

ইউরোপে চলমান সংকটের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ধাক্কা বিশ্ববাসীকে আগামী তিন বছর বয়ে বেড়াতে হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বৈশ্বিক অর্থনীতি ১৯৭০-এর দশকের মতো উচ্চমুদ্রাস্ফীতি ও দুর্বল প্রবৃদ্ধির দিকে ধাবিত হওয়ার ভীতি জোরালো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) মধ্যরাতে ওয়াশিংটন থেকে এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাজারগুলোতে পণ্য পৌঁছাতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কার সম্মুখীন হচ্ছে দাবি করে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের পরিচালক আয়হান কোস বলেন, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে একটি উল্লেখযোগ্য মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। এটি সম্ভবত দারিদ্র্য কমানোর অগ্রগতিকে স্থবির করবে। উচ্চদ্রব্যমূল্য ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধিক দামের প্রবণতা ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ চলতে পারে। আর এর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতিও অব্যাহত থাকতে পারে। ব্যাংকটির সবশেষ পণ্যবাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিগত দুই বছর ধরে ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর জ্বালানির মূল্য সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। আর একই সময়ে খাবার ও সারের দাম বেড়েছে ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বেশি। খাবার ও জ্বালানির দাম বর্তমান পর্যায় থেকে কমতে শুরু করলেও বিশ্বব্যাংকের ধারণা, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ এগুলোর গড়মূল্য বিগত পাঁচ বছরের তুলনায় বেশি থাকবে।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের জেরে বাণিজ্য ও উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় এ বছর জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করছে বিশ্বব্যাংক। তারা বলছে, অপরিশোধিত জ্বালানির গড়দাম ২০২২ সালে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে দাঁড়াবে। ২০১৩ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ এবং ২০২১ সালের তুলনায় এই দাম ৪০ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালে এই দাম ৯২ ডলারে নামতে পারে। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরের এর গড়দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার। অর্থাৎ ২০২৩ সালে দাম কমলেও তা হবে গত পাঁচ বছরের দামের চেয়ে ঢের বেশি।

ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম ২০২২ সালের দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর কয়লার দাম বাড়বে ৮০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের ধারণা, এ বছর গমের দাম বাড়বে ৪০ শতাংশের বেশি। এতে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম আমদানির ওপর নির্ভরশীল উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে।