মারা যাওয়া সাড়ে চার বছর বয়সি শিশু মো. শাকিল হোসেন হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের হাড়িয়াইন গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে, অপর মারা যাওয়া তিন বছর বয়সি শিশু মো. মেহরাজ হোসেন একই ইউনিয়নের পাতানিশ গ্রামের মো. মনির হোসেনের ছেলে। শুক্রবার দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
এদিকে শনিবার দুপুরে কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব সাকছিপাড়া আরনগাজী বেপারী বাড়ির শরীফের ছোট ছেলে বিলের (কৃষি মাঠ) পানিতে ডুবে মারা যায়। মারা যাওয়া শিশুটির নাম জানা যায়নি। তার বয়স সাড়ে তিন বছর। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য। এ নিয়ে দুই দিনের মধ্যে ৩ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার নিজ বাড়ির উঠানেই খেলাধূলা করছিলো শিশু মেহরাজ হোসেন। এরপর কিছুক্ষন সময় তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও বাড়ির লোকজন খুঁজতে বের হয়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শিশুটিকে বাড়ির পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হয়।
পরে পরিবারের লোকজন হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে শিশু মেহরাজ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, খেলাধূলার এক ফাঁকে শিশুটি সবার অগোচরে নিজ বাড়ির পুকুরে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
একই দিন দুপুরের খাবার খেয়ে শিশু শাকিল হোসেন খেলাধূলার উদ্দেশ্যে নিজ বসতঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে পরিবার ও বাড়ির লোকজন তাকে খুঁজতে বের হয়। এক পর্যায়ে শিশুটিকে পুকুরের পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে শনিবার সকালে কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব সাকছিপাড়া আরনগাজী বেপারী বাড়ির শরীফের ছোট ছেলে নিজ বাড়িতেই খেলাধূলা করছিলো। এরপর বেশ কয়েকঘন্টা তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খুঁজতে বের হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শিশুটিকে বাড়ির পাশে বিল থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট (মঙ্গলবার) সকালে উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের গৌড়েশ্বর গ্রামের বেপারী বাড়ির মো. শরিফুল ইসলামের দুই বছর বয়সি ছেলে মাহাদি হাসান এবং ২১ আগস্ট (বুধবার) দুপুরে বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের কুড়ুলি গ্রামের মসজিদ বাড়ির আব্দুল কুদ্দুসের দুই বছর বয়সি শিশু জান্নাত পানিতে ডুবে মারা যায়।
নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মাওলা নঈম জানান, শুক্রবার শাকিল হোসেন ও মেহরাজ হোসেন নামের দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। অর্থ্যাৎ হাসপাতালে আনার পূর্বেই এ দুই শিশু মারা গেছে।
তিনি বলেন, বর্ষাকাল চারদিকে পানি আর পানি। তাই, যেসব পরিবারের ছোট ও সাঁতার না জানা শিশু আছে, সেসব পরিবারের লোকজনকে আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। এর আগে মাহাদী হাসান ও জান্নাতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।




















