ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে গ্রেপ্তার আতঙ্ক: পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নেতা-কর্মীরা

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১০:০২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অক্টোবর ২০২৪
  • 32

হাজীগঞ্জে গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেক নেতাকর্মী ঘরে ঘুমাচ্ছেন না। অনেকে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকে হাজীগঞ্জের আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিতে শুরু করেন। কিছুদিন পর কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে এলেও, সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার অভিযানের ফলে আবারও তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের অভিযান জোরদার করেছে, যার ফলে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতারা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ২ অক্টোবর র‍্যাব-১১ এর অভিযানে হাজীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন মুক্তার গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নেতা ভয়ে রাত কাটাচ্ছেন দূরবর্তী স্থানে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, গত ১৫ বছরে যারা দলের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করা উচিত। কিন্তু যারা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের যেন গ্রেপ্তার না করা হয়। বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে আছেন, কারণ কখন কাকে আটক করা হবে, তা বোঝা যাচ্ছে না।

এদিকে, গত ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে হাজীগঞ্জ বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের জেরে উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

২০ সেপ্টেম্বর রাতে সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে, নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সাইমন (১৬) কে নির্মমভাবে কুপিয়ে আহত করা হয়, যা পরবর্তীতে তার মৃত্যুর কারণ হয়। এ ঘটনায় তার মামা সাইফুল ইসলাম অজ্ঞাত ৪০০ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরদিন টোরাগড় গ্রামের পারভেজের স্ত্রী তুহিন বেগমও অজ্ঞাত ৪০০ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিক অভিযান পরিচালনা করে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। গত মাসে বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীরাই এ অভিযানের লক্ষ্যবস্তু।

সর্বশেষ, ৩ অক্টোবর চট্টগ্রামে র‍্যাব-৭ এর অভিযানে সাইমন হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি, হাজীগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন গ্রেপ্তার হন।

হাজীগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানের ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিছু নেতার পরিবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জানা গেছে, বেশিরভাগ নেতাই দূরবর্তী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং অধিকাংশ সময় আত্মগোপনে থাকছেন।

হাজীগঞ্জের সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্কে পুরো এলাকাজুড়ে ভীতি এবং অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সাধারণ মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা করছে, তবে চলমান পরিস্থিতিতে তা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, “যারা প্রকৃত আসামি এবং অপকর্মের সাথে জড়িত, শুধু তাদেরই আটক করা হবে। যারা অপরাধের সাথে যুক্ত নয়, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে গ্রেপ্তার আতঙ্ক: পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নেতা-কর্মীরা

আপডেট : ১০:০২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অক্টোবর ২০২৪

হাজীগঞ্জে গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেক নেতাকর্মী ঘরে ঘুমাচ্ছেন না। অনেকে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকে হাজীগঞ্জের আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিতে শুরু করেন। কিছুদিন পর কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে এলেও, সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার অভিযানের ফলে আবারও তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের অভিযান জোরদার করেছে, যার ফলে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতারা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ২ অক্টোবর র‍্যাব-১১ এর অভিযানে হাজীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন মুক্তার গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নেতা ভয়ে রাত কাটাচ্ছেন দূরবর্তী স্থানে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, গত ১৫ বছরে যারা দলের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করা উচিত। কিন্তু যারা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের যেন গ্রেপ্তার না করা হয়। বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে আছেন, কারণ কখন কাকে আটক করা হবে, তা বোঝা যাচ্ছে না।

এদিকে, গত ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে হাজীগঞ্জ বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের জেরে উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

২০ সেপ্টেম্বর রাতে সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে, নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সাইমন (১৬) কে নির্মমভাবে কুপিয়ে আহত করা হয়, যা পরবর্তীতে তার মৃত্যুর কারণ হয়। এ ঘটনায় তার মামা সাইফুল ইসলাম অজ্ঞাত ৪০০ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরদিন টোরাগড় গ্রামের পারভেজের স্ত্রী তুহিন বেগমও অজ্ঞাত ৪০০ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিক অভিযান পরিচালনা করে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। গত মাসে বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীরাই এ অভিযানের লক্ষ্যবস্তু।

সর্বশেষ, ৩ অক্টোবর চট্টগ্রামে র‍্যাব-৭ এর অভিযানে সাইমন হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি, হাজীগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন গ্রেপ্তার হন।

হাজীগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানের ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিছু নেতার পরিবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জানা গেছে, বেশিরভাগ নেতাই দূরবর্তী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং অধিকাংশ সময় আত্মগোপনে থাকছেন।

হাজীগঞ্জের সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্কে পুরো এলাকাজুড়ে ভীতি এবং অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সাধারণ মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা করছে, তবে চলমান পরিস্থিতিতে তা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, “যারা প্রকৃত আসামি এবং অপকর্মের সাথে জড়িত, শুধু তাদেরই আটক করা হবে। যারা অপরাধের সাথে যুক্ত নয়, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”