ঢাকা ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে জোড়া খুনের চার মাসেও উন্মোচিত হয়নি রহস্য: অন্ধকারে পুলিশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১১:১৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪
  • 19

হাজীগঞ্জে দাদি-নাতির নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনার চার মাস পেরিয়ে গেলেও রহস্যের সমাধান করতে পারেনি পুলিশ। গত ২৭ মে রাতে হাজীগঞ্জ উপজেলার রাধাসার গ্রামে হামিদুন্নেছা (৭০) এবং তার নাতি আরাফাত হোসেন (১২) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন হামিদুন্নেছার আরেক নাতনি হালিমা আক্তার (১৫), যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যদিও তার শারীরিক অবস্থা এখন উন্নতির দিকে। এই ঘটনায় পরপরই হাজীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন নিহত আরাফাত হোসেনের মা সাহিনা আক্তার।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ও পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হত্যার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের একাধিক দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় কাজ করছে। এরপর র‍্যাব-১১ এর একটি টিম ঘটনার পাঁচ দিনের মধ্যে আলম (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে, যিনি নিহত হামিদুন্নেছার আরেক নাতনির দেবর। পুলিশের ধারণা ছিল, নাতনির দ্বিতীয় বিয়ে এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে আলম এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও রিমান্ডে নেওয়ার পরেও পুলিশ তার কাছ থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করতে পারেনি। ফলে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনও উন্মোচিত হয়নি। অধরাই রয়ে গেছে আসামিরা।

পুলিশ তিনটি সম্ভাব্য কারণ ধরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে—ইভটিজিং, পরকীয়া এবং নাতনির তৃতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ। ইভটিজিংয়ের সম্ভাবনা তদন্ত করে কিছু ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, কিন্তু সেখান থেকে কোনো কার্যকর তথ্য মেলেনি। একইভাবে, পারিবারিক দ্বন্দ্বে আলমকে আটক করেও তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ সম্পর্কে কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও, পুলিশ আশেপাশের এলাকার মাদকাসক্ত ও অপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, কিন্তু সেখান থেকেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মেলেনি। বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত চালানোর পরেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর চার মাস অতিক্রান্ত হলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি, যা জনমনে হতাশা সৃষ্টি করেছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে আলমকে গ্রেপ্তার করলেও, সঠিক প্রমাণ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অভাবে তাকে দোষী প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের ধীরগতি এবং সঠিক পথের অভাবই পুলিশের ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেছেন, “আমি মাত্রই এখানে যোগদান করেছি। পর্যায়ক্রমে সকল মামলা নিয়ে কাজ করব। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনব।” তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের এই ধরনের প্রতিশ্রুতিও জনমনে স্বস্তি এনে দিতে পারছে না।

স্থানীয় মানুষজন ও ভুক্তভোগী পরিবার মনে করেন, পুলিশের ব্যর্থতা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের অভাবই এখন পর্যন্ত প্রকৃত অপরাধীদের ধরা না পড়ার প্রধান কারণ। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে না পারায় পুলিশের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে জোড়া খুনের চার মাসেও উন্মোচিত হয়নি রহস্য: অন্ধকারে পুলিশ

আপডেট : ১১:১৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪

হাজীগঞ্জে দাদি-নাতির নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনার চার মাস পেরিয়ে গেলেও রহস্যের সমাধান করতে পারেনি পুলিশ। গত ২৭ মে রাতে হাজীগঞ্জ উপজেলার রাধাসার গ্রামে হামিদুন্নেছা (৭০) এবং তার নাতি আরাফাত হোসেন (১২) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন হামিদুন্নেছার আরেক নাতনি হালিমা আক্তার (১৫), যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যদিও তার শারীরিক অবস্থা এখন উন্নতির দিকে। এই ঘটনায় পরপরই হাজীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন নিহত আরাফাত হোসেনের মা সাহিনা আক্তার।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ও পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হত্যার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের একাধিক দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় কাজ করছে। এরপর র‍্যাব-১১ এর একটি টিম ঘটনার পাঁচ দিনের মধ্যে আলম (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে, যিনি নিহত হামিদুন্নেছার আরেক নাতনির দেবর। পুলিশের ধারণা ছিল, নাতনির দ্বিতীয় বিয়ে এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে আলম এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও রিমান্ডে নেওয়ার পরেও পুলিশ তার কাছ থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করতে পারেনি। ফলে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনও উন্মোচিত হয়নি। অধরাই রয়ে গেছে আসামিরা।

পুলিশ তিনটি সম্ভাব্য কারণ ধরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে—ইভটিজিং, পরকীয়া এবং নাতনির তৃতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ। ইভটিজিংয়ের সম্ভাবনা তদন্ত করে কিছু ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, কিন্তু সেখান থেকে কোনো কার্যকর তথ্য মেলেনি। একইভাবে, পারিবারিক দ্বন্দ্বে আলমকে আটক করেও তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ সম্পর্কে কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও, পুলিশ আশেপাশের এলাকার মাদকাসক্ত ও অপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, কিন্তু সেখান থেকেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মেলেনি। বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত চালানোর পরেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর চার মাস অতিক্রান্ত হলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি, যা জনমনে হতাশা সৃষ্টি করেছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে আলমকে গ্রেপ্তার করলেও, সঠিক প্রমাণ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অভাবে তাকে দোষী প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের ধীরগতি এবং সঠিক পথের অভাবই পুলিশের ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেছেন, “আমি মাত্রই এখানে যোগদান করেছি। পর্যায়ক্রমে সকল মামলা নিয়ে কাজ করব। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনব।” তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের এই ধরনের প্রতিশ্রুতিও জনমনে স্বস্তি এনে দিতে পারছে না।

স্থানীয় মানুষজন ও ভুক্তভোগী পরিবার মনে করেন, পুলিশের ব্যর্থতা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের অভাবই এখন পর্যন্ত প্রকৃত অপরাধীদের ধরা না পড়ার প্রধান কারণ। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে না পারায় পুলিশের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।